রবিবার, ২২-সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৭:০৪ অপরাহ্ন

দ্বিধা, ব্রাহ্মণের পাঠা ও রুমিন ফারহানার প্লট

shershanews24.com

প্রকাশ : ২৫ আগস্ট, ২০১৯ ০৭:৩৫ অপরাহ্ন

তানভীর সিদ্দিকী: গল্পটা অনেকেই জানেন। এক ব্রাহ্মণ মাথায় ঝুড়িতে করে তিনটি পাঠা (এখানে পড়তে হবে ১০ কাঠার প্লট, পাজেরো গাড়ী ও লাল পাসপোর্ট) বাজারে বেচতে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে কয়েকজন দুষ্টু ছেলে সেটা দেখে ফন্দি করলো তিনটে না হোক অন্তত একটা পাঠা হজম করতেই হবে। ব্রাম্মন তিন পাঠা বেচে এক কাড়ী টাকা বাড়ী নিয়ে যাবে অথচ তারা পাঠা খেতে পারবে না তা কি করে হয়! তারা ফন্দি মোতাবেক কাজ শুরু করলো। কিছুদুর যাওয়ার পর তাদের একজন ব্রাহ্মণকে দেখেই বলে উঠলো, হায় হায়! আপনি ব্রাহ্মণ হয়ে মাথায় করে কুকুর নিয়ে যাচ্ছেন! ছি ছি ছি! এ আপনি কি করলেন ঠাকুর! ব্রাহ্মণ জানতেন তিনি মাথায় করে পাঠা নিয়ে যাচ্ছেন তাই কোন উত্তর না দিয়ে হাঁটতে থাকলেন। কিছুদূর যাওয়ার পর ঐ দলের আর একজন চিৎকার করে উঠলো, ঠাকুর! আপনার মাথায় কুকুর! রাম রাম রাম। এবার ব্রাহ্মণের একটু সন্দেহ হলো। তিনি হাত উচু করে ঝুড়িতে চেক করে দেখেন ঝুড়িতে পাঠাই আছে। তিনি বাজারের দিকে হাঁটা শুরু করলেন। কিছুদূর যাওয়ার পর একই কেস, দলের আর একজন বলে উঠলো, ঠাকুর! আপনার মাথায় কুকুর! হায় রাম! ছি ছি ছি! আপনি ব্রাহ্মণ হয়ে এই কাজ করতে পারলেন! আপনি মাথায় করে কুকুর নিয়ে যাচ্ছেন! ব্রাহ্মণের এবার সন্দেহ হলো। তিনি কি তবে মাথায় করে কুকুর নিয়ে যাচ্ছেন! নইলে তিনজন একই কথা বলবে কেন! ভাবলেন তিনি ভুল শুনেছেন তাই ওদের কথায় কান না দিয়ে আবার হাটা শুরু করলেন। এদিকে তিনি বাজারের প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। দুষ্টু ছেলেরা ভাবলো পাঠা কি তাহলে আমাদের কপালে নেই! শেষ চেষ্টা হিসেবে দলের বাকী কয়জন মিলে একসাথে হৈ হৈ করে উঠলো, এ আপনি কি করছেন ঠাকুর! জাত কুল সবই আপনি বিসর্জন দিলেন! মাথায় করে কুকুর নিয়ে বাজারে যাচ্ছেন আপনি! আপনি তো নরকেও জায়গা পাবেন না! ছি ছি ছি! নরকে যাওয়ার কথা শুনে এবার ব্রাহ্মণ সত্যিই ভয় পেলেন! তাছাড়া এতোগুলো মানুষ যখন বলছে তখন ভুল হতেই পারে না। তিনি সব দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে মাথার ঝুড়ি ছুড়ে ফেলে দিয়ে বাড়ী দিকে রওয়ানা দিলে্ন আর বিড় বিড় করে বলতে থাকলেন, ভগবান, তুমি আমায় মাফ করো! বড় ভুল করে ফেলেছি! আমায় ক্ষমা করো! 
দুষ্টু ছেলেগুলোর টার্গেট ছিল একটা পাঠা। তারা তিনটা পাঠা পেয়ে খুশীতে আরো ছেলে জোগাড় করে ভুড়িভোজের ব্যাবস্থা করলো।


মোরালঃ রুমীন ফারহানা শুধু প্লট নয়, ডিউটি ফ্রি লাক্সারী গাড়ী আর লাল পাসপোর্টও নেবেন। লিখে রাখেন। এটা তার অধিকার তা পার্লামেন্টকে তিনি যে নামেই ডাকুন না কেন।
পুনশ্চঃ রুমীন ফারহানা সংসদ সদস্য হিসেবে ভাতা, এমপি হোস্টেল নিচ্ছেন না! তাহলে কেন গাড়ী, বাড়ী, প্লট, লাল পাসপোর্ট নিবেন না! আর এসব আবেগী আর মিষ্টি কথা যদি ৩৪৯ জনের বেলায় প্রযোজ্য না হয় তাহলে উনি কেন আহাম্মকি করতে যাবেন! বরং উনি গাড়ী নিলে দুই একদিন ফাও চড়তেও তো পারি! কত এমপি মিনিস্টার দেখলাম, কেউ একদিন লিফটও দিলেন না। আশাকরি রুমীন ফারহানা এমপি সেটা করবেন না। আর প্রায় দেড় বছর আগের আমাদের সেই বিখ্যাত গ্রুপ ছবিটা আছে না! গাড়ী না চড়িয়ে তিনি যাবেন কোথায়!