বুধবার, ২৩-সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:৩৮ অপরাহ্ন
  • জেলা সংবাদ
  • »
  • জোরপূর্বক রবিউলের স্বীকারোক্তি, দাবি পরিবারের  

জোরপূর্বক রবিউলের স্বীকারোক্তি, দাবি পরিবারের  

shershanews24.com

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন

শীর্ষনিউজ, দিনাজপুর: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমকে হত্যা চেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার রবিউলের স্বীকারোক্তি জোরপূর্বক নেয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার। একইসঙ্গে স্থানীয়দের দাবি, একটি মহলকে আড়াল করতেই রবিউলকে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে। তাই এ মামলায় উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি চেয়েছেন তারা। 

ইউএনও ওয়াহিদা খানমকে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় প্রথমে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন যুবলীগ নেতা আসাদুল ইসলাম, রংমিস্ত্রি নবীরুল ইসলাম ও সান্টু কুমার রায়। 

৪ সেপ্টেম্বর র‌্যাব কর্মকর্তারা প্রেস ব্রিফিংয়ে জানায়, আসাদুল স্বীকার করেছে সে নিছক চুরি করতে গিয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। পরে আসাদুলসহ অপর দুইজনকে তারা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করলে মামলাটি দিনাজপুর ডিবি পুলিশকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়। ৭ দিনের রিমান্ড শেষে ১২ সেপ্টেম্বর দিনাজপুরে প্রেস ব্রিফিং-এ রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য জানান, আসাদুল নয় রবিউল এই ঘটনায় জড়িত। সে অপরাধের কথা স্বীকার করেছে এবং হামলায় ব্যবহৃত হাতুড়িও উদ্ধার করা হয়েছে। 

এদিকে রবিউলের পরিবারের অভিযোগ-৯ সেপ্টেম্বর রাতে পুলিশ রবিউলকে এবং পরদিন রবিউলের স্ত্রী, ভাই, ও মাকে নিয়ে যায়। পরদিন তাদের ছেড়ে দেয়। ডিবি পুলিশ তাদের উপর বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাপ প্রয়োগ করে ইউএনওকে হত্যার চেষ্টা করেছে, এমন স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করে।

রবিউলের বড় ভাই বলেন, আমরা পরিাবরের সদস্যরা স্বীকারোক্তি দিলে রবিউলকে ছেড়ে দিবে।
 
রবিউলের বাবা বলেন, বিনা দোষে পুলিশ রবিউলকে তুলে নিয়ে গেছে এবং রাতের বেলা স্ত্রী, ভাই ও মাকে তুলে নিয়ে যায়। 
রবিউলের মা সরকারের প্রতি আবেদন করে বলেন, সরকার যেন আমার ছেলেকে আমার বুকে ফিরিয়ে দেয়।

এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুই তারিখ রাতে মাগরিবের নামাজ, এশার নামাজ ও ফজরের নামাজ এক সাথে পড়েছি। কোনো সংগঠন বা এমন কোনো লোকের সাথে আমরা রবিউলকে মিশতে দেখিনি। ২ সেপ্টেম্বর রাতে ও পরদিন সকালেও তারা রবিউলকে গ্রামে দেখেছেন। তাই এটি সাজানো মামলা।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, আমার সন্দেহ হচ্ছে রবিউলকে ফাঁসানোর জন্য এই ঘটনা কিনা। এই ছেলে এ ধরনের কাজ করতে পারে না। প্রায় ৩৬ বছর ধরে ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্ব পালনকালে রবিউলের পরিবারের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে একটিও অভিযোগও পাইনি।

দিনাজপুর জেলার ডিবির ওসি ইমাম জাফর জানান, রবিউল বলছে এলাকায় ছিল। আমরা বলছি রবিউল ঘোড়াঘাট গিয়েছিল। রবিউলের শুধু মুখের কথা নয় আমাদের কাছে ডকুমেন্ট আছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ বিষয়ে এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আরও বলেন, ঘটনার দিন রবিউল সেখানে ছিল। তার সাক্ষ্য প্রমাণ আমাদের হাতে রয়েছে।
অপরদিকে ঘটনাটি তদন্তের জন্য উচ্চ পর্যায়ের কমিটির দাবি জানিয়েছেন পরিবার ও স্থানীয়রা।

শীর্ষনিউজ/এম