মঙ্গলবার, ২৪-নভেম্বর ২০২০, ১১:২২ অপরাহ্ন

বিএনপি শুভানুধ্যায়ীদের আজকের প্রত্যাশা

shershanews24.com

প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর, ২০২০ ০১:২৫ অপরাহ্ন

ড. আবদুল লতিফ মাসুম: যেকোনো দেশে রাজনৈতিক দলের মোটাদাগের বিভাজন দু’ধরনের- ক্ষমতা আশ্রয়ী ও আদর্শ আশ্রয়ী। প্রথমটির লক্ষ্য সাময়িক। অপরটির লক্ষ্য স্থায়ী। ‘জাতীয়তাবাদীদের সাধারণ বৈশিষ্ট্য এই যে, তারা নিজেদেরই জাতি মনে করে এবং তাদের হাতে ক্ষমতা আসাকেই জাতির মুক্তি বলে ধরে নেয়। অন্যদিকে জনমুক্তির পথ ছিল একটাই। সেটি হলো সমাজব্যবস্থার বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটানো।’ (সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী : ২০১৬ : ৬৩২) জাতীয়তাবাদী শক্তির সংজ্ঞা অনুযায়ী আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমপর্যায়ভুক্ত। মার্কসবাদের সাধারণ তত্ত্ব অনুযায়ী, জাতীয়তাবাদী শক্তি দুই ভাগে বিভক্ত। একটি হলো- লুম্পেন বুর্জোয়াজি। বাংলায় একে বলা যায় ‘লুটেরা পুঁজিবাদী’। বিভিন্ন দেশে এদের চরিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, স্বাধীনতা অর্জনকে তারা ক্ষমতা ও লুটপাটের সুযোগ মনে করে। তারা ব্যক্তিগত ও দলীয় ক্ষমতায়ন ও সম্পদ আহরণকে ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত লক্ষ্য বানিয়ে নেয়। তারা মনে করে ক্ষমতা ও সম্পদ হলো ভোগ-বিলাস ও দাপটের উপকরণ। সাধারণত এর সাথে যুক্ত হয় আমলাতন্ত্র। আমলাতন্ত্রকে বলা হয় মুৎসুদ্দি বা মধ্যস্বত্বভোগী সম্প্রদায়। এরা পরিশ্রম করে না। ঝুঁকি নেয় না। রাজনীতিবিদ ও জনগণের মাঝ থেকে সুবিধাটুকু লুটে নেয়। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পরপর এ রকম বৈশিষ্ট্যের প্রমাণ পাওয়া যায়। ভাবখানা ছিল এরকম যে, ‘উলট-পালট করে দে মা লুটেপুটে খাই’। এই লুম্পেন বা লুটেরা বুর্জোয়াদের একটি বৈশিষ্ট্য এই, তারা আন্তর্জাতিক পুঁজির পাহারাদার হিসেবে স্বদেশে কাজ করে। এই আন্তর্জাতিক পুঁজির ধারক-বাহকরা তাদের ক্ষমতায় থাকা ও ক্ষমতাকে অব্যাহত শোষণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ব্যাপারে আঁতাত করে। কখনো এরা অতিদেশপ্রেমের স্লোগান দেয়। আসল উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক পুঁজির বরকন্দাজ হিসেবে কাজ করা। প্রায়ই দেখা যায়, তাদের শিল্প বা প্রকল্পটি যৌথ মালিকানার। বড় বড় পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের নামে এখানে তারা নামেমাত্র বিনিয়োগ করে। আর নানাভাবে ওইসব দেশে অর্থ পাচার করে। তাদের সেকেন্ড হোম থাকে ওইসব দেশে। দেশের সম্পদ বিনিয়োগের পরিবর্তে তারা বিদেশে পাচার করে। আমোদ-প্রমোদ, বিলাস-বেসন ও ক্যাসিনো কেলেঙ্কারির মতো বিষয়াবলিতে তারা মত্ত থাকে। এরা একটি দেশপ্রেমবিবর্জিত শোষক শক্তি। এখনকার শাসকদের সাথে মিলিয়ে দেখলে কার্ল মার্কসের তত্ত্ব যে মিথ্যা নয় সে প্রমাণ উদাহরণ দিয়ে দেখানোর সম্ভবত প্রয়োজন নেই।
আরেকটি : পেট্রিয়টিক বুর্জোয়াজি। এদেরকে অনেকে জাতীয় বুর্জোয়া বা জাতীয় পুঁজিবাদী গোষ্ঠী মনে করে। বুর্জোয়া চরিত্রের শোষণ ও শাসনের পুরো চরিত্রই এদের আছে। পার্থক্য এই যে, এই শ্রেণী তাদের পুঁজি বিনিয়োগ করে দেশেই। জাতীয়ভাবে এরা বড় বড় ধরনের ধনিকশ্রেণী রূপে পরিগণিত হয়। এরা সাধারণত মুনাফা বিদেশে পাচার করে না। উৎপাদিত মুনাফা পুনঃবিনিয়োগের মাধ্যমে আরো শিল্পায়নের চেষ্টা করে। ভারতে টাটা, বিরলা, গাইকোয়ার ও গোয়িংকাদের এ ধরনের জাতীয় বুর্জোয়া বলা হয়। ভারতের কংগ্রেস সরকার জাতীয় শিল্প উন্নয়নের স্বার্থে এদের সহযোগিতা দান করে। বাংলাদেশে শহীদ জিয়াউর রহমানের হাতে এ ধরনের দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী পুঁজিপতি শ্রেণীর বিকাশ ঘটে। পুঁজিপতি শ্রেণীর সব বৈশিষ্ট্য সত্ত্বেও এরা বাংলাদেশে দেশের জাতীয় উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। ওয়ান-ইলেভেনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আবারো লুটেরা পুঁজিবাদীদের প্রত্যাবর্তন ঘটে। সেই থেকে এ পর্যন্ত তাদের লুটপাট ও চোটপাট অব্যাহত রয়েছে। আগেই বলা হয়েছে, এই লুটেরা শ্রেণী বিদেশী পুঁজিপতিদের সহযোগিতায় যেকোনো দেশে তাদের নিয়ন্ত্রণ নিরঙ্কুশ রাখে। খুব স্বাভাবিকভাবেই এদের অবস্থান থাকে গণতন্ত্রের বিপরীতে। গণতন্ত্র যদি একটি দেশের শাসনকাঠামো পরিবর্তনের মাধ্যম হয় তাহলে সে দেশে একচেটিয়া পুঁজির রাজত্ব কায়েম করা কঠিন হয়। সে কারণে ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনকে নির্বাসনে দেয়া হয়। এদেশের একজন সাধারণ নাবালকও বোঝে যে, গণতন্ত্র থাকলে ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতায় থাকা সম্ভব নয়। সে জন্য ক্ষমতাসীন দল সব রাজনৈতিক বিরোধিতাকে নির্মূল করেছে। এখন দেশ কঠিন সময় অতিক্রম করছে। এই ক্রান্তিকাল অতিক্রমের জন্য কোনো সহজ সরল স্বাভাবিক পথ ও পরিকল্পনার সুযোগ খোলা নেই। তাই সুচিন্তিত ও সুপরিকল্পিতভাবে নতুন কৌশল ও কর্মসূচিতে এগুতে হবে।
বিএনপি অসম্ভব জনপ্রিয় দল হওয়ায় একে ঘিরে মানুষের প্রত্যাশার শেষ নেই। বিএনপি একটি জাতীয়তাবাদী শক্তি এবং জাতীয় বুর্জোয়া চরিত্রের ভালো-মন্দ সবটুকুর সমাবেশ এখানে রয়েছে। দেশে অসংখ্য রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি রয়েছে। দেশে প্রকৃত দেশপ্রেমিকের কোনো ঘাটতি নেই। যারা সচেতন নাগরিক তারা বিভিন্নভাবে নিয়মতান্ত্রিক পথে থেকেই পরিবর্তনের জন্য চেষ্টা করছেন। বিচ্ছিন্নভাবে দৃশ্য এবং অদৃশ্য এ ধরনের চেষ্টার মাধ্যমে ফলাফল লাভ খুবই কঠিন। আর এটাও সত্য কথা, বিএনপির মতো বুর্জোয়া দলের মাধ্যমে শোষণমুক্ত সমাজ গঠন আপাতত সম্ভব নয়। যদিও বিএনপির ১৯ দফা কর্মসূচিতে শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার কথা আছে; কিন্তু তাদের বিস্তৃত আদর্শিক কর্মসূচি নেই। এ দেশে অসংখ্য এ রকম বিচ্ছিন্ন চেষ্টা রয়েছে। সবাই বোঝে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এখনকার সবচেয়ে বড় দাবি। তাই সুদূরপ্রসারী সমাজ বদলের কর্মসূচির পরিবর্তে গণতন্ত্র ফেরানোর চেষ্টা করতে হবে। আর যেহেতু বিএনপি দেশের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দল তার মাধ্যমেই সব চেষ্টা, সব বিনিয়োগ সফল করতে হবে। সে জন্য দরকার বিএনপির নতুন করে পথচলার কর্মসূচি।
কর্মসূচি : জনপ্রিয় গণমুখী সংগঠন হওয়ায় বিগত বছরগুলোতে বিএনপির কর্মসূচি পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া এর আগে ভিশন-২০৩০ ঘোষণা করেছেন। এর শাশ্বত কর্মসূচি হিসেবে জিয়াউর রহমান প্রণীত ১৯ দফা রয়েছে। বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সময়ের চাহিদার আলোকে ১৯ দফা কর্মসূচির পুনর্গঠন করা যেতে পারে। ১৯ দফা কর্মসূচি ঠিক রেখে আরো ছোট্ট পরিসরে এটি উপস্থাপন করা যায় কি না তা ভেবে দেখা যেতে পারে।
লক্ষ্য : প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীরা মনে করেন, বিএনপিকে বর্তমান আদর্শগত অবস্থান ঠিক রেখেই একটি স্থায়ী ও গণমুখী রাজনৈতিক লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। দেশকে জনগণের রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য স্থায়ী ও আরো প্রগতিশীল কর্মসূচি নির্ধারণ করতে হবে। বিভিন্ন সময়ে বিদেশনির্ভরতার যে বদনাম দেয়া হয় তা থেকে মুক্ত হতে হবে।
কৌশল : বিএনপি একটি মুক্তিযোদ্ধাভিত্তিক দল। এর প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর নামে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। তিনি ছিলেন জেড ফোর্সের প্রধান, সেক্টর কমান্ডার ও বীরউত্তম। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিভিন্ন অপকৌশলে বিএনপিকে স্বাধীনতাবিরোধী বলে অভিহিত করতে চায়। যদি কোনো দলের সাথে সংশ্লিষ্টতার কারণে তাদের এ বদনাম দেয়া হয় তাহলে তা সরকারি দলের ক্ষেত্রেও বর্তায়। সে কথাটি বারবার মানুষকে মনে করিয়ে দিতে হবে। বিএনপিই একমাত্র স্বাধীনতার রক্ষাকবচ। সে বিষয়টি প্রচারণার শীর্ষে নিয়ে আসতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ’৭১-এ সীমিত রাখলে চলবে না। নিয়ে যেতে হবে হাজার বছরের অতীতে। ইতিহাসের বাঁক ও পরিবর্তনে।
সংস্কার : দীর্ঘ ৫০ বছরে জাতীয় জীবনে অনেক জঞ্জাল জমেছে। শিক্ষাক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। কর্মমুখী শিক্ষা বাস্তবায়ন করতে হবে। শ্রমিকদের বেতনকাঠামো পরিবর্তন, কৃষিব্যবস্থার আধুনিকায়ন, প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিতে হবে।
জাতীয় ঐক্য : শহীদ জিয়াউর রহমান বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য নিশ্চিত করার জন্য বিএনপি গঠন করেছিলেন। ডান-বাম ও সব ধারার সব মানুষকে জাতীয় ঐক্যের লক্ষ্যে ধাবিত করেছিলেন। বিগত বছরগুলোতে জাতীয় ঐক্যের ক্ষেত্রে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করা হয়েছে। বিএনপিকে নব উদ্যমে জাতীয় ঐক্য সংহত করতে হবে।
সংগঠন : নির্মম রাজনৈতিক নিপীড়নের কারণে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো বিপর্যস্ত হয়েছে। এরপরও বিভিন্ন সময়ে সাংগঠনিক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এসব উদ্যোগ কার্যকর হয়ে ওঠেনি। একটি বড় কারণ এ রকম যে, এখনো বিএনপি নেতৃত্ব দৈর্ঘ্য-প্রস্থের দিকে তাকায়। অর্থ-বিত্তের দিকে তাকায়। চিত্তের দিকে তাকায় না। মাস্তানিকে একটি অ্যাডভান্টেজ মনে করা হয়। একসময়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল এক নেতা এক পদ। এই সঠিক সিদ্ধান্তটি বেঠিক হয়ে গেল নেতাদের অহঙ্কারে। সাংগঠনিক কাঠামোর প্রতিটি স্তর ঊর্ধ্বতন স্তরের শৃঙ্খলাধীনে থাকবে। এভাবে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করতে হবে। কারো মুখের দিকে না তাকিয়ে কর্মীদের মনের দিকে তাকাতে হবে। নিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক পন্থায় প্রতিটি স্তরে নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব বাছাই হতে হবে। এখন বিএনপির দুঃসময় চলছে। এ সময়ে যারা নেতৃত্বলোভী ভবিষ্যত সুবিধাভোগী তাদের বাদ দিয়ে দলের ত্যাগী ও নীতিবান লোকদের প্রাধান্য দিতে হবে। যারা এ সময়ে দলাদলি, মারামারি কিংবা হানাহানি করে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করতে হবে। দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো।
অভ্যন্তরীণ কোন্দল : প্রতিটি রাজনৈতিক দলেই মতভিন্নতা থাকবে। কিন্তু তার অর্থ পারস্পরিক শত্রুতা নয়। এটা দুঃখের বিষয় যে, অভ্যন্তরীণ কোন্দল অনেক সময় মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশেষ করে ছাত্রদলের নিজস্ব কোন্দলে মৃত্যুর মতো ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশের বিএনপির সম্ভবত এমন কোনো ইউনিট খুঁজে পাওয়া ভার হবে যেখানে কোন্দল নেই। জ্যেষ্ঠতা, ত্যাগ ও মেধার সমন্বয় পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে নেতৃত্ব গঠিত হলে কোন্দলের অবকাশ কম থাকে।
আন্দোলন : বিগত ১২ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, বিএনপি আন্দোলন সংগঠনের চেষ্টার কোনো ত্রুটি করেনি। প্রতিবারই সরকারি নির্মম নিপীড়ন-নির্যাতন আন্দোলনকে সফল হতে দেয়নি। বরং প্রতিবারই মৃত্যু, গুম, মামলা ও হামলা কর্মী সাধারণকে জর্জরিত করেছে। এখন দ্বিবার্ষিক বা ত্রিবার্ষিক পরিকল্পনা নিয়ে আবেগ ও উত্তেজনা পরিহার করে সম্পূর্ণ ভিন্ন কৌশলে এগোতে হবে। আন্দোলনের জন্য আর শক্তি ক্ষয় করা যাবে না। সংগঠনকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর পর সময় ও সুযোগ বুঝে আন্দোলনের কর্মসূচি দিতে হবে। এ কথার অর্থ অবশ্য এই নয় যে, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অবস্থা ও আবেদনকে বিএনপি অস্বীকার করবে।
নির্বাচন : আগামী নির্বাচনের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের যে দাবি সিভিল সোসাইটি থেকে উত্থাপিত হয়েছে তা জনপ্রিয় করার চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। আগামী নির্বাচন যে কী কায়দায় হবে অথবা আদৌ নির্বাচন হবে কি না তা বোঝা দুঃসাধ্য। সাধারণ মাথায় ক্ষমতাসীনদের বুদ্ধির মোকাবেলা সম্ভব নয়। অসাধারণ কিছুর জন্য নিজেদের তৈরি রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, ওই সব কৌশল দেশে নয় বরং বিদেশে নির্মিত হয়। বিদেশনির্ভরতার বদনাম ঘুচিয়ে বরং বিদেশের খোঁজখবর রাখতে হবে। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নিয়মতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক পথে সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।
বিএনপিকে নিয়ে শুভানুধ্যায়ীদের সুপারিশের শেষ নেই। জাতীয়তাবাদী শক্তি হিসেবে বিএনপিকে নতুন করে নতুনভাবে উপস্থাপিত হতে হবে। লুম্পেন জাতীয়তাবাদী শক্তির বিপরীতে জনগণের সত্যিকার ভাগ্য পরিবর্তনের প্রতিনিধিত্বশীল হয়ে উঠতে হবে। প্রতিটি কর্মসূচি ও কার্যক্রমের মাধ্যমে সুশাসনের প্রস্তাব ও পরিকল্পনা নিশ্চিত করতে হবে। এটি হবে দুর্নীতি, ঋণ খেলাপি ও সিন্ডিকেটমুক্ত একটি স্বচ্ছ রাজনৈতিক দল। কায়েমি স্বার্থবাদ উপেক্ষা করে জনগণের রাষ্ট্র কায়েমের জন্য সচেষ্ট হতে হবে। রাজনীতিকে শুধু ক্ষমতা আরোহণের বাহন হিসেবে দেখেন না এ দেশের অনেক প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী। এদেরই একজন শীর্ষ স্থানীয় বুদ্ধিজীবী প্রফেসর ড. আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী মনে করেন, রাজনীতি হচ্ছে ‘মিনস টু অ্যান এন্ড টু চেঞ্জ দ্য ফেট অব দ্য পিপল’। বিএনপি যদি সে লক্ষ্য অর্জনে, মানব কল্যাণে নিবেদিত হয় তাহলেই জনগণের কাছে বিএনপির গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত হবে।
লেখক : অধ্যাপক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়