মঙ্গলবার, ১৯-নভেম্বর ২০১৯, ০৫:২২ পূর্বাহ্ন

আত্মতুষ্টি নয়, আত্মশুদ্ধিই প্রয়োজন

shershanews24.com

প্রকাশ : ১৮ আগস্ট, ২০১৭ ০৭:০২ অপরাহ্ন

ইসমত পারভীন রুনু: প্রতিদিনের জীবনে অহমিকার ঘনঘটা, দম্ভের ছায়া, ব্যক্তি অহংকার, প্রতিপত্তি ক্রমশ ভুলপথের সন্ধান দিচ্ছে। সামাজিক এসব অশুভ আচরণ অন্যের মনের মধ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলছে, সর্বোপরি নিজেকে মানসিক দিক দিয়ে অনেক দুর্বল করে তুলছে। এ পরিস্থিতিতে মানুষ হিসেবে ক’জনইবা গুরুত্ব দিচ্ছেন? ভুক্তভোগীরাই তা জানেন।

অথচ সবার আগে একজন সুন্দর মনের মানুষ হওয়া খুবই জরুরি। অমানবিক, অশুভ আচরণ অন্যের মনের মধ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলে, সে সত্যিটুকু উপলব্ধি করার সময় আজ কারুর হাতে নেই। বারবার ভুল করেও নিজেকে শুদ্ধতার মাপকাঠিতেই বিচার করি আমরা। আজ সময় এসেছে প্রত্যেকের সামাজিক আচরণ শেখার, যা খুবই প্রয়োজন। কিছু কিছু অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব সমাজে আছেন বলেই হয়ত সমাজটা এখনো টিকে আছে।

সবার সাথে আন্তরিকভাবে মেলামেশার সুযোগ ও ইচ্ছা থাকলে এ সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব। মানসিক গঠন, কাজের প্রতি গভীর অনুরাগ, সৃষ্টিশীল কিছুর সাথে নিজেকে স¤পৃক্ত রাখা, অনাকাক্সিক্ষত পরিবেশ-পরিস্থিতি বর্জন, যে কোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার দক্ষতা ও মানসিকতা, সব পরিস্থিতিকে ঠিকভাবে মোকাবেলায় নিজেকে সচেষ্ট রাখতে পার¯পরিক সমঝোতার কোনো বিকল্প নেই। অহংকার দম্ভ চিরস্থায়ী যাদের জীবনে, সেই অশুভ অহমিকার করাল গ্রাসে তাদের জীবন আর জীবনের সাথে থাকে না। প্রত্যাশিত সেই নম্রতা, মানবিকতা, সামাজিকতা ও পরোপকারী মনোভাব এসব কিছু যেন আজ অপরিচিত শব্দে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। অথচ আত্মশুদ্ধি প্রয়োজন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে।

মানবিক অনুভূতিই সেসব অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি থেকে নিজেকে রক্ষা করে অন্যের থেকে আলাদা করতে পারে। বিকৃত রুচি থেকে নিজেকে, নিজের সুন্দর মনকে রক্ষা করা নিজেরই দায়িত্ব। তারজন্য নিজের ভেতরের সেই ঠিক, সিগ্ধ আলোটা প্রজ্জ্বলন করা আজ আবশ্যক। চিন্তায় ও কর্মে থাকুক সমন্বয়। প্রতিটি মানুষ ফিরে পাক তার অধিকার, স্বস্তিতে থাকুক সমাজের প্রত্যেকে। শান্তিময় হোক মানুষের যাপিত জীবন। সেই ক্ষেত্রে ‘শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান নীতিমালা ২০১৭’ সাধারণ মানুষ তথা কিছু কিছু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর নৈতিকতা গুণে উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত করবে নিঃসন্দেহে।

কর্মক্ষেত্রে নীতি, আদর্শ, শৃঙ্খলাবোধ, দায়িত্বশীলতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, একজন মানুষকে আরো গ্রহণযোগ্য করে তোলে সবার কাছে। নিজ পেশার প্রতি গভীর ভালোবাসা না থাকলে পেশায় সফলতা অর্জন করা সম্ভব নয়। একজন মানুষের জীবনের নানা পর্যায়ে শুদ্ধতার গুরুত্ব অপরিসীম। শিশুর মানসিক ও শারীরিক বিকাশে যেমন বাবা-মায়ের সহানুভূতি, নির্মল ভালোবাসা জরুরি। তেমনি সৎ ও নৈতিকতা গুণের চর্চায় পরিবারই প্রধান ভূমিকা রাখতে পারে। মানুষের সহানুভূতি ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে অহংকারের বেড়াজালে। তাইতো বিশ্বকবি বলেছেন, ‘মূর্খতা লাভ করে উন্নতি, যোগ্যরা লাভ করে গৌরব’। আমরা যেন নূতন প্রজন্মকে সেই আদর্শেই গড়ে তুলতে পারি। এ হোক আমাদের অঙ্গীকার।

লেখিকা: সংগঠক ও সংস্কৃতিকর্মী