শুক্রবার, ২৯-মে ২০২০, ০৪:৫২ অপরাহ্ন
  • অর্থনীতি
  • »
  • রাষ্ট্রীয় মদদেই ঋণ খেলাপি তৈরি হচ্ছে: সুজন
খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা

রাষ্ট্রীয় মদদেই ঋণ খেলাপি তৈরি হচ্ছে: সুজন

shershanews24.com

প্রকাশ : ১২ অক্টোবর, ২০১৯ ০৯:৩৫ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ, ঢাকা: দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ তিন লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি বলে দাবি করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। প্রতিষ্ঠানটির দাবি রাষ্ট্রীয় মদদেই এসব ঋণ খেলাপি তৈরি হচ্ছে। অথচ সরকার জেনেশুনেই সমস্যা সমাধানের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করছে না।

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সুজন আয়োজিত ‘ব্যাংকিং খাত নিয়ে উল্টোপাল্টা পদক্ষেপ বন্ধ করুন: ব্যাংকিং সংস্কার কমিশন গঠন করুন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধে এসব দাবি করা হয়। প্রবন্ধটি উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মইনুল ইসলাম।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, সরকারের হিসেব অনুযায়ী ২০১৯ সালের জুন মাস পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণ আছে এক লাখ ১২ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা। এর সঙ্গে যোগ হবে ইনজাংশনের কারণে ঝুলে থাকা ৭৯ হাজার ২৪২ কোটি টাকা। স্পেশাল মেনশন অ্যাকাউন্টে আছে ২৭ হাজার ১৯২ কোটি টাকা এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে রিশিডিউলিং করা আরও ২১ হাজার ৩০৮ কোটি টাকা। এই অঙ্কের সঙ্গে অবলোপন করা মন্দ ঋণ যোগ করলে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ তিন লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছে যাবে।

সুজন-এর সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ইব্রাহীম খালেদ, অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক এমডি আবু নাসের বখতিয়ার, অধ্যাপক আবু সাঈদ ও বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

অধ্যাপক মইনুল বলেন, বর্তমান অর্থমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর খেলাপি ঋণ এক টাকাও বাড়তে দেবেন না বললেও তা সংকটজনক পর্যায়ে চলে গেছে। আইএমএফ ২ লাখ ৪০ কোটি টাকা বললেও প্রকৃত খেলাপি ঋণ ৩ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি।

মইনুল অভিযোগ করে বলেন, ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে তারা বারবার সুযোগ পেয়েছে। এদের অনেকেই ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপি। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা ঋণ ফেরত দেবেন না।

ঋণ খেলাপিদের বর্তমান অবস্থার কথা উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেন, তাদের অনেকেই ব্যাংকের মালিক বনে গেছেন। পরিচালক হিসেবে বছরের পর বছর দুর্দান্ত প্রতাপে ব্যাংকিং খাতকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এফবিসিসিআইয়ের বেশ কয়েকজন সভাপতিও এই রাঘব বোয়াল ঋণ খেলাপিদের তালিকায়।

খেলাপি ঋণের জন্য রাজনীতিকে দোষারোপ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপত্তি এবং আর্থিক প্রতাপ দিয়ে তারা শুধু ব্যাংকিং খাত নয়, দেশের সংসদকেও দখল করে ফেলেছেন। এ দেশের রাজনীতি ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ খেলাপি কালচারকে সযত্নে লালন করছে। সুতরাং সংশোধন শুরু করতে হবে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেই। এ জন্য প্রয়োজন হলে ৩ বছরের জন্য একটি খেলাপি ঋণ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করে শীর্ষ খেলাপিদের বিচারের আওতায় আনা যেতে পারে।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক মইনুল ইসলাম খেলাপি ঋণ কমাতে কতগুলো পরামর্শ দেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- খেলাপি ঋণ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে প্রত্যেক ব্যাংকের শীর্ষ ১০ জন খেলাপিকে দ্রুত শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা। ব্যাংকিং খাতের জন্য আলাদা ন্যায়পাল নিয়োগ, মন্দ ঋণ আদায়ের জন্য ‘ডেট রিকভারি বা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি’ গঠন, অর্থঋণ আদালতে কোনো ঋণ খেলাপির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায় হলে জামানত বা বন্ধকি সম্পত্তি নিলাম করার জন্য মামলা করার যে নিয়ম রয়েছে, তা বাতিল করা, প্রতিটি ব্যাংকের শীর্ষ দশ ঋণ খেলাপি প্রতিষ্ঠানের নাম এক বছরের বেশি তালিকাভুক্ত হলে ওই প্রতিষ্ঠানের মূল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি তার পাসপোর্ট জব্দ করা।
শীর্ষনিউজ/এসএসআই