মঙ্গলবার, ১২-নভেম্বর ২০১৯, ০৪:১৫ অপরাহ্ন
রমজান আসার আগেই বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম, জনগণ ক্ষুব্ধ

রমজান আসার আগেই বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম, জনগণ ক্ষুব্ধ

shershanews24.com

প্রকাশ : ১০ জুলাই, ২০১৭ ০৬:৫০ অপরাহ্ন

আর মাত্র কয়েকদিন পরই শুরু হবে মুসলিম উম্মাহর সিয়াম সাধনার মাস পবিত্র রমজান। প্রতিবছরই রমজান মাস এলে কারসাজিতে নামে অতিমুনাফাখোর সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা। এবারও রমজান মাস যত ঘনিয়ে আসছে হাট-বাজারে কাঁচামালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম ততই হু হু করে বাড়ছে। বিশেষ করে যে সব পণ্যের চাহিদা রমজান উপলক্ষে বেশি এগুলোর দাম গত কয়েক দিন ধরেই বেড়ে চলেছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, গত সপ্তাহে রাজধানীর খোলাবাজারে ছোলা বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি সর্বনিম্ন ৯০ টাকায়। কোন কোন বাজারে একশ’ টাকাও ছাড়িয়ে গেছে। অথচ বর্তমানে দেশে প্রতি কেজি ছোলা আমদানিতে সর্বোচ্চ ব্যয় ৪৪ টাকা মাত্র। সামান্য এই একটি পণ্য থেকেই দেশের আমদানিকারক, সরবরাহকারী, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের মুনাফা লোটার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এর বাইরেও সপ্তাহের ব্যবধানে চাল, ডাল, চিনি, ভোজ্যতেল, গুঁড়োদুধ ইত্যাদির দাম বেড়েছে কেজি প্রতি সর্বনিম্ন ৮ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া শাক-সবজি, তরিতরকারি, মাছ-মাংস-দুধের বাজারেও আগুন। টিসিবি পণ্যমূল্য পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজধানীসহ দেশের কয়েকটি স্থানে ন্যায্যমূল্যে ট্রাকসেল চালু করলেও বাস্তবে এর সুবিধা পাচ্ছে খুব কমসংখ্যক মানুষ।

জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে চাল, গম, ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, গুঁড়োদুধ, ছোলা, লবণ ইত্যাদির দাম কম। কিন্তু দেশে বাড়ছে এসব নিত্যপণ্যের দাম। এ নিয়ে নানা কারসাজি ব্যবসায়ীরা করে থাকে প্রতিবছরই। দাম বাড়ার জন্য ব্যবসায়ীরা একেক সময় একেক অজুহাত দিচ্ছেন। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির নানা কারণের মধ্যে অন্যতম দুর্বল বাজার মনিটরিং, অসাধু আমদানিকারক, উৎপাদক, পরিবেশক, সরবরাহকারী, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী, অকার্যকর টিসিবি সর্বোপরি ট্যারিফ কমিশন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রাজস্ব বোর্ডের মধ্যে আদৌ কোন সমন্বয় না থাকা। যে কারণে ভোক্তা ও ক্রেতা স্বার্থ অধিকার এবং সংরক্ষণ বরাবরই উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।

রমজান আসার আগেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচ- ক্ষোভ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে না বলে সরকারের পক্ষ থেকে আশ^াস দেয়া হলেও মানুষের শঙ্কা দূর হচ্ছে না। প্রতিবছরই সরকারের পক্ষ থেকে এমন আশ্বাস দেয়া হয়। কিন্তু ফলাফল সব সময়ই উল্টো হয়েছে। তাই, পবিত্র রমজান মাসে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের এমন অপতৎপরতা বন্ধে শক্ত পদক্ষেপ নেয়া দরকার।