বৃহস্পতিবার, ০২-জুলাই ২০২০, ০৭:০৬ অপরাহ্ন

করোনা প্রতিরোধে চাই ব্যাপক সচেতনতা সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা 

shershanews24.com

প্রকাশ : ১৭ মার্চ, ২০২০ ০৮:৫৫ পূর্বাহ্ন


এস আরেফিন: বিশ্বজুড়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাস। করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে ভুগছে গোটা বিশ্ব। এরই মধ্যে করোনা ভাইরাস বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বাংলাদেশেও করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করেছে (আইইডিসিআর)। তবে করোনা ভাইরাসের উৎস কী বা কার মাধ্যমে ছড়িয়েছে তা এখনও অজানা। 
কীভাবে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়েছিল, তা এখনও নিশ্চিত করে বলতে পারেনি বিশেষজ্ঞরা। এই ভাইরাস মানুষের ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমেই এটি একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে ছড়ায়। এ রোগ অতিমাত্রায় ছোঁয়াচে। 
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যথেষ্ট প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে, তবু সংশয় ও আশঙ্কা থেকেই গেছে। সর্বশেষ গত ৩ মার্চ বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত যখন মন্তব্য করেন যে করোনা ভাইরাসের সম্ভাব্য প্রাদুর্ভাব মোকাবিলার জন্য সরকারের প্রস্তুতি পদক্ষেপগুলো সন্তোষজনক নয়, তখন বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এই ভাইরাসের প্রাথমিক লক্ষণগুলো হল কফ, ঠান্ডা, সর্দি, জ্বর। কিন্তু যখন এই ভাইরাস শরীরে জেঁকে ধরে তখন শরীর দুর্বল হয়ে যায়। শরীর প্রচন্ড ব্যথা করে। শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। সঙ্গে ডায়রিয়াও দেখা দিতে পারে। তবে এর পরিণামে দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়া, নিউমোনিয়া এবং মৃত্যু ঘটারও আশঙ্কা রয়েছে। তাই এ ভাইরাস ঠিক কতটা ভয়ংকর, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই ভাইরাস বিশেষ করে বয়স্ক মানুষের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা সংক্রমণ এড়াতে শুধু মাস্ক পরলেই হবে না, সেই সঙ্গে কিছু নিয়মও মানতে হবে। যেমন, নিয়মিত মাস্ক পরিবর্তন করতে হবে। কমিউনিটি সেন্টারসহ লোক সমাগমের স্থান এড়িয়ে চলতে হবে। গণপরিবহন সম্ভব হলে পরিহার করতে হবে। গা ঘেষাঘেষি করে দাঁড়ানো উচিত নয়। করমর্দন করা, বুক মেলানো, কোলাকুলি করা এসব এড়িয়ে চলতে হবে। হ্যান্ডওয়াশ ও গরম পানি দিয়ে বেশি বেশি হাত পরিষ্কার করতে হবে। প্রচুর পানি খেতে হবে। ভিটামিন সি জাতীয় ফলমূল, সবুজ শাক-সবজি ও খাঁটি মধু করোনা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।  বাইরে থাকলে চোখ ও নাক স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। হাঁচি-কাশি দেয়ার সময় রুমাল অথবা টিস্যু দিয়ে মুখ ঢাকতে হবে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কম, কিন্তু সংখ্যাটি আরও অনেক বাড়ার আশঙ্কা আছে। সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে প্রতিরোধের প্রচেষ্টা ব্যাপকভাবে বাড়াতে হবে। এ জন্য ব্যাপক জনসচেতনতা প্রয়োজন। প্রতিরোধের উপায়গুলো সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমে চিকিৎসক-বিশেষজ্ঞদের প্রচুর পরামর্শ প্রকাশিত হচ্ছে। ব্যক্তি, পরিবার, প্রতিষ্ঠান সকল পর্যায়ে সেগুলো মেনে চলার মধ্য দিয়ে আমাদের এই সংকট মোকাবিলায় সচেষ্ট হতে হবে।
যে বিপদ বা সমস্যার মুখোমুখি হতে যাচ্ছি বলে আমরা আশঙ্কা করছিলাম, তা যখন ঘরে হানা দিয়েই ফেলেছে, তখন সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা, আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে তা মোকাবিলার চেষ্টা করাই এ মুহূর্তের কর্তব্য। এ ক্ষেত্রে আমাদের কিছুটা সুবিধা হতে পারে, যদি আমরা সেই সব দেশের অভিজ্ঞতাগুলোর খোঁজখবর  নেই, যারা আমাদের আগে থেকে এ সমস্যা মোকাবিলা করে আসছে।