মঙ্গলবার, ২২-জানুয়ারী ২০১৯, ০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন

একটি ভোরের অপেক্ষা

Sheershakagoj24.com

প্রকাশ : ০১ জানুয়ারী, ২০১৯ ০৯:৪৫ অপরাহ্ন

হাসান আল বান্না : জানুয়ারী ২০১৯!!  একটি নতুন দিন! একটি নতুন মাস! একটি নতুন বছর!  এটা যেমন ঠিক সেই সাথেও এটা তেমন সঠিক যে, আর মাত্র ২৪ ঘন্টা পর এই নতুন দিনটিও অতীত হবে! আর এক মাস পর এই নতুন মাসটিও হারিয়ে যাবে আর বছর খানেক পর এই নতুন ২০১৯ সালটিও পৃথিবীর ইতিহাসে বিলুপ্ত হবে! সেই বিবেচনায় প্রতিটা মূহুর্তই আমাদের জন্য নতুন!!  প্রতীটা মূহুর্তর কিছুক্ষণ পর তা নিকট অতীত। এরপর তা অতীত আবার তারপর তা পুরনো অতীত!! 
সুতরাং ব্যক্তিগত জীবনে আমি নতুন বছর নতুন দিন ও নতুন মাস বলেও তেমন কিছু মনে করতে দ্বিধা করি।  

যে মুহূর্তে এই লিখাটি লিখছি তখন হয়তবা আমার পরিবারের কেউ কেউ বেলকনিতে দাড়িয়ে বাইরেও আতশবাজি উপভোগ ও নতুন বছরকে বরন করে নিচ্ছেন! প্রিয় সব শুভাকাঙ্ক্ষী অনেকেই নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে সুন্দর ও চমৎকার শব্দমালা দিয়ে আমার ইনবক্সে ও মোবাইলে টেক্সট করছেন। আমি তাদের সবার এই উৎসাহ ও সৌহার্দ্য রীতিকে স্বাগত জানাই। কিন্ত আমি যখন উপরোক্ত বিষয় সমূহ ভাবি তখন পারিনা নতুন বছর ও নতুন দিন হিসেবে স্বাগত জানিয়ে উৎসবে মেতে উঠতে।  

যখন লিখাটি লিখছি তখন পৃথিবীর অনেক দেশই আজকের দিনটিকে নতুন দিন হিসেবে আখ্যায়িত করে মহা উৎসবে মেতে উঠেছে। আমাদের দেশে তো নতুন বছরে আতশবাজি আর সৌজন্যে বিনিময় চেয়ে তেমন কোন আয়োজন থাকেনা কিন্ত আমি দেশের বাইরে অনেক দেশেই দেখেছি এই দিনটিকে জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন ধরা হয়। কেউ কেউ এটাকে ভাগ্য অন্বেষণ / নির্ধারন দিন মনে করে।  অনেক ক্যাথলিক সহ আফ্রিকার কিছু ধর্মে এই দিনটা জীবন পরিবর্তন ও প্রত্যাশার দিন মনে করে। 
গতবছর এই দিনে আমি দেশের বাইরে অবস্থান করেছিলাম। সেখানে আমার এক প্রিয় ভাই ও তাদের স্বজনদের সাথে ছিলাম। নতুন বছর নিয়ে আমার কোন উৎসাহ না দেখায় তারা আমাকে অনেকটা সেকেলে মনে করেছিলো। যা হোক দুনিয়াতে এটা খুবই কমন ও সিম্পল চিত্র। এটা কোন দোষের কিছুনা। নতুনকে স্বাগত জানায় সাধারণত বছর ঘুরে। কিন্ত আমার কাছে অনূভূতি শুরুতেই বর্ননা করেছি।।

আমি যখন বাইরের উৎসবের আতশবাজি শুনছি তখন আমি আৎকে উঠছি! কারন এই আতশবাজি শব্দ আমাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে সিরিয়ায় বিশ্ব সন্ত্রাসবাদ ও সাম্রাজ্যবাদীদের বোমার আওয়াজ। নিরপরাধ শান্তিকামী ইয়েমেনের লাখো নাগরিক বোমায় ক্ষত বিক্ষত হচ্ছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ফিলিস্তিনিদের উপর নির্মম পৈশাচিকতা চলছে। ইরাকে চলছে উগ্র সন্ত্রাসী ধর্মান্ধ আইএস গোষ্ঠীর বর্বরতা। নির্যাতিত মজলুম মানবতা রোহিঙ্গারা কয়েক শতাব্দী ধরে তাদের নিজ ভূবন থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে অত্যন্ত জঘন্যতম কায়দায়। তখন আমার নিকট বিশ্ব প্রেক্ষাপটে এই উৎসবের আতশবাজি সন্ত্রাসবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠীর বোমা মনে হয়। বাড়ি ছাদে ও বেলকনিতে উৎসবের হাসি বিশ্ব মজলুম মানবতার আর্তনাদ মনে হয়! কেন মনে হয়??

আজ থেকে ৫/৬ বছর পূর্বেও একটি শান্তিপ্রিয় সুখি সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্রের অধিবাসী সিরিয়ানরা কখনই ভাবেনি এখন তাদের দেশ বোমার আঘাতে ক্ষত বিক্ষত হবে। আজ থেকে ঠিক দুবছর পূর্বে শান্তিপ্রিয় ইয়েমেন বাসিন্দারা কল্পনাও করেনি দুবছর আগের তাদের আতশবাজি উৎসব আজ আধিপত্যবাদীর প্রাণঘাতী বোমা উৎসবে পরিনিত হবে।  
আর আমার বাংলাদেশের কথায় ভাবি।  আজ থেকে দুদিন আগেও সবাই ভেবেছি একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে আধুনিক,  গণতান্ত্রিক ও কল্যান রাষ্ট্র হবে। কিন্ত আজ আমাদের এই ভাবনাও নিকট অতীত। পারলমনা সম্পূর্ণ প্রশ্নমুক্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে। ঝরে গেছে তাজা ডজন খানিক প্রাণ, আহত হাজার হাজার। তাদের পরিবারে নতুন এই দিনের কি মূল্য আছে??  

বিশ্ব মানবতার করুন পরিনতি, শান্তিপ্রিয় দেশে সাম্রাজ্যবাদীর যুদ্ধ! বিশ্বে অর্ধেক জনগোষ্ঠী দারিদ্র্য সীমার নীচে! বিশ্বে ৮০ ভাগ মানুষ চিকিৎসাহীনতায়! বিশ্বের একটি উল্লেখযোগ্য জনগোষ্ঠীর কোন রাষ্ট্র ও নাগরিকত্ব নেই! বিশ্বের বহু শান্তিপূর্ণ ভূখন্ডে এখন উগ্র সন্ত্রাসবাদীর চারণভূমি! ঠিক এমন এক মূহুর্তে নতুন দিন নতুন বছরকে নতুন মনে হওয়ার তেমন কারন দেখিনা।  

যা হোক, তারপরেও নতুন দিনের স্বপ্ন আঁকি যে দিন হবে সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠীর বোমা আতঙ্ক মুক্ত দিন।  নতুন বছরের স্বপ্ন দেখি যে বছর হবে বিশ্বের সকল নির্যাতিত মজলুম মানবতার মুক্তির বছর। 

নতুন একটি ভোরের স্বপ্ন দেখি যে ভোর থেকেই শুরু হবে ভালোবাসার পৃথিবী! মানবতা ও মনুষত্বের পৃথিবী। 
প্রতিটি নিঃশ্বাস ভরে উঠুক ভালোবাসা দিয়ে!  
প্রতিটা প্রাণ সজীব হোক ভালোবাসা দিয়ে!  
প্রতিটি হৃদয় শাসিত হোক ভালোবাসা দিয়ে! 
শুভেচ্ছা প্রিয় দেশবাসীকে! ভালোবাসা বিশ্বের মজলুম মানবতাকে!  একটি ভোরের অপেক্ষা.....

লেখক : কথা সাহিত্যিক ও সাংবাদিক