রবিবার, ২২-সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:৫৯ অপরাহ্ন
  • শিক্ষা
  • »
  • ৮ বছর কলেজে না গিয়েও বেতন-ভাতা নিচ্ছেন এমপির স্ত্রী

৮ বছর কলেজে না গিয়েও বেতন-ভাতা নিচ্ছেন এমপির স্ত্রী

shershanews24.com

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১০:৫৮ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ, রাজশাহী : প্রায় আটক বছর ধরে কলেজে যান না রাজশাহীর বরেন্দ্র কলেজের সহকারী অধ্যাপক তসলিমা খাতুন। এ শিক্ষিকার স্বামী রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা তিন মেয়াদে এ আসনের সংসদ সদস্য। দীর্ঘদিন এ কলেজ পরিচালনা কমিটিতেও ছিলেন তিনি।

ফলে এ সুযোগ নিয়েছেন এমপিপত্নী। কলেজে না গেলেও একজন নারীকে ক্লাস নেয়ার জন্য রেখেছেন তিনি। প্রতি মাসে নিয়মিত বেতন-ভাতা তুলে ওই নারীকে সামান্য অর্থ ধরিয়ে দেন এমপিপত্নী। এ শিক্ষিকার এমন কাণ্ডে ক্ষুব্ধ কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তবে শিক্ষিকা প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে রাজশাহী বরেন্দ্র কলেজের এক শিক্ষক বলেন, দীর্ঘ আট বছর ধরে কোনো ক্লাস নেন না তসলিমা খাতুন। ক্লাস নেয়ার জন্য তিনি মিমি নামের একজনকে ঠিক করে রেখেছেন। তসলিমার পরিবর্তে তার ক্লাসগুলো নেন মিমি। বিনিময়ে মিমিকে মাসে ৫-৬ হাজার টাকা দেন তসলিমা। তবে মিমির শিক্ষক নিবন্ধন নেই।

তসলিমা এমপির স্ত্রী হওয়ায় কলেজ কর্তৃপক্ষ ভয়ে কিছু বলে না। এমপির স্ত্রী হওয়ার দাপটে বছরের পর বছর এভাবে বেতন-ভাতা উত্তোলন করে আসছেন তসলিমা খাতুন।

বরেন্দ্র কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীর ভাষ্য, আমরা ওই শিক্ষিকাকে নামেই চিনি। কিন্তু কখনো ক্লাসে পাইনি তাকে। গত কয়েক বছর তাকে কলেজে দেখিনি আমরা।

নাম প্রকাশ না করে রাজশাহীর একজন প্রবীণ কলেজশিক্ষক বলেন, কোনো শিক্ষক ছুটিতে গেলে কলেজ কর্তৃপক্ষ তার ক্লাস নেয়ার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করতে পারেন। তবে তাকে নিবন্ধিত শিক্ষক হতে হবে। কিন্তু নিজে অনুপস্থিত থেকে একজন অনিবন্ধিত শিক্ষক দিয়ে ক্লাস নেয়া নিয়মবহির্ভূত।

তিনি আরও বলেন, কলেজে হাজির না হয়ে বেতন-ভাতা উত্তোলন অবৈধ। এমপির স্ত্রী তসলিমা খাতুন যদি সেটি করে থাকেন তবে তার বিরুদ্ধেও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এ নিয়ে কোনো ব্যবস্থা না নেয়া হলে এ সুযোগ আরও অনেকেই নেয়ার চেষ্টা করবে। এতে শিক্ষা ব্যবস্থা কলুষিত হবে। এ ব্যাপারে জানতে মুঠোফোনে অধ্যাপক তসলিমা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে কলেজের অধ্যক্ষ আলমগীর মো. আব্দুল মালেক বলেন, সহকারী অধ্যাপক তসলিমা খাতুন নিয়োমিত কলেজে আসতে পারেন না। এজন্য তিনি একজনকে ঠিক করে দিয়েছেন তার ক্লাস নেয়ার জন্য। তবে মাঝেমধ্যে কলেজে আসলে ক্লাস নেন তসলিমা খাতুন। 
শীর্ষনিউজ/এসএসআই