শনিবার, ১৯-অক্টোবর ২০১৯, ১২:২৬ অপরাহ্ন
  • শিক্ষা
  • »
  • ছাত্রদল-ছাত্রলীগের স্লোগানে উত্তাপ মধুর ক্যান্টিন 

ছাত্রদল-ছাত্রলীগের স্লোগানে উত্তাপ মধুর ক্যান্টিন 

shershanews24.com

প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০৪:০৩ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ, ঢাকা: দীর্ঘ পাঁচ বছর পর নতুন কমিটি হয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের। নবনির্বাচিতদের নেতৃত্বে আজ রোববার প্রথম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিনে আসেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। কিন্তু এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের স্লোগানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যদিও অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা ঘটেনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাবি শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সকাল ১১টার আগে মধুর ক্যান্টিনে আসেন। তাঁরা আসার পরপরই সংগঠনটির নেতাকর্মীরা এসে মধুর ক্যান্টিন দখলে নেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
পরক্ষণেই সোয়া ১১টার দিকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মধুর ক্যান্টিনে আসেন। তাঁরা আসার সময় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।
এ সময় ছাত্রলীগের শীর্ষ চার নেতার সমর্থকরা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। তখন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও বিভিন্ন স্লোগানে মাতিয়ে তোলেন মধুর ক্যান্টিন। এ সময় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।


দুপুর পৌনে ১২টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে মধুর ক্যান্টিনের বাইরে আসেন ছাত্রদলের নেতারা। এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাঁদের পিছু পিছু বের হয়ে নানা ধরনের কটূক্তিমূলক স্লোগান দেন। তবে ছাত্রলীগের শীর্ষ চার নেতাকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের প্রতি ত্যক্ত হতে দেখা যায়নি।
মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রলীগের এই চড়াও হওয়ার বিষয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল বলেন, ‘আপনারা দেখছেন, আমাদের উদ্দেশে কীভাবে উসকানিমূলক স্লোগান হচ্ছে। তাঁরা ঢিল মারছেন। আমরা যখন ঢাবিতে তাঁদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক করতে গেছি, আমরা সেই সহযোগিতা পাইনি।’
কার্যকর সহাবস্থান এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ দাবি
শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচন শেষ হওয়ার পর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ঢাবি ক্যাম্পাসে কার্যকর সহাবস্থান এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ছাত্রদল। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শ্যামল বলেন, ‘ক্যাম্পাসে সহাবস্থান আছে। কিন্তু পূর্ণাঙ্গভাবে সেটি নেই। আমরা উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করব। এবং নতুন কমিটির প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে এ বিষয়েই আলোচনা করব।’
ছাত্রদল নেতা আরো বলেন, ‘বর্তমানে ঢাবিতে সীমিত আকারে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিরাজ করছে। যেমন, মধুর ক্যান্টিনের সামনে আপনাদের সামনে কথা বলছি। কিন্তু সেটা পর্যাপ্ত না। আমাদের হল পর্যায়ে সহাবস্থান নেই। ভিন্নমত ধারণ করার কারণে সাধারণ ছাত্ররাও হল পর্যায়ে থাকতে পারছে না। গতকাল গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠনের (ছাত্রলীগ) হামলা হয়েছে। যারা ভিসির সমর্থক।’
ইকবাল হোসেন শ্যামল বলেন, ‘আমরা বলতে চাই, নগর পুড়িলেও দেবালয় এড়ায় না। এ দেশের সাধারণ ছাত্ররা এ দেশের জনগণেরই একটি অংশ। এ দেশে বর্তমানে একটি অগণতান্ত্রিক পরিবেশ বিরাজ করছে। এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও সেই পরিবেশের ধারাবাহিকতা বিরাজ করছে। আমরা সাধারণ ছাত্র-জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পড়াশোনা করি। ছাত্রসমাজের অধিকারের বিষয়ে আমরা ছাত্রদল সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করব।’
এ সময় ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন বলেন, ‘ছাত্রদল সব সময় সাধারণ ছাত্রদের অধিকার নিয়ে কথা বলে। তাদের নিয়ে কাজ করেছে। গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমস্যা হচ্ছে। সেখানে আমরা প্রথম ছাত্রদের অধিকার নিয়ে কাজ করব। আমরা অলরেডি কাজ শুরু করেছি। আর আপনারা এর বাস্তবায়িত রূপ দেখতে পাবেন।’
খোকন আরো বলেন, ‘বর্তমানে ঢাবিতে যেসব ছাত্র সংগঠন ঘুরে বেড়ায়, কিন্তু এখানে কোনো গণতান্ত্রিক পরিবেশ নেই। সহাবস্থান কিছুটা থাকলেও পুরোপুরি নেই। সে কারণে কৌশলগত কারণ হিসেবে আমরা ভিন্ন পথ অবলম্বন করি। যেমন কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন এবং ভ্যাট আন্দোলনে আমরা সরাসরি অংশগ্রহণ না করলেও আমাদের সাহায্য-সহযোগিতা ছিল।’ 
শীর্ষনিউজ/জে