শুক্রবার, ০৫-জুন ২০২০, ১২:৪৫ অপরাহ্ন

চেতনাব্যবসায়িরা কি বিপদে পড়তে যাচ্ছেন?

shershanews24.com

প্রকাশ : ২২ এপ্রিল, ২০১৯ ০৬:১৭ অপরাহ্ন

ভূইয়া সফিকুল ইসলাম: এমদাদ প্রাণীবিদ্যায় অনার্স-মাস্ট্রার্স উভয় পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদকও পেয়েছেন। কিন্তু প্রভাষক পদে ভাইবা দিতে গেলে ভিসির কার্যালয়ের সামনে থেকেই তাঁকে কিডন্যাপ করে নিয়ে যায় চেতনাব্যবসায়িরা। এরা ছাত্রলীগ, মুজিব সৈনিক, উন্নয়নের গণতন্ত্রের উঠতি গণতন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলতে এতই আত্মহারা যে হুঁশ-জ্ঞানও হারিয়ে ফেলে। 
এমদাদ ভিসির কাছে আবেদন করেন পরিস্থিতি জানিয়ে। বলেন, আমাকে ভাইবার সুযোগ করে দেওয়া হোক। কিন্তু ভিসি সাব তা দেবেন না, তিনি তো আরো বড় চেতনাব্যাবসায়ি। সাধে তো আর ভিসি হন নাই ! ভিসি মানে উপাচার্য। আচার্যের পরেই যার পদাবস্থান। আচার্য হন রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী। আমাদের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে এর নিজে আচার্য হন না। ‘আচার্য’ শব্দটির মানে গুরু—যে গুরুর আচরণ অনুসরণযোগ্য। সে অর্থে আমাদের উপাচার্যের আচরণ অনুসরণ করবেন তাঁর ছাত্ররা—এটিই হওয়ার কথা। কিন্তু এ চেতনাব্যাপারি কুকর্ম করা ছাত্রদের আচরণই অনুসরণ করলেন। তিনি এমদাদকে বলে দিলেন, পারতাম না ভাইবা নিতো, তোরে ধইরা লইয়া গেছে তো আমি কিতা করতাম? 
কথা ঠিক—চেতনায়-চেতনায় মিল। এ মিল থাকলে ন্যায়বিচারের আদর্শ ময়লার ঝুড়িতে ছুড়ে দিতে মুহূর্ত সময় লাগে না। তাই ভিসি সাব মুহূর্তে কিডন্যাপকারী ছাত্রনেতাদের মতো এমদাদের ভাইবার অধিকারও কিডন্যাপ করলেন। কার আচরণ কে অনিুসরণ করে ! ছাত্রের আচরণ অনুসরণ করলেন শিক্ষক। নোংরায় নোংরায় নোংরাযোগ—শুভে-শুভে যেমন শুভযোগ। বলিহারি কপাল আমাদের? এভাবে অযোগ্যের হাতে সাম্য ভূলুন্ঠিত করার নামই এখন হয়েছে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’! এর জন্যই কী আমার ত্রিশ লক্ষ ভাই-বোন জীবন দিয়ে গেল?
কিন্তু চেতনাব্যবসায়িদের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে একখানা রিট করে ফেলেছেন এমদাদ। কেন তার ভাইবা নেওয়া হবে না, জানতে চেয়েছেন মাননীয় আদালত। অতএব একটু আশার জায়গা মানুষের এখনো আছে। এটুকুও অবশ্য কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল চেতনাব্যবসায়িরা, উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদদের হাতে তুলে দিতে। এটি হলে চেতনাব্যবসায়ীদের স্বার্থের বিরুদ্ধে রুল জারির সাহস আজ আর কোনো বিচারপতি হয়তো পেতেন না। 
সাব্বাস দেই ‘দুর্নীতিবাজ’ সাবেক প্রধান বিচারপতি সিনহা সাহেবকে। তিনি নিজের মান-মর্যাদার সমূহ ক্ষতির বিনিময়েও জনগণের শেষ আশ্রয়টুকু আগলে রেখে গেছেন। অন্ততঃ একটি রিট করতে পারে অধিকারবঞ্ছিত নাগরিক। সিনহা যতই দুর্নীতিবাজ হোন, জনগণের সাথে বেইমানি করে যাননি। আমাদের চেতনার কারবারিরা শুধু দুণীতিবাজই নন, জনগণের অধিকার হরণের সব প্রচেষ্টায়ই তারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
(বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব)