সোমবার, ২৩-সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:৪১ পূর্বাহ্ন
  • জেলা সংবাদ
  • »
  • ময়নাতদন্ত ছাড়া কনস্টেবলের স্ত্রীর লাশ দাফন নিয়ে ভোলায় তোলপাড়

ময়নাতদন্ত ছাড়া কনস্টেবলের স্ত্রীর লাশ দাফন নিয়ে ভোলায় তোলপাড়

shershanews24.com

প্রকাশ : ২৪ আগস্ট, ২০১৯ ০৭:৩১ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ, ভোলা : ভোলার ইলিশা গুপ্তমুন্সি গ্রামের গৃহবধূ জেসমিনের (২৫) মৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ দাফন নিয়ে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। 

অভিযোগ উঠেছে, দুই সন্তানের জননী জেসমিনকে তার স্বামী পুলিশ কনস্টেবল মাকসুদ হত্যা করেছে। পরে স্থানীয় প্রভাবশালীরা সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযুক্ত মাকসুদের দাবি তিনি তার স্ত্রীকে হত্যা করেননি। তার স্ত্রী জেসমিন আত্মহত্যা করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা ইউনিয়নের গুপ্তমুন্সি গ্রামের সরদার বাড়ির নাছির হাওলাদারের মেয়ে জেসমিনের ১২ বছর আগে পার্শ্ববর্তী এলাকার পুলিশ কনস্টেবল মো. মাকসুদের সাথে বিয়ে হয়। বর্তমানে এক মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে তারা ঢাকার মুগদায় বসবাস করছিল। 
গত ১৮ আগস্ট রাতে জেসমিন ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়। প্রথমে মুগদা হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয় তাকে। গতকাল শুক্রবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এদিকে শনিবার সকালে ওই লাশ ভোলায় আনা হলে এলাকার শত শত মানুষ ভিড় করে এবং তাদের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে নিহতের স্বজনরা অভিযুক্ত মাকুসদকে মারধর করে। 

সালিশদার মানিক বাঘা সাংবাদিকদের জানান, নিহত জেসমিনের পরিবারের অভিযোগ জেসমিনকে হত্যা করা হয়েছে। অপর দিকে ছেলে পক্ষের বক্তব্য জেসমিন নিজেই পেটে ছুরি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। লাশ দাফনের আগে এ নিয়ে সালিশ হয়। তাতে সিদ্বান্ত হয় নিহতের দুই সন্তানের নামে ৫ লাখ টাকা ডিপোজিট করা হবে। এছাড়াও ওই পুলিশের যে জমি রয়েছে তা অর্ধেক লিখে দিবে। এসময় মেয়ের চাচা ও ভাই এবং ছেলের চাচা উপস্থিত ছিলেন। 

মানিক বাঘা আরও জানান, লিখিত চুক্তিনামার ওই স্ট্যাম্পে হত্যা বা আত্মহত্যার কথা উল্লেখ না করে জেসমিন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে মারা গেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। স্ট্যাম্পটি এখন তার কাছে রয়েছে বলেও তিনি জানান।

ভোলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাফিন মাহামুদ সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাটি ঘটেছে ৪-৫ দিন আগে ঢাকার মুগদা এলাকায়। তদন্ত সব ঢাকায় হবে। যদি অভিযোগ হয় ঢাকায় হবে। এখানে কিছু নেই। 

ভোলার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল আদালতের পিপি অ্যাড. গোলাম মোর্শেদ কিরণ তালুকদার জানান, ভোলার পুলিশ এ ঘটনা জেনে থাকলে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নিতে পারে।