বুধবার, ০১-এপ্রিল ২০২০, ০২:৫৭ অপরাহ্ন
  • জেলা সংবাদ
  • »
  • ডাকাতি মামলায় ১ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৪ জনের যাবজ্জীবন 

ডাকাতি মামলায় ১ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৪ জনের যাবজ্জীবন 

shershanews24.com

প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০৭:০৩ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ, চাঁদপুর : চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার খেড়িহরে ডাকাতি মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড ও ৪ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ওই রায়ে প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও প্রদান করা হয়েছে।

তবে রায়ের মধ্যে আবুল কাশেমকে পৃথক ধারায় আরও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও নগদ ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তার উভয়দণ্ড একই সময়ে কার্যকর হবে।
সোমবার দুপুরে এ রায় দেন চাঁদপুরের জেলা ও দায়রা জজ মো. জুলফিকার আলী খাঁন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন, মজিবুর রহমান বেপারী। তিনি খেড়িহর পূর্ব পাড়ার মঞ্জুর আহমেদ এর ছেলে। আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হলেন, তার চার সহযোগী মো. আবুল কাশেম, আনোয়ার হোসেন, মাহবুবুর রহমান ও কামাল।

তাদের মধ্যে আবুল কাশেম মৃত হাসমত উল্যাহর ছেলে, আনোয়ার হোসেন মো. চাঁন মিয়ার ছেলে, মাহবুবুর রহমান মৃত আব্দুল্লাহ মাষ্টারের ছেলে। তাদের বাড়ি খেড়িহর গ্রামে এবং কামাল কুমিল্লা মনোহরগঞ্জ থানার নর পাইয়া পূর্ব পাড়ার মৃত শাহ আলমের ছেলে। আসামিদের মধ্যে মজিবুর রহমান, আবুল কাশেম ও আনোয়ার হোসেন পলাতক থাকলেও এই মামলার বাকি দুই আসামি মাহবুবুর রহমান ও কামালের উপস্থিতিতে বিচারক এ রায় দেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০০৭ সালের ২৬ জানুয়ারি রাত আনুমানিক দেড়টায় উপজেলার খেড়িহর গ্রামের মো. ফারুকের বসতঘরে মুখোশধারী একদল ডাকাত ডাকাতি করতে আসে। ওই সময় ঘরে থাকা লোকজন টের পেয়ে ডাক চিৎকার করলে ফারুকের জেঠাতো ভাই তাজুল ইসলাম এগিয়ে আসে। তখন উপস্থিত ডাকাতরা তাজুলকে ইট-পাটকেল মারে এবং গুলি করে হত্যার হুমকি দেয়। ঠিক ওই মুহূর্তে তাজুলের বাবা বুদরুছ ঘরের দরজা খুলে বের হলে ডাকাতরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। ওই সময় ডাকাতের তাণ্ডবে প্রত্যেক পরিবারের লোকজন এলোমেলো অবস্থায় ছুটাছুটি করলে ডাকাতরা ফারুকের ঘরে প্রবেশ করে এবং তার স্ত্রী ঝর্ণা বেগমকে অস্ত্র ঠেকিয়ে স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করে।

অপরদিকে, গুলিবিদ্ধ তাজুল ইসলামের বাবা বুদরুছকে আহত অবস্থায় ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় তাজুল ইসলাম বাদী হয়ে ওইদিনই শাহরাস্তি থানায় ৩৯৬ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহরাস্তি থানা পুলিশের তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক মো. নুরুল আফসার ভুঁইয়া তদন্ত শেষে উল্লেখিত আসামিদের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় ২০০৭ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

সরকারপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. আমান উল্যাহ জানান, মামলায় প্রথমে আসামি ৬ জন থাকলেও আবুল খায়ের নামে একজনকে অব্যাহতি দেয়া হয়। পরববর্তীতে মামলাটি দীর্ঘ প্রায় ১৩ বছর চলমান অবস্থায় ১৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে। মামলার সাক্ষ্য প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে বিচারক ৩৯৬ ও ৪১২ ধারায় আসামিদের পৃথক সাজায় দণ্ডিত করেন।

সরকার পক্ষের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) ছিলেন মোক্তার আহম্মেদ। আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট সেলিম আকবর, আনেয়ার গাজী ও রাজেশ মুখার্জি। 
শীর্ষনিউজ/ এমএম