সোমবার, ১৯-আগস্ট ২০১৯, ১০:১৪ পূর্বাহ্ন
  • মন্তব্য প্রতিবেদন
  • »
  • প্রশাসনের বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য: শামীম ওসমানের সহযোগীর বিরুদ্ধে জিডি

প্রশাসনের বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য: শামীম ওসমানের সহযোগীর বিরুদ্ধে জিডি

shershanews24.com

প্রকাশ : ৩০ মার্চ, ২০১৯ ০৭:২৬ অপরাহ্ন

ভূঁইয়া সফিকুল ইসলাম: জিডি হয়েছে ওসমানভক্ত শাহ নিজামের বিরুদ্ধে। পুলিশ করেছে জিডি। কারণ, নিজাম ঘোষণা দিয়েছেন, ‘শামীম ওসমানের মতো নেতা থাকলে প্রশাসনের কোনো দরকার হয় না।’ ফতুল্লার একটি অনলাইন পোর্টালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জের নিজাম মহোদয় এই বক্তব্য দেন। এটা পুলিশের গায়ে লাগে। ফতুল্লার ওসি মঞ্জুর কাদের বাদি হয়ে জিডিটি করেন।
এটা অবাক হওয়ার মতো সাহস! পুলিশের আকস্মাৎ এত সাহস কোথা হতে এল? আমার অবশ্য পুলিশের সাহসের অসীমতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। আমাদের ক্রস-ফায়ারপটু পুলিশ অনেক সাহসী। নাগরিকের বিচারের অধিকার অবজ্ঞা করার দৃষ্টান্তের কোনো কমতি এদের ইতিহাসে নেই। তবে প্রশ্ন, ত্বকীর মতো নিরীহ, নিষ্পাপ মেধাবী কিশোরের হত্যাকারীর বিরুদ্ধে ছয় বছর অতিক্রান্তিতেও চার্জশিট দিতে পারেনি যেখানে পুলিশ, সেখানে হঠাৎ করে তাদের শামীম-সহযোগীর বিরুদ্ধে জিডি করা কি ঠিক হয়েছে? পুলিশের এ সাহস কি শেষমেশ হঠকারিতায় পর্যবসিত হবে না? আইন সবার জন্য সমান। তবে ব্যতিক্রম আছে। কোনো কোনো পরিবারের জন্য তা সমান নয়। উসমান পরিবারের নাম জড়িয়ে যাওয়ায় যে ত্বকী-হত্যা মামলার চার্জশিট হচ্ছে না তা সকলে জানে।
জিডির বিষয়ে সাংবাদিক যখন শাহ নিজামের কাছে জানতে চাইলেন বিষয়টি তিনি অবলীলায় জানালেন, ‘বর্তমান সরকারের অংশ শামীম ওসমান। প্রশাসন বর্তমান সরকারের অংশ। শামীম ওসমান সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছেন, তাই আমরা ওনার অনুসারি হয়ে কাজ করলে প্রশাসনের দরকার পড়ে না।”
সাধু বলি শাহ নিজামকে, যাঁর নেতার প্রতি এত আস্থা। আর ধন্য বলি সেই নেতাকে, যিনি কর্মীদের কাছে এতটা আস্থাভাজন। জনাব শামীম ওসমানের শাহ নিজামের মতো অগণিত কর্মী আছেন। এ মুহূর্তে মনে পড়ছে নিয়াজুল নামক একজন কর্মীর কথা। যিনি নারায়ণগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সড়কের পাশে ওসমান সাহেবের কর্মীদের আক্রমণে মাটিতে লটিয়ে পড়া, ইটের আঘাতে আহত মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভি-কে গুলি করার জন্য পিস্তল উঁচিয়ে ছুটে গিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর গুলি করার সৌভাগ্য আর হয়ে ওঠেনি বটে, কিন্তু সেই পরাক্রান্ত কর্মীর সংক্ষুব্ধ গর্জন আর ক্রোধ-কুপিত লেলিহান অগ্নিমূর্তি গণমাধ্যমে দেশবাসী, বিশ্ববাসী দেখেছে। সেলিনা হায়াত একজন আদর্শ জননেত্রী হিসেবে পরিচিত। সেবার নির্বাচন ফেয়ার হওয়ায়, সেলিনা হায়াত শামীম ওসমানকে লক্ষাধিক ভোটে পরাজিত করেছিলেন। শক্তিমান নেতার চামচা হলে পথের চাঁদাবাজও কতটা বেপরোয়া হতে পারে, মেয়রের মতো বৈধ জননেত্রীর দিকেও পিস্তল উঁচিয়ে ধেয়ে যেতে পারে, নিয়াজুলের আক্রমণ ছিল তার এক নিকৃষ্ট উদাহরণ। 
আসন্ন ইস্যুটা নিয়ে কথা বলি। শাহ নিজামের বিরুদ্ধে জিডি করা হয়েছে, কেন এফআইআর নয়? তিনি এমপি শামীম ওসমানকে ডি-ফ্যাক্টো সরকার হিসেবে যে প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছেন, তাতে নারায়ণগঞ্জ প্রশাসনের ভাবমূর্তি ধুলায় মিশে গেছে। ‘এমপি সন্ত্রাস, মাদক আর চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছেন, আর সেই জিহাদে সিপাহসালার হবেন শাহ নিজাম ও এমপির সাঙ্গপাঙ্গ! বাস পুলিশ-প্রশাসনের আর দরকার কি’! এ ধরণের ঘোষণা রাষ্ট্রদ্রোহিতা। এর পরও তিনি কী করে দিব্যি ঘুরে বেড়ান? কেন তাঁর কোমরে দড়ি পড়ে না?
আইনের ব্যতিক্রম কি এভাবে হতে থাকবে? আমার বিশ্বাস, আইভিকে সেদিন খুন করা হলেও নিয়াজুরের বিরুদ্ধে আজও চার্জশিট দেওয়া হতো না। যেমন হয়নি তানভির মোহাম্মাদ ত্বকী হত্যায়।
সভ্য মানুষ মাত্রই জানে ত্বকীর হত্যায় নিহত হয়েছে মানবতা। ত্বকীর বাবা সন্ত্রাসবিরোধী দুর্বার গণ-আন্দোলন গডে তোলার ‘অপরাধে’ এই নির্দোষ কিশোর বালককে হত্যা করা হয়েছিল। মেধাবী, কবি-ধ্যানী, স্বদেশের কল্যাণব্রতে ভাবুক এমন কিশোরের জন্ম আর কবে দেবে নারায়ণগঞ্জ জানি না। এ লেভেল পরীক্ষায় ফিজিক্স-এ বিশ্বসেরা রেকর্ড় করেছিল ত্বকী। ক্যামেস্ট্রিতে দেশ-সেরা। সাহিত্য-দর্শন ও কবিতায়ও গভীর অনুরাগ ছিল ছেলেটির। 
নিজাম তো ঠিকই বলেছেন! নারায়ণগঞ্জে প্রশাসনকে তিনি সংগত কারণেই ঠুটো জগন্নাথ মনে করেন। তিনি ভেতরের খবর জানেন। কেন ত্বকী-হত্যা মামলার চার্জশিট হয় না, কেন নিয়াজুলও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ান, তা কি আর নিজাম সাহেব জানেন না?
তবুও পুলিশকে সাধুবাদ জানাই। অন্ততঃ জিডি তো হয়েছে। আমরা আশা করব, এর মধ্য দিয়ে পুলিশ প্রকৃত সাহসী হবে। তার সত্যিকার স্বরূপে আত্মপ্রকাশ করবে। আর নারায়ণগঞ্জের বাক্সবন্দি মামলাগুরোর সদগতি করবে। আজ যদি ত্বকীর মামলার চার্জশিট হতো, নিয়াজুলের মামলার চার্জশিট হতো, অপরাধী বিচারের আওতায় আসত, তা হলে নারায়ণগঞ্জের প্রশাসনের বিরুদ্ধে এ রকম বাজে মন্তব্য করার সাহস পেত না নিজাম।
৩০.০৩.২০১৯