শনিবার, ১৭-নভেম্বর ২০১৮, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন

‘চরিত্রহীন’ ইস্যু নিয়ে পর্দার আড়ালে খেলছে কারা? 

Shershanews24.com

প্রকাশ : ২২ অক্টোবর, ২০১৮ ০৭:৫৭ অপরাহ্ন

আহমেদ আরিফ: এক-এগারোর পরে উপদেষ্টাদের অনেকেই আওয়ামী শাসনামলের স্বৈরাচারী মনোভাব থেকে নিজেদের দূরে রাখতে ‘নীরবতার’ পথ বেছে নিলেও নিজেকে সরব রেখেছেন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। টকশো, সেমিনার, গোলটেবিল বৈঠকে সরকারের যৌক্তিক সমালোচনার কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, সাধারণ পাঠক, দর্শকদের কাছে মইনুল হোসেন বেশ জনপ্রিয়। 
একটি টিভি চ্যানেলে আওয়ামী লীগপন্থী সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে করা ‘চরিত্রহীন’ মন্তব্য নিয়ে মইনুল হোসেনের ঘাড়ে এখন ২০ হাজার কোটি টাকার মানহানির মামলা! বাংলাদেশে মানহানি হয় একজনের মামলা করে ১০০ জনে! তাই ঠিক মনে করতে পারছিনা একজনের মানহানিতে ‘কষ্ট’ পেয়ে অন্য কেউ ২০ হাজার কোটি টাকার মানহানির মামলা করেছে কি না। 
টিভি অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে যে স্টাইলে প্রশ্ন করেছেন মাসুদা ভাট্টি তা মোটেই শোভন ছিলনা। যথেষ্ট উস্কানিমূলক ছিল। পাশাপাশি এটিও সত্য উস্কানিমূলক প্রশ্নের জবাবে লাইভ অনুষ্ঠানে মাসুদা ভাট্টিকে করা ‘চরিত্রহীন’ মন্তব্যটিও শোভন ছিল না। ব্যাপারটি উপলদ্ধি করেই মন্তব্যটির জন্য ফোন করে, সংবাদ মাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। মাসুদা ভাট্টির দাবির প্রেক্ষিতে মইনুল হোসেন আশ্বাসও দিয়েছেন যে ‘যদি টেলিভিশনে সুযোগ হয় আমি সেখানেও বলবো।’ 

ফোন করে বিবৃতি পাঠিয়ে দুঃখ প্রকাশ, এমনকি অন এয়ারেও ‘চরিত্রহীন’ মন্তব্যটি দুঃখ প্রকাশ করার  ইচ্ছা প্রকাশের পরও মাসুদা ভাট্টির মামলা করাটা অনেকের কাছে বিস্ময়কর মনে হচ্ছে ! আর এই বিস্ময়ে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে তসলিমা নাসরিনের বক্তব্যের জবাবে মাসুদা ভাট্টির ভিন্ন সুর। 

তসলিমা নাসরিনের দেওয়া অপবাদ ‘মাসুদা ভাট্টি একটা ভীষণ রকম চরিত্রহীন মহিলা..অতি অসৎ, অতি লোভী, অতি কৃতঘœ, অতি নিষ্ঠুর, অতি স্বার্থান্ধ, অতি ছোট লোক’  নিয়ে  তসলিমা নাসরিনকে মামলা করার হুমকি তো দূরে থাক ক্ষমা চাওয়ার আহবানও জানাননি মাসুদা ভাট্টি! উল্টো মিনমিনে স্বরে তসলিমা নাসরিনের স্ট্যাটাসের জবাব দিতে গিয়ে অনেক বিষয় এড়িয়ে গিয়েছেন মাসুদা ভাট্টি! যারা মাসুদা ভাট্টির পক্ষ নিয়ে ব্যারিস্টার মইনুলের বিরুদ্ধে রীতিমত আলোচনা সভা, হুমকি, মানববন্ধন,বিবৃতি দিয়েছেন তাদের ভাবখানাও এমন তসলিমা নাসরিন কিছুই বলেনি! 

কেন মিনমিনে স্বর? একই রকম দুটি ঘটনার বিপরীত প্রতিক্রিয়া কেন? তাহলে কি মাসুদা ভাট্টি ইস্যু নিয়ে পর্দার আড়ালে খেলছে অন্য পক্ষ? সে পক্ষটি কারা? উত্তরের জন্য যে প্রশ্নটি সামনে আসবে তা হচ্ছে, ব্যারিস্টার মইনুল ইসলামকে  মামলার জাল কিংবা সমাজে হেয় করতে পারলে লাভবান হবে কারা ?

প্রিয় পাঠক, শুরুতেই লিখেছি মইনুল হোসেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, সাধারণ পাঠক, টিভির দর্শকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। আর তার এই জনপ্রিয়তা আওয়ামী লীগের জন্য বেশ অস্বস্তির। কারণ, ১/১১ পরবর্তী অনেক কিছুর সাক্ষী মইনুল হোসেনের রাজনৈতিক স্পষ্টবাদীতা আওয়ামী লীগের জন্য মোটেই সুখকর না। পাশাপাশি নির্বাচনকে সামনে রেখে মইনুল হোসেনের তৎপরতা আওয়ামী লীগের বেশ মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তাহলে কি মাসুদা ভাট্টি ইস্যু দিয়ে মইনুল হোসেনকে ‘সাইজ’ করার পথে হাঁটছে আওয়ামী লীগ? মামলার ফাঁদে ফেলে মইনুল হোসেনকে আগামী দিনের ভোটের রাজনীতির তৎপরতা থেকে আওয়ামী লীগ দূরে রাখতে পারবে কি না তা সময় বলে দিবে। তবে সামাজিকভাবে মইনুল হোসেনকে যতটা না হেয় করতে পেরেছে তাঁর চাইতে বেশী জনপ্রিয় করে দিয়েছে মাসুদা ভাট্টি ও পর্দার আড়ালের ব্যক্তিরা। 

কারণ, মন্তব্যটির জন্য বিনীত দুঃখ প্রকাশ করে বেশ বড় মনের পরিচয় দিয়েছেন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইস্যুতে ঘটে যাওয়া বিব্রতকর পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষমা চাওয়ার মানসিকতার নজির বাংলাদেশে নেই বললেই চলে। একজন মানুষ ফোন করে, বিবৃতি দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা, এমনকি অন এয়ারে আলোচনার আশ্বাস দেওয়ার পরও  মামলার ব্যাপারটি স্রেফ রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের নোংরা খেলা ছাড়া আর কিছুই না। 

ahmedarif2011@gmail.com