বৃহস্পতিবার, ১৮-জুলাই ২০১৯, ০৮:০৩ অপরাহ্ন
  • এক্সক্লুসিভ
  • »
  • বেনাপোল কাস্টমসে ঘুষ, দুর্নীতি চাঁদাবাজির মহোৎসব

বেনাপোল কাস্টমসে ঘুষ, দুর্নীতি চাঁদাবাজির মহোৎসব

shershanews24.com

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল, ২০১৯ ১০:০৩ অপরাহ্ন

সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের সৌজন্যে: রীতিমতো ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজির মহোৎসব চলছে বেনাপোল কাস্টমসে। নানা ফন্দিতে শুল্ক চুরির ঘটনা যেমন রয়েছে তেমনি ঘুষ আদায়ও হচ্ছে নানা উছিলায়। শুল্ক ফাঁকি দিতে অভিনব জালিয়াতির আশ্রয়ও নিচ্ছে কাস্টমসের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা। সূত্র জানায়, ভারত থেকে আমদানি পণ্যের বড় বড় চালান শুল্ক ফাঁকি দিয়েই দেশে প্রবেশ করছে কাস্টমস কর্মকর্তাদের যোগসাজশে। এমনকি যেসব পণ্যের শুল্ক বেশি সেসব পণ্য আমদানি করেও নাম পরিবর্তন করে কম শুল্কের পণ্য আমদানির তথ্য নথিভুক্ত করা হয় শুল্ক ফাঁকি দেয়ার জন্য। এভাবে সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে অসাধু আমদানিকারক ও দুর্নীতিবাজ কাস্টমস কর্মকর্তারা।
সম্প্রতি এরকম কয়েকটি চালান বেনাপোল বন্দর থেকে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স দেওয়ার পর বিজিবির হাতে ধরা পড়েছে। এরকম আরো একটি চালান গত ১৩ মার্চ সরাসরি বেনাপোল বন্দরে কাগজপত্র বিহীন চলে আসে ভারত থেকে। যাকে বলা হয় কাস্টমসের সহযোগিতায় সরাসরি চোরাচালান। প্রায় কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির পণ্যচালান বিজিবির হাতে ধরা পড়ায় তা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য এ চালানটি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ লোক দেখানোর জন্য আটক করে। চালানটির দাবিদার কেউ নেই বলে ঘোষণা দেন বেনাপোল কাস্টম কমিশনার বেলাল চৌধুরী। মূলত নিজেদের দুর্নীতি জালিয়াতি ধামাচাপা দিতেই চালানটির কোনো দাবিদার নেই বলে প্রচার চালাচ্ছেন কমিশনার। অথচ আটক ওই চালানের প্রতিটি কার্টুনে আমদানিকারকের নাম লেখা ছিল। কাস্টমস কমিশনার মালিকবিহীন চোরাচালানী পণ্য ও ভারতীয় ট্রাক নিলামে বিক্রি করার ঘোষণা দিয়েছেন। কীভাবে ভারত থেকে কোটি টাকার এই পণ্য সরাসরি বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করল সে বিষয়টি তদন্ত না করে আগবাড়িয়ে নিলামে বিক্রির ঘোষণায় কাস্টমস কমিশনার বেলাল চৌধুরীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্টরা। তবে ওই ট্রাকে অন্য আরো তিনটি বৈধ চালান ছিল বলে কাস্টমসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। 
জানা গেছে, বেনাপোলের কয়েকটি ব্যাংকের পক্ষ থেকে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পিকনিকের নামে চাঁদাবাজি করার অভিযোগ তোলা হয়েছে। তারা জানান, কাস্টমস এর একজন সহকারী কমিশনার স্বাক্ষরিত চিঠিতে পিকনিকে যাওয়ার জন্য ব্যাংকগুলোর কাছে সহযোগিতা চাওয়া হয়। এরপর কাস্টমস এর লোক এসে ৫ থেকে ১০ হাজার পর্যন্ত টাকা চাঁদা আদায় করে নিয়ে যায় বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেছেন একটি ব্যাংকের ম্যানেজার। শুধু এই পিকনিকই নয়, প্রায়ই বিভিন্ন উপলক্ষ্য দেখিয়ে তাদের ওপর চাঁদা আরোপ করেন কাস্টমস কর্মকর্তারা, অভিযোগ ওই ম্যানেজারের।
এদিকে বেনাপোল চেকপোস্টে পাসপোর্ট যাত্রী হয়রানি এবং ঘুষ আদায়ের কাজে রয়েছে কয়েকজন কাস্টমস এআরও। এরমধ্যে বিজন ওরফে টাক বিজন, খাদেমুল ওরফে ট্যারা খাদেম আছাদুজ্জামান ওরফে পান আছাদ উল্লেখযোগ্য। পাসপোর্টধারী যাত্রী ভারত থেকে প্রবেশ করলে স্ক্যানিংয়ের পরও এই চক্রটি যাত্রীদের ধরে টানাহেঁচড়া করতে থাকে টাকার জন্য। তাদের সঙ্গে আনা পণ্য আটক করা হবে এমন ভয়ভীতিসহ শুল্ক আইনের বাইরে গিয়ে হয়রানি করে টাকা আদায় করে। অপরদিকে ভারতীয় ব্যবসায়ী পাসপোর্টযাত্রীরা প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার জুতা, স্যান্ডেল, বিভিন্ন স্পট ক্রিম, সনপাপড়ি, চকলেটসহ কসমেটিক্স পণ্য আনে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে। এরা এসব পণ্য (এআরও) কাস্টমস এর সহযোগিতায় সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রবেশ করায়। এসব ঘুষ-দুর্নীতির সঙ্গে বেনাপোল কাস্টমসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি জড়িত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এসব বিষয়ে কাস্টমস এর ডেপুটি কমিশনার জাকির হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘প্রমাণসহ ধরিয়ে দেন আমি ব্যবস্থা নেব।’ 
তাকে বলা হলো- এসব কাজ করার জন্য আপনিই তো সাংবাদিকদের প্রবেশ নিষেধ করেছেন কীভাবে ধরিয়ে দেব? পাসপোর্ট যাত্রীরা প্রতিদিন হাজার হাজার লোকের সামনে দিয়ে ভারতীয় পণ্য এনে বেনাপোলস্থ নাভারনে বিক্রি করছে এটাইতো বড় প্রমাণ। 
এর জবাবে প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, আমি ব্যস্ত আছি, পরে কথা বলব।
(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ৮ এপ্রিল ২০১৯ প্রকাশিত)