বুধবার, ০৮-এপ্রিল ২০২০, ০৮:১১ অপরাহ্ন
  • প্রশাসন
  • »
  • ৭ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারি কল্যাণ ফেডারেশনের সংবাদ সম্মেলন 

৭ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারি কল্যাণ ফেডারেশনের সংবাদ সম্মেলন 

shershanews24.com

প্রকাশ : ১৩ মার্চ, ২০২০ ০৬:১৪ অপরাহ্ন

 

শীর্ষনিউজ, ঢাকা : প্রজাতন্ত্রের কর্মচারিদের সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি কল্যাণ ফেডারেশন। 

আজ সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত প্রজাতন্ত্রের কর্মচারি ও ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী পরিষদের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। 

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মোঃ ওয়ারেছ আলী। সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য কর্মসূচি ঘোষণাসহ সংবাদ সম্মেলনের লিখিতবক্তব্য পেশ করেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক খায়ের আহ্মেদ মজুমদার।

উত্থাপিত দাবিগুলো হচ্ছে- 
দ্রব্যমূল্যর লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে কর্মচারি প্রতিনিধির সমন্বয়ে স্থায়ী পে-কমিশন গঠন পূর্বক অনতিবিলম্বে ১৯৭৩ সালের বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ৯ (নবম) পে-স্কেল প্রদান করতে হবে। নবম পে স্কেলে সর্বনি¤œ বেতন স্কেল ২৫,০০০/- (পঁচিশ) হাজার টাকা ও সর্বোচ্চ ১,২৫,০০০/- (এক লাখ পঁচিশ)  হাজার টাকায় উন্নীত করতে হবে।

১০.-২০  গ্রেড পর্যন্ত বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার ৫ শতাংশের পরিবর্তে ২০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। এক গ্রেড থেকে অপর গ্রেডে পার্থক্য ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করতে হবে। পূর্বের ন্যায় টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড এবং বেতন সমতা প্রথা চালু করতে হবে। 

স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারিদের বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষ্যে সচিবালয়ের ন্যায় সমান পদমর্যাদা নির্ধারণকল্পে সচিবালয়ের বাহিরে সকল দপ্তরের এক ও অভিন্ন নিয়োগবিধি প্রণয়ন করতে হবে। 

পেনশন গ্রাচুইটির হার ৯০ থেকে ১০০ ভাগ পেনশন গ্রাচুইটির হার ১ঃ৩৫০/- টাকা হারে প্রদান করতে হবে। মেডিকেল ভাতা ১৫০০/- টাকার পরিবর্তে ৬০০০/- টাকা, শিক্ষা ভাতা ৫০০/- টাকার পরিবর্তে জনপ্রতি ২০০০টাকা, টিফিন ভাতা ২০০ টাকার পরিবর্তে ৩০০০ টাকা, যাতায়ত ভাতা ৩০০ টাকার পরিবর্তে ৫০০০/-সহ অন্যান্য ভাতা বৃদ্ধি করতে হবে। 

বর্তমানে ল্যম্পগ্রান্ট ১৮ মাসের মূলবেতনের সমপরিমান আর্থিক সুবিধা বহাল রেখে অতিরিক্ত অর্জিত ছুটির বিপরীতে মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ লাম্পগ্রান্ট হিসেবে প্রদান করতে হবে। 
১১-২০ গ্রেড ভুক্তদের সরকারি বিভিন্ন বাহিনীর ন্যায় সকল কর্মচারিদের জন্য রেশন প্রথা চালু করতে হবে। কোস্টাল এরিয়ায় কর্মরত সকল গ্রেডের কর্মচারিদের ঝুঁকি ভাতা দিতে হবে। 

২০১৫ সালে প্রদানকৃত ৮ম পে-স্কেল ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হতে জারিকৃত আদেশে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারিদের পদ নামের পরিবর্তে গ্রেডে পরিচয়ের আদেশ অনতিবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং সকল গ্রেডের কর্মচারিদের গাড়ি ঋণের সমসুযোগ দিতে হবে।

উন্নয়ন খাতের কর্মচারিদের যোগদানের তারিখ থেকে জ্যেষ্ঠতা প্রদানে হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের রায় প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মচারিদের জন্য দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। 

সিনিয়র সচিব ও সচিব পদে কর্মরতদের বাবুর্চি ও নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগ ছাড়াই প্রতি মাসে তাঁদের নিজ বেতনের চেকের সাথে প্রদেয় ১৬০০০/-+১৬০০০/-= ৩২০০০/- টাকা প্রদান না করে বেকারত্বের বিষয় বিবেচনা করে ২ (দুই) জন কর্মচারি নিয়োগ দিয়ে তাঁদের সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। 
রাষ্টের দাপ্তরিক কার্যক্রমের নিরাপত্তা ও গোপণীয়তার স্বার্থে আউট সোসিং পদ্ধতিতে নিয়োগ প্রথা বাতিল করতে হবে। ইতোমধ্যে আউট সোসিং পদ্ধতিতে নিয়োগকৃত প্রাথমিক শিক্ষার ৩৭ হাজার দপ্তরি কাম প্রহরি, এল জি ইডির ৩৮২৩ সহ অন্যান্য সকল দপ্তরের কর্মচারিদের রাজস্বখাতে স্থানাস্তর করতে হবে। 
 
কর্মরত অবস্থায় মারা গেলে ৮ (আট) লাখ টাকার পরিবর্তে ১৫ (পনের) লাখ টাকায় উন্নীত করতে হবে এবং দুর্ঘটনায় মারা গেলে ৩০ (ত্রিশ) লাখ টাকা প্রদান করতে হবে।
 
সিনিয়র স্টাফনার্সদের ন্যায় অন্যান্য সকল ডিপ্লোমাধারী ও বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত পদধারীদের সমমান বেতন স্কেল ও গ্রেড প্রদান করতে হবে। 

প্রাথমিক শিক্ষা, বাংলাদেশ রেলওয়ের ন্যায় অন্যন্যা সকল দপ্তরের সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে পোষ্য কোটা ৩০ শতাংশ সংরক্ষণ করতে হবে। প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মচারীদের পোষ্যদের সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে ১০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ রাখতে হবে।

এলজিইডি, গণপূর্ত, সমাজসেবা অধিদপ্তর, পরমাণূ শক্তি কমিশন, আবহাওয়া অধিদপ্তর, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরসহ অন্যান্য সকল দপ্তর ও অধিদপ্তরে কর্মরত মাস্টাররোল, ওয়ার্কচার্জ, কন্টিজেন্সিসহ সকল উন্নয়ন খাতের কর্মচারিদেরকে অনতিবিলম্বে রাজস্ব খাতে স্থানাস্তর করতে হবে। 

সকল পেশাজীবি সংগঠনের স্থায়ী কার্যালয়ের ন্যায় বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি কল্যাণ ফেডারেশনের স্থায়ী কার্যালয় স্থাপনের জন্য ঢাকাস্থ শেরেবাংলা নগরে জায়গা বরাদ্দ দিতে হবে। 

বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক স্বীকৃত আইএলও কনভেনশন মোতাবেক কর্মচারীদের স¦ স¦ দপ্তরে ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার দিতে হবে। ঢাকাস্থ  সরকারি কর্মচারি হাসপাতালকে মেডিক্যাল কলেজে রূপান্তর করতে হবে এবং দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরেও সরকারি কর্মচারি হাসপাতাল স্থাপন করতে হবে। 

সংবাদ সম্মেলসে জানানো হয়, উল্লেখিত দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামী ৩০ এপ্রিল মধ্যে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে প্রতিনিধি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। 
শীর্ষনিউজ/বিজ্ঞপ্তি/এসএসআই