রবিবার, ১৫-ডিসেম্বর ২০১৯, ০৮:৩১ অপরাহ্ন
  • জেলা সংবাদ
  • »
  • নৌকার প্রার্থীকে সমর্থন না করায় মা ও শিশু কন্যাকে মারধর!

নৌকার প্রার্থীকে সমর্থন না করায় মা ও শিশু কন্যাকে মারধর!

shershanews24.com

প্রকাশ : ১৭ জুলাই, ২০১৯ ১০:৪৩ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ, বরগুনা : আসন্ন আমতলী উপজেলার আমতলী সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রার্থী মো. জাহিদুল ইসলাম মিঠু মৃধাকে সমর্থন না করায় মা ও শিশু কন্যাকে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বুধবার সকালে বরগুনার আমতলী উপজেলার আমতলী সদর ইউনিয়নের ছোট নীলগঞ্জ গ্রামে মা সাজেদা বেগম (৩৫) ও শিশু কন্যা ফারজানাকে (১১) মারধর করে নৌকার সমর্থকেরা। আহত মা ও শিশু কন্যাকে স্বজনরা উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন নৌকার প্রার্থী মো. জাহিদুল ইসলাম মিঠু মৃধা। এ মারধরের ঘটনা পারিবারিক দ্বন্দ্ব, এটা নির্বাচনী কোনো দ্বন্দ্ব নয় বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। এ মারধরের ঘটনার বিচারও দাবি করেছেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আমতলী সদর ইউনিয়নের ছোট নীলগঞ্জ গ্রামের ওমর ফারুক ঢাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। তার স্ত্রী সাজেদা বেগম শিশু কন্যা ফারজানাকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে বসবাস করছেন।

আসন্ন আমতলী সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সাজেদা বেগম স্বতন্ত্র প্রার্থী মোতাহার উদ্দিন মৃধাকে সমর্থন করেন।

সাজেদা বেগমের অভিযোগ, এ জন্য আওয়ামী লীগ সমর্থক প্রতিবেশী মো. রশিদ হাওলাদার, গফফার হাওলাদার ও জয়নাল হাওলাদার তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। প্রায়ই তারা (নৌকার সমর্থকেরা) তাদের সামনে গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে।

বুধবার সকালে রশিদ হাওলাদার ও গফফার হাওলাদার স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক সাজেদার বাড়ির সামনে দাড়িয়ে গালাগাল করছিল। এ সময় সাজেদা বেগমের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশু কন্যা ফারজানা তাদের কথার প্রতিবাদ করে।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রশিদ হাওলাদার শিশুটিকে কিল, ঘুষি ও লাথি মারে। শিশুটির চিৎকারে মা সাজেদা বেগম এগিয়ে এলে তাকে গফফার হাওলাদার, জাকির হাওলাদার, পাভেল ও জয়নালসহ ৬-৭ জন মিলে বেধরক মারধর করে।

পরে সাজেদার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ও মোবাইল সেট ছিনিয়ে নিয়ে যায়। দ্রুত স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

আহত শিশু ফারজানা বলে, আমার মা ঘোড়া প্রতীকের সমর্থন করায় রশিদ, জাকির, গফফার, পাভেল প্রায়ই আমার মাকে ঘরের সামনে এসে গালাগাল করে। বুধবার সকালে এসে গালাগাল করলে আমি তার প্রতিবাদ করি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা আমাকে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরেছে। আমাকে রক্ষায় আমার মা এগিয়ে এলে তাকেও তারা বেধরক মারধর করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার গৌরাঙ্গ হাজড়া বলেন, শিশুটির বুকে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মা ও মেয়ের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোতাহার উদ্দিন মৃধা বলেন, নৌকার প্রতীকের লোকজন আমার সমর্থক সাজেদা বেগম ও তার শিশু কন্যাকে মারধর করেছে। সাজেদা আক্তার আমার পক্ষ নেয়ায় মারধর করেছে। কিন্তু একটি শিশুটি কী অপরাধ করেছে? আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

আওয়ামীলীগ প্রার্থী মো. জাহিদুল ইসলাম মিঠু মৃধা তার সমর্থকদের মারধরের কথা অস্বীকার করে বলেন, এটা কোনো নির্বাচনী জের নয়। এটা তাদের পারিবারিক দ্বন্দ্ব। রশিদ হাওলাদার ও ওমর ফারুকের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। পারিবারিক দ্বন্দ্বকে নির্বাচনের দ্বন্দ্ব বলে চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। তিনি আরও বলেন, ওই ছোট শিশুটিকে যারা মারধর করেছে, আমি তাদের বিচার চাই।

আমতলী থানার ওসি মো. আবুল বাশার বলেন, আমি খবর পেয়েছি। মা ও শিশুকে দেখতে আমতলী হাসপাতালে পুলিশ পাঠিয়েছি। অভিযোগ এখনো পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। উল্লেখ্য, আগামী ২৫ জুলাই আমতলী সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন।
শীর্ষনিউজ/এসএসআই