বুধবার, ২৬-সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১:১৪ পূর্বাহ্ন
কয়লা পাচার ধামাচাপার চেষ্টা

এবার পাথর গায়েব কেলেঙ্কারি

Shershanews24.com

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০৯:১২ অপরাহ্ন

শীর্ষকাগজের সৌজন্যে: কয়লার পর এবার লাখ লাখ টন পাথরও খেয়ে ফেলেছে দুর্নীতিবাজরা। দিনাজপুর বড়পুকুরিয়া খনির কয়লা পাচার কেলেঙ্কারির তদন্তের মধ্যেই দিনাজপুরের পার্বতীপুর মধ্যপাড়া খনি থেকে ৩ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন পাথর গায়েব হওয়ার তথ্য ফাঁস হয়েছে। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৫৬ কোটি টাকা। দেশের একমাত্র পাথর খনি মধ্যপাড়া মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের পাথরের স্টকে হিসাবের গরমিল দেখা দেয়ায় উদ্বিগ্ন সংশ্লিষ্টরা। তবে কয়লা খনি কর্তৃপক্ষের মতো পাথর খনির কর্মকর্তারাও একই কথা বলছেন। তাদের ভাষায়, ‘পাথর উধাও হয়নি, সিস্টেম লস।’ এ ছাড়া, মধ্যপাড়া পাথর খনিতে ১২ বছরে ৪৭২ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। ঘাটতি পাথরের মূল্য এর সঙ্গে যোগ করা হলে এই লোকসানের পরিমাণ আরও বাড়বে। 
এদিকে পাচার হওয়া দেড় লাখ টন কয়লার ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। প্রকৃত দুর্নীতিবাজ ও কয়লা পাচারে জড়িত মূল হোতাদের আড়াল করতে নানা তৎপরতা শুরু হয়েছে। তবে মামলায় অভিযুক্ত কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুদক। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত খনির ১১ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অন্যদেরকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে। কিন্তু একটি প্রভাবশালী মহল ভেতরে ভেতরে পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তৎপর রয়েছে। এ ক্ষেত্রে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেই সাথে থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ার আশঙ্কায় দিনাজপুরের গডফাদার খ্যাত স্থানীয় এক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী এবং তার মেয়ে জামাইসহ ওই পরিবারের সদস্যরা কয়লা কেলেঙ্কারি ধামাচাপা দেয়ার তৎপরতায় জড়িত বলে জানা গেছে। সচেতন দেশবাসীর দাবি, কয়লা পাচার ও পাথর গায়েব কেলেঙ্কারিতে জড়িত নেপথ্যের নায়কদের মুখোশ জাতির সামনে উম্মোচন করার। সেই সাথে এসব কেলেঙ্কারিতে জড়িত পর্দার আড়ালের মূল হোতাদেরসহ দুর্নীতিবাজদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিও তাদের। 
পাথর কেলেঙ্কারি  
গত ২৯ জুলাই মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের বোর্ড সভায় পাথর গায়েব হওয়ার বিষয়টি উত্থাপিত হয়। একই দিনে বিষয়টি তদন্তের জন্য পেট্রোবাংলার একজন মহাব্যবস্থাপককে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে কাগজ-কলমে প্রায় ৫৬ কোটি টাকা মূল্যের তিন লাখ ৬০ হাজার টন পাথর গায়েবের তথ্য উঠে আসে। কিন্তু পাথর গয়েবের ঘটনায় পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন খনি কর্মকর্তারা। খনি কর্মকর্তাদের মধ্যে যারা পাথর গায়েবে জড়িত, তারা দায় এড়াতে বলছেন, ‘পাথর ঘাটতি নেই, ইয়ার্ডে অবিক্রয়যোগ্য অবস্থায় পড়ে আছে।’ 
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সাল থেকে খনিতে বাণিজ্যিকভাবে পাথর উত্তোলন শুরু হয়। চলতি বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত খনি থেকে পাথর উত্তোলন হয়েছে ৪১ লাখ ৭৫ হাজার ৭১০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে ২০১৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত বর্তমান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসি পাথর উত্তোলন করেছে ২১ লাখ ৬১ হাজার মেট্রিক টন। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি ও পাচারের কারণে অবশেষে এখন মজুতে ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৮১৬ মেট্রিক টন পাথর ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তবে বর্তমান হিসাবের সঙ্গে অনেক পার্থক্য দেখা দিয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে। 
সূত্র বলছে, এর আগেও খনিতে প্রথম পাথর মজুতে ঘাটতি দেখা দিয়েছিল ২০১২ সালে। এ নিয়ে খনির মার্কেটিং বিভাগ ও প্রশাসন বিভাগ একে অপরকে দোষারোপ করেছে। সে সময় ২ লাখ ২৭ হাজার মেট্রিকটন পাথর ঘাটতি দেখা দেয়। কিন্তু এ ঘটনায় সেই সময় তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও তদন্ত প্রতিবেদন আজও আলোর মুখ দেখেনি। ঘটনাটি সে সময় ধামাচাপা পড়ে যায়। 
২০১৬-২০১৭ অথর্বছরে আবারো পাথরের ঘাটতি দেখা দিলে খনির পরিচালনা পর্ষদের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। ওই সময়ে পরিচালনা পর্ষদ খনির মহাব্যবস্থাপক (মার্কেটিং) আবু তালেব ফরাজিকে প্রধান করে ৫ সদস্যর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। মহাব্যবস্থাপক আবু তালেব ফরাজির নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটি পাথর লুটপাটের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার কৌশল অবলম্বন করে। পাথর ঘাটতি সম্পর্কে এক অদ্ভুত যুক্তি দেখায়। তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়, পরিমাপগত ভুল ও পদ্ধতিগত (সিস্টেম লস) ঘাটতির কারণেই মজুতে পাথর ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই যুক্তি দেখানো হয় ২০১২ সালে গায়েব হওয়া পাথর সম্পর্কেও। আর এভাবে পুরো পাথর দুর্নীতিই ধামাচাপা পড়ে যায়। এতে দুর্নীতিবাজরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ব্যাপকহারে চলে লুটপাট ও পাচার। অবশেষে এখন নতুন করে ৩ লাখ ৬০ হাজার টন পাথর লুটের কাহিনী ফাঁস হলো।
সূত্র বলছে, অবৈধ পন্থায় এই বিশাল পরিমাণের পাথর পাচার হয়েছে খনির মজুত থেকেই। এর সঙ্গে খনির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা, ব্যবসায়ীদের একটি গ্রুপ ও ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় একটি প্রভাবশালী পরিবার সরাসরি জড়িত। সরেজমিনে খনিতে গিয়ে দেখা গেছে, ১১টি ইয়ার্ডের মধ্যে মাত্র ৫টি ইয়াডে পাথর আছে। বাকি ৬টি ইয়াডের পাথর গায়েব করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে খনির মহাব্যবস্থাপক (অপরেশন) আসাদুজ্জামানের দাবি, ইয়াডগুলো ৪ থেকে ৫ ফুট গভীর ছিল, যা পাথর দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। এগুলোর প্রত্যেকটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ প্রায় ৫০০ ফুট। যে পরিমাণ পাথর ঘাটতি রয়েছে, তা এই ইয়াডের মধ্যে বিক্রি অযোগ্য হয়ে পড়েছে বলে তিনি দাবি করেন। 
এদিকে, এক বছরের মধ্যে লাখ লাখ টন পাথর ইয়ার্ডে ডেবে যাওয়ার কথা ‘হাস্যকর’ বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ন্যায় এই পাথরও দুর্নীতির মাধ্যমে পাচার করা হয়েছে। খনির কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পাথর উত্তোলনের যে চুক্তি হয়েছে, সেই চুক্তির পদ্ধতিতে দুর্নীতির অনেক সুযোগ রয়েছে। যা কাজে লাগিয়ে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রছায়ায় পাথর পাচার করা হয়েছে।’  পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, কোরিয়ান নামনাম কোম্পানি ২০০৬ সালে খনি থেকে পাথর উত্তোলন শুরু করে। কিন্তু আশানুরূপ পাথর উত্তোলন না হওয়ায় লোকসানের দিকে যায়। লোকসানের হাত থেকে রক্ষা করতে পাথর উত্তোলন বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেয় পেট্রোবাংলা। ২০১৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর এ জন্য জার্মানিয়া ট্রাস্ট কনসোর্ডিয়ামের (জিটিসি) সঙ্গে প্রতিদিন ৫ হাজার মেট্রিকটন করে পাথর উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ৬ বছরে ৯২ লাখ মেট্রিকটন পাথর উত্তোলনের চুক্তি করা হয়। জিটিসি ২০১৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন শুরু করে। বতর্মানে খনিটিতে প্রতিদিন সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৪৮০০ মেট্রিকটন পাথর উত্তোলন হচ্ছে। এরই মধ্যে খনি থেকে ৩ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিকটন পাথর উধাও হওয়ার ঘটনা ঘটল।
কয়লা গায়েবের ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টা
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ২৩০ কোটি টাকার প্রায় দেড় লাখ টন কয়লা গায়েব হয়ে যাওয়ার পর এখন ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। বলা হচ্ছে, কয়লা খনি কর্তৃপক্ষ আসলে ভুল তথ্য সংরক্ষণের কারণে দেড় লাখ টন কয়লা না থাকার ঘটনা ঘটেছে। জ্বালানি সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম খনি পরিদর্শন করতে গিয়ে গত ২৭ জুলাই সাংবাদিকদের বলেছেন, “বড়পুকুরিয়া খনির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বাস্তবে মজুদ কম থাকার পরও বেশি মজুদ দেখিয়েছিলেন। কাগজে-কলমে যে পরিমাণ কয়লার মজুদ উল্লেখ করা হয়েছে বাস্তবে তা দেখাতে পারেননি খনির কর্মকর্তারা। যদি কয়লা চুরি হওয়ার ঘটনা ঘটে থাকে তবে তা প্রতিষ্ঠানের লোকজনের মাধ্যমেই ঘটেছে। তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে। তদন্তে চুরি প্রমাণিত হলে দায় প্রতিষ্ঠানের সবাইকে নিতে হবে।” এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিদ্যুৎ সচিব আহমেদ কায়কাউস, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আবুল মনসুর মো: ফয়জুল্লাহ ও পিডিবির চেয়ারম্যান খালিদ মাহমুদ। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আবুল মনসুর মো. ফয়জুল্লাহ বলেছেন, “কয়লা ঘাপলা করে যারা কষ্টের সম্মুখীন করেছেন তাদের বিষয়টি কোনোভাবেই হালকা করে দেখার উপায় নেই। শিগগিরই একটি টেকনিক্যাল তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তারা কারিগরিসহ কোথাও কাজের গাফিলতি আছে কি না তা খতিয়ে দেখবে।” 
বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি সচিব ও পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের বক্তব্যে কয়লা পাচারে জড়িতদের বাঁচিয়ে দেয়ার একটা ইঙ্গিত রয়েছে। কারণ, যেখানে দুদকসহ সব তদন্তে প্রাথমিকভাবে কয়লা গায়েবের প্রমাণ মিলেছে। সেখানে ‘যদি’ প্রশ্নটি আসছে কেন? তাছাড়া প্রমাণ হলে ‘প্রতিষ্ঠানটির সবাইকে দায় নিতে হবে’ এমন বক্তব্যও রহস্যজনক। কারা কয়লা পাচারে জড়িত তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কর্তৃপক্ষের। সুতরাং দায় সবার ঘাড়ে চাপানোর হুমকি দিয়ে প্রকৃত পক্ষে যাতে সত্য প্রকাশ না পায়, কর্মকর্তারা যারা কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত নেই, তারা যাতে মুখ না খোলেন, সেজন্যই সচিব এমন হুমকি দিয়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা এও বলছেন যে, শুধু খনি কর্মকর্তাদের পক্ষে কয়লা পাচার করা সম্ভব হয়নি। কয়লা পকেটে করে নেয়ার জিনিসও না। এর সঙ্গে অপর পক্ষও জড়িত। পর্দার আড়ালের সেই গডফাদারদের মুখোশ উম্মোচন করতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। দুদক মামলার তদন্ত করছে। এর আগে তদন্তে প্রভাব ফেলতে পারে এমন কথা কেউ বললে, বুঝতে হবে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চক্রান্ত আছে। মূল দুর্নীতিবাজদের আড়াল করার জন্যই এই তৎপরতা। এমনকি প্রভাবশালী মহল থেকে দুদকের তদন্তও প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই রাতে খনির সদ্য বিদায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমেদসহ ১৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। পার্বতীপুর মডেল থানায় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আনিছুর রহমান বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ আইনের ৫(২) এবং ৪০৯ ধারায় এ মামলাটি হয়। যেহেতু মামলাটি দুদকের তফশীলভুক্ত। তাই পুলিশ মামলার নথিপত্র দুদকের কাছে হস্তান্তর করে। মামলাটির তদন্ত চলছে। যার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে গত ২১ জুলাই দুদকের প্রাথমিক তদন্তেই বিশাল দুর্নীতির বিষয়টি ধরা পড়ে। 
এদিকে, বৈঠক ও পরিদর্শন শেষে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমদ কায়কাউস জানান, বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ থাকায় দিনাজপুরসহ রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় ভোল্টেজ ব্যালান্স সমস্যা হচ্ছে। ৮টি জেলায় ১০০ থেকে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে। তাই এক থেকে দেড় ঘণ্টা করে লোডশেডিং দেয়া হচ্ছে। 
সাবেক ৩ এমডিসহ ১১ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ 
কয়লা খনি কেলেঙ্কারির ঘটনায় করা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ৩ ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)সহ ১১ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর মধ্যে গত ১৬ আগস্ট ৭ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। এরা হলেন- খনির মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড কন্ট্রাক্ট ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের উপ-মহাব্যবস্থাপক নাজমুল হক, কোল হ্যান্ডলিং ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপক শোয়েবুর রহমান ও সহকারী ব্যবস্থাপক মাহবুব রশিদ, প্রডাকশন ম্যানেজমেন্টের উপ-ব্যবস্থাপক সাঈদ মাসুদ ও সহকারী ব্যবস্থাপক মো. মনিরুজ্জামান, মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড অপারেশনের উপ-ব্যবস্থাপক মাহাবুব হোসেন ও ব্যবস্থাপক (স্টোর) দিদারুল কবির। এর আগে ১৪ আগস্ট কয়লা খনির তিন সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)সহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। তারা হলেন- সাবেক এমডি আমিনুজ্জামান, প্রকৌশলী খুরশিদ হাসান, প্রকৌশলী কামরুজ্জামান ও সাবেক জিএম (মাইনিং) মিজানুর রহমান। গত ১ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটির সাবেক এমডি এসএম নুরুল আওরঙ্গজেবকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এছাড়াও খনির বর্তমান জিএম (সারফেস ও অপারেশন) সাইফুল ইসলাম সরকারকে ১৩ আগস্ট প্রায় ৪ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অপরদিকে সাবেক এমডি মাহবুবুর রহমান ও সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এবং সাবেক জিএম হিসাব (মাইনিং) মীর আবদুল মতিনকে গত ৩০ জুলাই দুদকে তলব করা হলেও তারা হাজির না হয়ে সময়ের আবেদন করেন।   
বিএনপি যা বললো
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, “বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নিজে দায়িত্বে রয়েছেন। লাখ লাখ টন কয়লা গায়েবের দায় তিনি এড়িয়ে যেতে পারেন না। দেশে গণতন্ত্র থাকলে প্রধানমন্ত্রী এত বড় কেলেঙ্কারির দায়ে পদত্যাগ করতেন।” দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেছেন। দেশে এখন ‘গায়েবি শাসন চলছে’ মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, “চারদিকে এখন শুধু গায়েবের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। এ দেশে মানুষ গায়েব হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ গায়েব হয়। সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের লাখ লাখ কোটি টাকা গায়েব হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্ট থেকে সোনা গায়েব হয়। সোনা গায়েব হয়ে মিশ্র ধাতুতে পরিণত হয়। শেয়ার বাজারের টাকা গায়েব হয়। এখন অমূল্য সম্পদ দেশের খনি থেকে লাখ লাখ টন কয়লাও গায়েব হয়ে গেছে। এ নিয়ে এতো আলোড়ন তৈরি হলেও সরকার তা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে।” 
(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ২৭ আগস্ট ২০১৮ প্রকাশিত)