শনিবার, ২৩-নভেম্বর ২০১৯, ০১:২০ পূর্বাহ্ন

শিশুরা কোথায় নিরাপদ?

shershanews24.com

প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর, ২০১৯ ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন

এ রহমান: সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে তুহিন নামে একটি পাঁচ বছরের শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যাকা-ে জড়িত হিসেবে অভিযুক্ত হয়েছে শিশুটির বাবা, চাচা ও চাচাতো ভাই। ঘুমন্ত শিশুকে কোলে করে নিয়ে হত্যা করা! বলতে গেলেই শিহরে উঠতে হয়, অবিশ্বাস মনে হয়, অবিশ্বাস হলেও এটাই সত্য।
মানুষের মনে ভয়ংকর পঁচন ধরেছে, আর এই পঁচনের কারণেই মানুষ ঘটাচ্ছে ভয়ংকর সব কা-। বাবার কোলেও শিশু এখন আর নিরাপদ নয়। দেশে শিশু হত্যার অনেক ঘটনাই ঘটছে। শিশুরা যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এখন সবচে’ আতংকের বিষয় হয়ে উঠেছে শিশুদের জন্য আসলে নিরাপদ স্থান কোনটি? একজন বাবাই যদি সন্তানকে হত্যা করেন তাহলে তার সমাধান কতটাই বা আইন ও বিচার দিয়ে করা সম্ভব? স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্ব, প্রতিবেশীকে ফাঁসানোসহ নানা কারণে আমাদের শিশুরা নির্মম নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে।  
শিশুরা নিষ্পাপ, ফুলের মতো। তাদের ওপর নির্যাতনের বিষয়টি বিবেকবান মানুষদের আহত ও ক্ষুব্ধ করে বটে কিন্তু আমাদের এই সমাজে মানুষরূপী পিশাচের সংখ্যাও তো কম না। তাদের হাতে নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে শিশুরা, হত্যাও করা হচ্ছে। এসব ঘটনায় মামলা হয় কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তার বিচার হয় না। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, শিশু নির্যাতনের অভিযোগে করা ১ লাখ ৮০ হাজার মামলা বিচারাধীন। আর যেসব মামলার বিচার হয় তাতেও সাজার পরিমাণ খুবই কম। পারিবারিকভাবে কোন শিশু নির্যাতনের শিকার হলে বা হত্যা করে সে সব মামলা শেষ পর্যন্ত বিচারই হয় না, তার আগেই তুলে নেয়া হয়। এতে অপরাধীর সাজাটা হয় না, অথচ অপরাধ কমাতে হলে দৃষ্টান্তমূলক সাজার কোন বিকল্প নেই। 
আমাদের পারিবারিক মূল্যবোধে যে ভয়াবহ ধস নেমেছে তার পরিণতিতেই শিশুরা হত্যাকা-ের শিকার হচ্ছে। শুধু শিশুরাই নয়, সন্তানের হাতে মা-বাবাও নিহত হচ্ছে। রাজধানীর শান্তিনগরে পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের হত্যাকা-ের ঘটনা কারোই ভুলে যাওয়ার কথা নয়। তাদেরকে ঘুমের মধ্যে কুপিয়ে হত্যা করেছিল মেয়ে ঐশী। আসলে এ সব হত্যাকা- আমাদেরকে একটি বড় প্রশ্নের মুখোমুখি করে, আর তা হচ্ছে- আমাদের মধ্য থেকে কি মানবতাবোধ পুরোপুরি হারাতে বসেছে?
আমাদের মহানবী (স.) শিশুদের খুবই ভালবাসতেন, স্নেহ করতেন। দুই নাতির প্রতি তার স্নেহের বিষয়টি আজও  দেশের সব ইসলামী আলোচনায় অবধারিতভাবেই উঠে আসে। প্রশ্ন হচ্ছে মহানবীর (স.) সেই ভালবাসার উদাহরণ থেকে কি আমরা কিছু শিখছি? আমাদের দেশের প্রচালিত আইনও  শিশুর প্রতি দরদ, ভালোবাসা এবং  তাদের নিরাপত্তাসহ আবশ্যিক বিষয়গুলো নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে
এ পৃথিবীকে শিশুর বাসযোগ্য করে যেতে হবে, সে জন্য আমাদের নিরন্তর চেষ্টা চালাতে হবে, তবে সবার আগে শিশুদের জন্য প্রতিটি ঘরকে নিরাপদ করে তুলতে হবে। শিশুর কান্না, আহাজারি বা আর্তনাদ নয়, প্রতিটি ঘর আমোদিত হোক শিশুদের আনন্দময় জীবনে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।