বুধবার, ২৬-সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১:১৭ পূর্বাহ্ন
  • প্রশাসন
  • »
  • সীমান্ত হত্যা শূন্যের দিকেই যাচ্ছে: বিজিবি প্রধান

সীমান্ত হত্যা শূন্যের দিকেই যাচ্ছে: বিজিবি প্রধান

Shershanews24.com

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০৩:৪১ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ, ঢাকা: বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফের ‍গুলিতে বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনা শূন্যে নামিয়ে আনার ঘোষণায় অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি।
বাহিনীটির প্রধান মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে সীমান্তে গুলিতে এক জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছে। আগের বছরও যা ছিল ২২ জন।
আজ সোমবার সকালে পিলখানায় বিজিবির সদরদপ্তরে ব্রিফিং করেন বাহিনীটির মহাপরিচালক। এ সময় তিনি এসব কথা বলেন।
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি হত্যার বিষয়টি বরাবর আলোচিত বিষয়। ২০০১ সাল থেকে গত তিনটি সরকারের আমলেই সীমান্তে এক হাজার ৭৫ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে। ওই সরকারের শাসনামলে পাঁচ বছরে এই সংখ্যাটি ছিল ৫৬৪। অর্থাৎ প্রতি বছর গড়ে ১১৩ জন করে বাংলাদেশি হত্যা হয়েছে।
এর মধ্যে ২০০১ সালে ৯৪ জন, ২০০২ সালে ১০৫ জন, ২০০৩ সালে ৪৩ জন, ২০০৪ সালে ৭১ জন, ২০০৫ সালে ১০৪ জন এবং ২০০৬ সালে ১৪৬ জন বাংলাদেশি নিহত হয়।
সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের দুই বছরে নিহত হয় আরও ১৮২ জন বাংলাদেশি। এর মধ্যে ২০০৮ সালে ৬২ জন এবং ২০০৭ সালে ১২০ জন নিহত হয়। অর্থাৎ ওই আমলে প্রতি বছরে গড়ে প্রাণ হারিয়েছে ৯১ জন করে।
আর বর্তমান সরকারের আমলে ১০ বছরে এখন পর্যন্ত প্রাণহানির তথ্য মিলেছে ৪০০ জন। অর্থাৎ বছরে ৪০ জন করে। তবে গত কয়েক বছর ধরে এই সংখ্যাটি ধারাবাহিকভাবে কমছে।
মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাবে ২০১৭ সালে সীমান্তে প্রাণ হারায় ২২ জন বাংলাদেশি। ২০১৬ সালে প্রাণ হারায় আরও ৩১ জন। ২০১৫ সালে এই সংখ্যাটি ছিল ৪৫ আর আগের বছর ৩৩।
আরেক মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ এর হিসাবে, ২০১৩ সালে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহতের সংখ্যা ছিল ২৯ জন। ২০১২ সালে ৩৮ জন আর ২০১১ সালে ৩১ জন। ২০১০ সালে এই সংখ্যা ছিল ৭৪ জন, আর ২০০৯ সালে ৯৬ জন।
বর্তমান সরকারের আমলেই দুই দেশের সরকার এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনী এই বিষয়টি উদ্যোগী হয় আর এই হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার ঘোষণাও দেয়া হয় একাধিকবার।
চলতি বছর জুলাইয়ে রাজশাহী সীমান্তের কাছে গুলিতে নিহত তিন জনকে প্রথমে বাংলাদেশি ভাবা হলেও পরে জানা যায় তারা ভারতীয়।
গত ৩ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর বিজিবি-বিএসএফ সম্মেলনের কথা তুলে ধরে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, ‘চলতি বছর বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে মাত্র এক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এটি শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সাথে সীমান্ত সম্মেলনে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।’
শীর্ষনিউজ/এম