সোমবার, ১৮-নভেম্বর ২০১৯, ১১:৩৯ অপরাহ্ন

ঈদের তৃতীয় দিনে সড়কে ঝরলো ১২ প্রাণ

shershanews24.com

প্রকাশ : ০৭ জুন, ২০১৯ ১০:২৭ অপরাহ্ন

শীর্ষকাগজ ডেস্ক: ঈদের তৃতীয় দিনে মাগুরা, কক্সবাজার, বগুড়া, পিরোজপুর, কুষ্টিয়া ও কুয়াকাটায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।
শুক্রবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
কক্সবাজার : ঈদে আনন্দ করতে বের হয়ে কক্সবাজারের টেকনাফে সড়ক দুর্ঘটনায় তিন রোহিঙ্গা সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৭ জন রোহিঙ্গা। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। শুক্রবার দুপুরের দিকে টেকনাফের নোয়াখালী পাড়া মেরিন ড্রাইভ সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- উখিয়া বালুখালীর জি-ব্লকের মোহাম্মদ জুবাইর (১৭), একই শিবিরের সি-ব্লকের মোহাম্মদ ইদ্রিস (৩০) ও নূর মোহাম্মদ (৪০)। অন্যরা উখিয়া বালুখালী ও থাইংখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সদস্য বলে ধারণা করছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, লেগুনায় করে ঘুরতে বের হওয়া একদল রোহিঙ্গা যুবক দুপুর ১টার দিকে টেকনাফের নোয়াখালীপাড়া মেরিন ড্রাইভে পৌঁছান। এসময় তাদের বহনকারী লেগুনাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন।
পরে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সুমন বড়ুয়া ও ড. টিটু চন্দ্র শীল আহতদের তিন জনকে মৃত ঘোষণা করেন।
ড. টিটু চন্দ্র শীল বলেন, দুর্ঘটনায় তিন রোহিঙ্গা সদস্য মারা গেছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ১৭ জন। এদের মধ্যে পাঁচ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় তিন জন রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গাড়িটি জব্দ হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি প্রস্তুতি চলছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিউল হাসান বলেন, ঈদে গাড়ি নিয়ে আনন্দে করতে বের হওয়া একদল রোহিঙ্গা যুবক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। এসময় তিন রোহিঙ্গা সদস্য নিহত হন।
অপরদিকে, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নারীসহ ২ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন। আহতদের চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 
আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে চকরিয়ার খুটাখালী মেধাকচ্ছপিয়া ঢালায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের উত্তর ফুলছড়ি গ্রামের খলিলুর রহমানের স্ত্রী রওশন আরা (৪২) ও ডুলাহাজারা ইউনিয়নের চা বাগান এলাকার দিপক পালের ছেলে সনাক পাল (২৭)।
মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশ সূত্র জানায়, বেলা ১১টার দিকে মহাসড়কের খুটাখালী মইক্ক্যাঘোনার ঢালায় কক্সবাজারমুখী ইউনিক বাসের (চট্টমেট্রো-ব-১৪-১০৪০) সঙ্গে চকরিয়ামুখী মাইক্রোবাসের (চট্টমেট্রো-চ-১১-৪০৮৯) মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ জন নিহত হন। সংঘর্ষে বাস দুটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত) উপ-পরিদর্শক (এসআই) জসিম উদ্দীন দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গাড়ি দুটি জব্দ করা হয়েছে। মরদেহগুলোর সুরতহাল রিপোর্টের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
বগুড়া: বগুড়ায় মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে বাইক আরোহী আইনুর ইসলাম (২০) নামে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। 
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শহরতলীর গোকুল এলাকায় হোটেল মম ইনের সামনের মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 
নিহতের চাচা বজলু শাকিদার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, বগুড়ার গাবতলী উপজেলার নসকরিপাড়া গ্রামের ভিকু প্রামানিকের ছেলে আইনুর ইসলাম বগুড়া শহরে করোনেশন ইনস্টিটিউট অ্যান্ড কলেজের ছাত্র ছিলেন। বৃহস্পতিবার বিকালে আইনুর তার বন্ধুদের সঙ্গে মোটরসাইকেল করে গোকুলে মমত ইন ও ইকোপার্কে বেড়াতে যান। সন্ধ্যার দিকে তারা বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে ওঠার চেষ্টা করেন। এসময় একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে আইনুর গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল  কলেজ  পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আবদুল আজিজ মণ্ডল জানান, দুর্ঘটনার পরপরই নিহত কলেজছাত্র আইনুরের মৃতদেহ তাদের বাড়িতে নেওয়া হয়েছে।
পিরোজপুর: পিরোজপুরের নাজিরপুরে বাসের চাপায় দেড় বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিশুর নাম ইসরাত জাহান। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার চৌঠাইমহল বাসষ্ট্যা-ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ইসরাত উপজেলার শাখারিকাঠী ইউনিয়নের চালিতাবাড়ি গ্রামের ইসরাফিল বেপারীর মেয়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বাবা-মাসহ সঙ্গে ভ্যানে করে তারা গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিল। এ সময় বেপারোয়া গতিতে ঢাকা থেকে আসা পিরোজপুর গামী সেবা গ্রিনলাইন পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৩৯৮৯) একটি বাস ভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়।
এতে ওই ভ্যানে বাবার কোলে থাকা শিশুসহ তারা রাস্তায় ছিটকে পড়েন। এ সময় ওই গাড়ি শিশুটিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলের তার মৃত্যু হয়।
পিরোজপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সরোয়ার জানান, বাসটি আটক করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।
কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে আবু ওহাব (৪৫) নামে অটোরিকশার এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শিশুসহ আহত হয়েছেন আরো পাঁচ জন। 
শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী মহাসড়কের আলাউদ্দিন নগর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। 
নিহত ওহাব কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া এলাকার মৃত আলী হোসেনের ছেলে। তিনি শহরের আল-আমিন গার্মেন্টসে সেলসম্যানের চাকরি করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, যাত্রী নিয়ে একটি অটোরিকশা কুমারখালি থেকে কুষ্টিয়া অভিমুখে আসছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে ছেড়ে আসা বেপরোয়া গতির একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশা যাত্রী আবু ওহাব ছিটকে পড়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান।স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় অটোরিকশায় মায়ের কোলে থাকা মেঘা নামের চার বছরের একটি শিশুসহ পাঁচ জন আহত হয়। মেঘার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অপর ৪জনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। 
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) সঞ্জয় কুমার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সুজন হাওলাদার (৩০) নামে এক আরোহী নিহত হয়েছেন। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন হৃদয় খান (১৬) নামে এক পর্যটক। 
শুক্রবার সকালে সমুদ্র সৈকতের ঝাউ বাগান পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। আহত হৃদয়কে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. জহিরুল ইসলাম জানান, ঝাউ বাগান পয়েন্টে ভাঙা ব্রিজের পিলারে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেল চালক সুজন হাওলাদার (৩০) মারা যান।
এ সময় হৃদয় খান (১৬) নামে এক পর্যটক গুরুতর আহত হন। তাকে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহত সুজন কুয়াকাটা কান্দুপাড়া এলাকার বাসিন্দা হাবিব হাওলাদারের ছেলে। আহত হৃদয় কোটালিপাড়ার মিলন খানের ছেলে।
মাগুরা: মাগুরায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলেসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে শুক্রবার সন্ধ্যায় মাগুরা-ঝিনাইদহ মহাসড়ের আলমখালী বাজার এলাকায় মাইক্রোবাস ও মোটর সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবা-ছেলে নিহত হয়। এ সময় মোটরসাইকেলের অপর এক যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।
নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার লক্ষীকান্দর গ্রামের বিমল সরকারের ছেলে কৃষ্ণ সরকার (৪৫) ও কৃষ্ণ সরকারের ছেলে সাম্য সরকার (আড়াই বছর)।
হাজীপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মো. লিয়াকত হোসেন জানান, মাগুরা থেকে ঝিনাইদহগামী একটি মাইক্রোবাস আলমখালী বাজার এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাবা-ছেলের মৃত্যু হয়।

অপরদিকে সদর উপজেলার পাকা কাঞ্চনপুরে মোটরসাইকেল ও ইঞ্জিনচালিত নছিমন গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে সোহাগ নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানান, দুপুর আড়াইটার দিকে সদর উপজেলার পাকা কাঞ্চনপুর গ্রামের সরু রাস্তায় ইঞ্জিনচালিত একটি নছিমন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই সোহাগ নামে ওই মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়।
শীর্ষকাগজ/প্রতিনিধি/জে