বৃহস্পতিবার, ০৯-জুলাই ২০২০, ০২:০১ অপরাহ্ন

ট্রাম্পের ডাক্তারি অবশেষে ফেল

shershanews24.com

প্রকাশ : ২৮ মে, ২০২০ ০৯:৫৬ অপরাহ্ন

রহমান বিশ্বাস: করোনা রোগীদের চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ওষুধের ‘ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল' স্থগিত ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা৷ এই ওষুধের ঝুঁকি নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে সংস্থাটি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ 
    করোনা প্রতিরোধে এই ওষুধ নিয়ে শুরু থেকেই উচ্ছাস প্রকাশ করে আসছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প৷  ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন আমদানিও করে তার প্রশাসন৷ দেশের প্রতিটি হাসপাতালে সেই ওষুধ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল৷ এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সতর্কতাও আমলে নেননি ট্রাম্প৷ এমনকি তিনি নিজে নিয়মিত এই ওষুধ খান বলে সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন৷ 
গত মার্চে যখন চীনের উহান থেকে সারা বিশ্বে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছিলো করোনা ভাইরাস সেই সময়ে হঠাৎ করেই ডোনাল্ড ট্রাম্প এই মর্মে ঘোষণা করলেন যে, ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন করোনা চিকিৎসায় খুবই কার্যকর। তিনি এমনভাবে কথাগুলো বলছিলেন যে, করোনা আসলে সংকটজনক কিছু নয়। কিন্ত গত দু’মাসে করোনা মার্কিনীদের উপর মৃত্যুর ঝড় বইয়ে দিয়েছে। এই সময়েও ট্রাম্প বরাবর হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের পক্ষেই সাফাই গেয়েছেন, যদিও এই ওষুধ থেকে ইতিবাচক কোনোই ফল পাওয়া যাচ্ছিলো না। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এমন পাগলামী আচরণের কারণেই যুক্তরাষ্টের নাগরিকদের এমন গণহারে প্রাণ হারাতে হয়েছে। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে করোনায় মৃত্যু সাড়ে তিন লাখ। তারমধ্যে এক লাখই মার্কিন নাগরিক। 
মজার ব্যাপার হলো, ট্রাম্পের উদ্ভট ডাক্তারির কারণে মার্কিনীদের প্রভুত ক্ষতি হলেও লাভ হয়েছে বিশ্বের হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন উৎপাদনকারী ‍ওষুধ কোম্পানিগুলোর। তারা চুটিয়ে ব্যবসা করে নিয়েছে। বাংলাদেশেও এ জাতীয় ওষুধের উৎপাদনকারীদের প্রচুর ব্যবসা হয়েছে। বেশ কিছুদিন এ ওষুধের তীব্র সংকট চলছিল বাজারে। 
অবশেষে চিকিৎসা বিজ্ঞান বিষয়ক গবেষণা জার্নাল ল্যানসেটের সদ্য প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ওষুধটি যারা খাচ্ছেন তাদের মৃত্যু এবং হৃদযন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের চেয়ে বেশি৷ এর প্রেক্ষিতে এবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনার রোগীদের উপর হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের পরীক্ষা নিরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রস আডহানোম গেব্রিয়েসুস সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, করোনা রোগীদের ক্ষেত্রে এই ওষুধের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল তারা বন্ধ রাখবেন৷ কোভিড-১৯ আক্রান্তদের উপর হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন এবং ক্লোরোকুইনের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ থাকায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান সংস্থাটির জরুরি প্রকল্প বিভাগের প্রধান ড. মাইক রায়ানও৷
শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয় এমন অসুখের চিকিৎসায় সাধারণত হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহার করা হয়৷ অন্যদিকে সাধারণত ম্যালেরিয়ার চিকিৎসার জন্য সুপরিচিত৷ চীন এবং ফ্রান্সের প্রাথমিক কিছু গবেণষণায় ওষুধগুলোকে করোনা প্রতিরোধে কার্যকর হিসেবে দেখানো হয়েছিল৷ এরপরই ট্রাম্প প্রশাসন বিপুল পরিমান হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন কিনতে শুরু করে৷ যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট বলসোনারোও দেশটিতে এই ওষুধ ব্যবহারের নির্দেশনা দেন৷ 
তবে ল্যানসেটের প্রকাশিত গবেষণা ওষুধটির ব্যবহার নিয়ে এখন উদ্বেগজনক তথ্যই দিচ্ছে৷ কয়েকশো হাসপাতালে ৯৬ হাজার রোগীর তথ্য নিয়ে গবেষণাটি করা হয়েছিল৷ বিস্তারিত গবেষণায় অবশেষে প্রমাণিত হয় যে, এই ওষুধটি কোভিড আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে হৃদরোগ এবং মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ায়। গবেষণায় দেখা যায় যে, হাসপাতালে ভর্তি অন্য কোভিড রোগীদের তুলনায় যেসব রোগীদেরকে ওই ওষুধটি দেয়া হয়েছিল তাদের মৃত্যুর প্রবণতা বেড়ে যায় কিংবা হৃদস্পন্দনের জটিলতা তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সতর্ক বার্তা উপেক্ষা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বার বারই এই ওষুধের প্রচার করেছেন।
এর আগে তিনি বলেছিলেন যে, তিনি নিজেই করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে এই ওষুধ প্রতিদিন সেবন করেন। কিন্তু গত ২৪ মে রবিবার ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, তিনি আর এটি সেবন করছেন না। 
শুধু এই ওষুধের ব্যাপার নিয়েই নয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একের পর এক উদ্ভট কর্মকান্ডে মার্কিনীরা এ মুহূর্তে অত্যন্ত বিরক্ত। অনেক মার্কিনীই মনে করছেন, ট্রাম্পের একের পর এক খামখেয়ালীপনার কারণেই যুক্তরাষ্ট্র এ মুহূর্তে বিপর্যস্ত। এসব উদ্ভট আচরণ এখনই বন্ধ না হলে ক্ষতির পরিমাণ বাড়তেই থাকবে।