শুক্রবার, ১৯-জুলাই ২০১৯, ১২:২০ অপরাহ্ন
  • শিক্ষা
  • »
  • ঢাবিতে মানববন্ধন থেকে হানিফের তীব্র সমালোচনায় ছাত্রলীগ নেত্রী

ঢাবিতে মানববন্ধন থেকে হানিফের তীব্র সমালোচনায় ছাত্রলীগ নেত্রী

shershanews24.com

প্রকাশ : ১৫ মে, ২০১৯ ০৬:১২ অপরাহ্ন

শীর্ষকাগজ, ঢাবি : মধুর ক্যান্টিনে পদবঞ্চিতদের ওপর পদপ্রাপ্তদের হামলার ঘটনাকে ছোট ও সাধারণ আখ্যা দেওয়ায় আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের কড়া সমালোচনা করেছেন পদবঞ্চিত শামসুন নাহার হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নিপু ইসলাম তন্বী।

বুধবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এক মানববন্ধনে এ সমালোচনা করেন তিনি। বিতর্কিত কমিটির প্রতিবাদে মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে বোনদের ওপর নির্মম হামলা ও শারীরিক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

নিপু ইসলাম তন্বী বলেন, আর কতটুকু লাঞ্ছিত হলে তাদের মনে হতো যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নারীদের ওপর নির্যাতন হয়েছে? প্রশ্ন ওঠে- আমরা মারা গেলে কি সত্যতা প্রমাণ হতো যে এখানে একটি বিশাল ঘটনা ঘটেছে?

এ সময় ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত দেড়শতাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। যারা নিজেদেরকে সক্রিয় বলে দাবি করেন। মানববন্ধনে আন্দোলনকারীরা ‘জামাত-শিবির ছাত্রদল অনুপ্রবেশকারীদের কমিটি মানি না’, ‘আমাদের বোনদের ওপর হামলা কেন বিচার চাই বিচার চাই’, ‘অবৈধ কমিটি মানি না’, ‘অছাত্রদের আদু ভাইদের কমিটি মানি না’, ‘ক্যাম্পাস থেকে বহিষ্কৃতদের কমিটি মানি না’, ‘বঙ্গবন্ধুর ছাত্রলীগে অছাত্রদের স্থান নেই’, ‘চাকরীজীবী ব্যবসায়ীদের কুটিল কমিটি মানি না’ লিখিত ফেস্টুন প্রদর্শন করেন।

মানববন্ধনে নিপু তন্বী বলেন, সত্যিকার অর্থে বলতে আজকে দুঃখ লাগছে ছাত্রলীগের নিবেদিত প্রাণ হিসেবে মধুর ক্যান্টিনের মতো জায়গায় ছাত্রলীগের কিছু ছোট ও বড় ভাই দ্বারা নির্যাতিত হই, এরপরে কোন মা, বাবা, ভাই, বোন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ করার জন্য তাদের সন্তানকে পাঠাবে না।

নিপু বলেন, ছাত্রলীগের নারী নেত্রীরা বারবার নির্যাতিত হচ্ছে। আর কত নির্যাতন হলে তাদের টনক নড়বে? আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় লোকদের কাছ থেকে আমরা কবে বিবৃতি পাবো বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নারী নেত্রীদের ওপর সত্যিকার অর্থে বিশাল রকমের হামলা হয়েছে। সেটি একটি প্রশ্ন থেকে যায়।

রোকেয়া হলের সভাপতি বি এম লিপি আক্তার বলেন, ‘যাদের কমিটিতে রাখা হয়েছে তাদের ২২জন আগে কোনো পদ ছিল না। অথচ তাদের পদ দেওয়া হয়েছে। আমাদের ছোট পদ দেওয়া হয়েছে বা আমরা পদ না পাওয়ার জন্য আন্দোলন করছি না, বরং কমিটিতে মাদক মামলার আসামি, বিবাহিত, অছাত্র, ছাত্রদল, রাজাকারের সন্তানদের পদ দেওয়া হয়েছে তার জন্য আমরা আন্দোলন করছি।’

ছাত্রলীগ নেত্রী ইফফাত জাহান এশা বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একটা গঠনতন্ত্র আছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কমিটি দেয়া হয়নি। যারা পদ পেয়েছেন গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পাননি। তারা বিবাহিত, ব্যবসায়ী, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। কোনোদিন রাজনীতিতে জড়িত ছিল না, এমন অনেকেই পদ পেয়েছে। যারা কোনো মিছিল-মিটিংয়ে ছিল না তারাও আজ ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে পদ পেয়েছেন। ছাত্রলীগে আজ ফাটল ধরেছে। আমিসহ অন্য হলগুলোর ১৩ জন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদই পাইনি। আমরা আশাহত হয়েছি।

বিতর্কিতদের তালিকা প্রকাশের ঘোষণা: ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে যারা বিতর্কিত তাদের তালিকা প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছে পদবঞ্চিতরা। তারা বলছেন, ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে যেসব অপরাধী, বিতর্কিত ও বিভিন্ন অপকর্মের দায়ে অভিযুক্ত তাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুতই তালিকা প্রকাশ করা হবে।

এ বিষয়ে পদবঞ্চিতদের অন্যতম ও সোহাগ-জাকির কমিটির প্রচার সম্পাদক সাইফ বাবু বলেন, আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছি। যারা বিভিন্ন অপকর্মের দায়ে অভিযুক্ত এবং বিতর্কিত তাদের বিরুদ্ধে আমরা তালিকা তৈরি করছি। দ্রুতই তা সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়ে দেওয়া হবে। এদের সংখ্যা শতাধিক বলে জানান সাইফ বাবু।

যথাসময়েই তদন্ত কমিটির ফল প্রকাশ:
সোমবার পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশের পর সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ছাত্রলীগের দুইটি পক্ষ। পদবঞ্চিতদের বিক্ষোভ মিছিলের নারী নেত্রীদের লাঞ্ছনার ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করতে গিয়ে হামলা করে পদপ্রাপ্তদের একটি পক্ষ। এতে উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহত হন প্রায় ১৫ জনের মতো। এ ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে সময় বেঁধে দেওয়া হয় ৪৮ ঘণ্টার।

তদন্ত কমিটির অগ্রগতির বিষয়ে কমিটির প্রধান ও নব কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, আমরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত কমিটির ফল প্রকাশ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আমরা কাজ শুরু করেছি। যাদের সঙ্গে কথা বলার তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। এটি গুরুত্বসহকারে বিষয়টি দেখা হচ্ছে। আশা করি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে পারব।
শীর্ষকাগজ/এসএসআই