শনিবার, ১৯-অক্টোবর ২০১৯, ১১:০৪ পূর্বাহ্ন
  • শিক্ষা
  • »
  • সেই উপাচার্যের একদিনের চায়ের খরচ ৪০ হাজার টাকা!

সেই উপাচার্যের একদিনের চায়ের খরচ ৪০ হাজার টাকা!

shershanews24.com

প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০৪:২৭ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ, খুলনা: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের একদিনের চা ও নাস্তায় খরচ হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। গেল বছর স্থানীয়দের সঙ্গে ছাত্রদের এক বিরোধের সময় ছয়-সাতজনকে চা আপ্যায়নে খরচ দেখিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক শিক্ষার্থীরা। 
গতকাল শনিবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন তারা। 
গতকাল শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে খুলনা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক শিক্ষার্থীদের ফোরাম। ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন পালনের পর প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবির বালু মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা।
সংবাদ সম্মেলনে এক লিখিত বক্তব্যে বশেমুরবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র সম্রাট বিশ্বাস অভিযোগ করেন, উপাচার্য খোন্দকার নাসির উদ্দিন দুর্নীতিবাজ ও বিভিন্ন লুটপাটসহ নারী কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত। তার এসব দুর্নীতি নিয়ে যে শিক্ষার্থীই মুখ খুলেছেন তাকেই বহিষ্কার করেছেন তিনি। 
উপাচার্যের দুর্নীতির প্রমাণ হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ও শহীদ মিনার স্থাপনের জন্য দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। অথচ বাস্তবে এ ম্যুরাল এখনো তৈরিই হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন কোনো ম্যুরালের অস্তিত্ব নেই।
সম্রাট বিশ্বাস আরও অভিযোগ করেন, গ্রামবাসীর সঙ্গে ছাত্রদের বিরোধের সময় ছয়-সাতজনকে চা আপ্যায়ন বাবদ ৪০ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। একইভাবে ছাত্রকল্যাণ ফান্ড থেকে এক লাখ টাকা অ্যাপায়ন বিল দেখানো হয়েছে।
ভারতের হায়দরাবাদ থেকে গাছ আনার কথা বলে গাছ যশোর থেকে এনেছেন এবং কোনো শিক্ষার্থী এসব ঘটনার প্রতিবাদ করলে তাকে বহিষ্কার করা হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার হয়েই খুলনার মেধাবী ছাত্র অর্ঘ্য আত্মহত্যা করেছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। 
এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গতকাল শনিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হলেও আজ রোববার ৫ম দিনের মতো আন্দোলনে সরব রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। রোববার সকাল থেকে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান করে বিক্ষোভ করছেন। 
এর আগে শনিবার থেকে আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে প্রশাসন এবং শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে উপাচার্যের অপসারণ বা পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত যে পন্থাই প্রশাসন হাতে নিক না কেন আন্দোলন চলবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। 
এদিকে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন। হলের বিদ্যুৎ, পনি বন্ধ করে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে শিক্ষার্থীরা হল না ছেড়ে ক্যাম্পাসেই অবস্থান  নেয়। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। শনিবার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। 
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছেন, উপাচার্য সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে তাদেরকে পিছু হঠাতে চেষ্টা করছেন। শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে পদত্যাগ করেছেন সহকারী প্রক্টর হুমায়ুন কবির। আর অচলাবস্থা নিরসনে কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী।  
উল্লেখ্য, গত ১১ সেপ্টেম্বর ফেইসবুকে স্ট্যাটাসের জের ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদক ফাতেমা-তুজ-জিনিয়াকে সাময়িক বহিষ্কার করে কর্তৃপক্ষ। বহিষ্কারের বিষয়ে দেশ ব্যাপি সমালোচনা হলে গত বুধবার সন্ধ্যায় তার বহিষ্কারাদেশ তুলে নেয় প্রশাসন। তবে বুধবার রাতেই উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
পরে বুধবার রাতেই ১৪টি সমস্যার সমাধান করার কথা উল্লেখ করে একটি বিজ্ঞপ্তিও দেয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। 
জানা যায়, নারী কেলেঙ্কারী, ভর্তি ও নিয়োগ দুর্নীতি, প্রকল্প দুর্নীতি, বাকস্বাধীনতা হরণ, শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে না পারা, আবাসন সংকট, বৃক্ষরোপনসহ বিভিন্ন খাতের মাধ্যমে অর্থ লোপাট, গুন্ডাবাহিনী তৈরিসহ নানা বিষয়ে উপাচার্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
শীর্ষনিউজ/জে