শনিবার, ২৪-আগস্ট ২০১৯, ০৭:৫৮ অপরাহ্ন
  • এক্সক্লুসিভ
  • »
  • বেনাপোল বন্দরে শ’ শ’ কোটি টাকার শুল্ক চুরি: ৬ মাসে রাজস্ব ঘাটতি ৬০৪ কোটি টাকা 

বেনাপোল বন্দরে শ’ শ’ কোটি টাকার শুল্ক চুরি: ৬ মাসে রাজস্ব ঘাটতি ৬০৪ কোটি টাকা 

shershanews24.com

প্রকাশ : ২৪ মে, ২০১৯ ০৬:০৮ অপরাহ্ন

সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের সৌজন্যে: দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানির মাধ্যমে শুল্ক চুরির ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। মিথ্যা ঘোষণা ও ঘোষণার অতিরিক্ত পণ্য আমদানি করে সরকারকে শ’ শ’ কোটি টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। যে কারণে পর পর কয়েকটি অর্থ বছরেই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে বেনাপোল কাস্টমস। চলতি অর্থ বছরের প্রথম ৬ মাসে বেনাপোল বন্দরে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬০৪ কোটি টাকা। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। খবর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রের।
সূত্রমতে, সবচেয়ে বেশি ফাঁকি হচ্ছে এ্যাসোটেড জাতীয় পণ্য আমদানির বেলায়। এক শ্রেণির অসাধু আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ীরা এই কাজ করছেন। অভিযোগ রয়েছে, শুল্ক ফাঁকির কাজে এদেরকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছেন কাস্টমস হাউজের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা। শুল্ক চুরি চক্রের সাথে দুর্নীতিবাজ কর্তাদের রয়েছে গভীর সখ্যতা। আর দুর্নীতির সাথে যারা জড়িত নন, তাদের ওপর চলে আইনের খড়গ। এ কারণেই বন্দরে শুল্ক ফাঁকি বা চুরি কোনভাবেই বন্ধ হচ্ছে না। ধস নামছে সরকারের রাজস্ব আদায়ে। প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে।
সূত্র জানায়, আমদানিকৃত পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশের পর কাস্টমস এর দুটি স্পেশাল টিম সমস্ত মালামাল শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেয়ার নিয়ম। প্রশ্ন হচ্ছে, শতভাগ কায়িক পরীক্ষার পরেও কীভাবে বিভিন্ন চালানে ঘোষণার অতিরিক্ত এবং মিথ্যা ঘোষণার পণ্য পাওয়া যায়। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, একাধিক কাস্টমস কর্মকর্তাসহ আই.আর.এম ও স্পেশাল এ্যাসাইমেন্ট গ্রুপের (স্যাগ) বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। এদের সাথে কাস্টমসের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা নেপথ্যে কাজ করেন বলে অভিযোগ। নানা তেলেসমাতিতে শুল্ক ফাঁকির কারণে বেনাপোল বন্দর থেকে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ধস নেমেছে চলতি অর্থ বছরে। এই অর্থ বছরের প্রথম ৬ মাসেই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বেনাপোল বন্দরে আমদানি পণ্য থেকে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা। প্রথম ৬ মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৬৪৯ কোটি টাকা। এ ক্ষেত্রে  আদায় হয়েছে মাত্র ২ হাজার ৪৪ কোটি ৮৪ লাখ  টাকা। ঘাটতি রয়েছে ৬০৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা। কাস্টমস কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে শুল্ক ফাঁকির প্রবণতা ব্যাপকহারে বেড়ে যাওয়ায় এ বছর রাজস্ব আদায়ে অনেক পিছিয়ে পড়েছে বেনাপোল।
জানা যায়, দেশে ২৩টি স্থলবন্দরের মধ্যে চলমান ১৩টির অন্যতম বেনাপোল স্থলবন্দর। ১৯৭২ সাল থেকে এ পথে ভারতের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক লেনদেন চলছে। প্রতিবছর এ বন্দর দিয়ে ভারত থেকে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার পণ্য আমদানি হয়ে থাকে। যা থেকে সরকার প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পেয়ে থাকে। 
প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে পণ্য আমদানির জন্য দেশে যতগুলো বন্দর রয়েছে তার মধ্যে বৃহত্তম স্থলবন্দর হলো বেনাপোল। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজের কারণে প্রথম থেকে এ পথে বাণিজ্যে আগ্রহ বেশি দেখা যায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে। এর কারণ যেদিন ব্যাংকে ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয় সেইদিন থেকে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই আমদানিকৃত পণ্য বন্দরে প্রবেশ করে। এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থাটা দেশের অন্য যেকোন বন্দরের তুলনায় উন্নত। বেনাপোল থেকে কোলকাতার দূরত্ব মাত্র ৮৪ কিলোমিটার। সে কারণে ভারত থেকে দেশের প্রায় ৮০ ভাগ আমদানি পণ্য এই বন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করে। এই সুবিধা পেয়ে দেশের অধিকাংশ ব্যবসায়ী বেনাপোল বন্দর দিয়ে মালামাল আমদানি করে থাকেন।
বন্দরের সূত্রগুলো জানায়, পণ্য আমদানির বেলায় এই বন্দরে চলে নানা অনিয়ম। কখনও পণ্য আমদানিতে মিথ্যা ঘোষণা আবার ঘোষণার অতিরিক্ত পণ্য এনে সরকারের শুল্ক ফাঁকি দেয়া হয়। আর এসব কাজে মোটা অংকের টাকা পেয়ে সহযোগিতা করে থাকেন এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ শুল্ক কর্মকর্তা। এতে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও লাভবান হচ্ছেন দুর্নীতিবাজ আমদানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী আর কাস্টমস কর্মকর্তারা।
বেনাপোল বন্দরের একাধিক সূত্র বলছে, এই বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানিতে ব্যাপকহারে শুল্ক ফাঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। কাস্টমস হাউজের শীর্ষ এক কর্মকর্তা ও কাস্টমস হাউজের উচ্চ পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তার প্রশ্রয়ে এবং দায়িত্বরত কাস্টম কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় শুল্ক ফাঁকি দেয়া হচ্ছে বলে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। কর্তার ইচ্ছায় কর্ম- বলেই মিথ্যা ঘোষণা ও ঘোষণার অতিরিক্ত পণ্য আমদানি কোনভাবেই বন্ধ হচ্ছে না। এসব পণ্য বন্দরে আসার পর অনেক পণ্যই শুল্ক ছাড়াই চলে যাচ্ছে। বন্দরে আমদানি-রফতানি পণ্যের নিরাপত্তায় তিনটি সংস্থা আনসার, প্রেমা ও আর্মস ব্যাটালিয়ন পুলিশ মিলে প্রায় তিন শতাধিক নিরাপত্তাকর্মী রয়েছে। তারপরেও বেনাপোল বন্দর থেকে কাস্টমস পণ্য খালাস দেওয়ার পর বিজিবি সেই চালান আটক করে অবৈধ পণ্য পাচ্ছে। কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষ সরাসরি জড়িত বলেই বন্দর থেকে অবৈধ পণ্য বের হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। 
সম্প্রতি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বিল্লাল হোসেনের মালিকানাধীন তৃণা এসোসিয়েটস আমদানিকৃত তিন গাড়ি পণ্য বন্দরের ৩৭ নম্বর শেডে খালাস করা হয়। যা বাংলাদেশি ৫ টি ট্রাকের সমান হবে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কাস্টমসের গোয়েন্দা বিভাগ পণ্য চালানটি আটক করে। লাইসেন্সটি শার্শার বিল্লাল হোসেনের হলেও এটি (লাইসেন্স) ভাড়ায় খাটে বোয়ালিয়ার জনৈক শরিফুলের কাছে। সূত্র মতে, আটক পণ্য চালানে বিপুল পরিমাণ ঘোষণা বহির্ভূত এবং ঘোষণার অতিরিক্ত পণ্য ছিলো। সরকারের প্রায় দেড় কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির ঘটনা ধরা পড়ে। এর আগে মিতা ট্রেড লিঙ্ক নামের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের একটি পণ্য চালান আটক হয়। মিতা ট্রেড লিঙ্ক লাইসেন্সের মালিক নারায়ণগঞ্জের অজিত সাহা হলেও লাইসেন্সটি বেনাপোলে ভাড়ায় খাটে। বেনাপোলের একজন জনপ্রতিনিধি এটি ভাড়ায় নিয়ে ব্যবহার করে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এর আগে, গত ৯ জুলাই দুটি কাভার্ডভ্যান আটক করে বিজিবি। যশোরের রাজারহাট থেকে এই ট্রাক দুটি আটক করা হয়। পরে মালামালসহ ট্রাক ২টি যশোর কোতয়ালি থানায় জমা করে বিজিবির পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়। এই ট্রাকে থাকা পণ্যের আমদানিকারক ঢাকার বেগম বাজার এলাকার মেসার্স তানিসা এন্টারপ্রাইজ। আর বেনাপোল থেকে এসব পণ্য ছাড় করায় বেনাপোলের সুজন চেম্বার। ঘোষণা বহির্ভূত ও ঘোষণার অতিরিক্ত পণ্য ছিল ট্রাক দুটিতে। এভাবেই পণ্য আমদানি করা হয় বলে সূত্র জানায়। এমনকি কর্তাদের সাথে রফা করে ফিটকিরির ঘোষণায় বিপুল শাড়ি, থ্রিপিস ও কসমেটিকস আমদানির ঘটনাও ঘটেছে এই বন্দরে। সূত্র জানায়, বন্দরের কয়েকটি শেড থেকে এসব পণ্য আনলোড ও লোড হয়। এসব সেডের ইনচার্জরা এই অপকর্মের সাথে জড়িত বলে অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট বন্দর কর্তৃপক্ষের এক হিসাবে জানা যায়, এই বন্দরে গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৯৯টি শুল্ক ফাঁকির ঘটনা ঘটেছে। যা থেকে শুল্ক আদায় করেছে ২১ কোটি ৭০ লাখ ৯ হাজার ১২৫ টাকা।
এর আগে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এখানে শুল্ক ফাঁকির ঘটনা ঘটেছিল ১১৪টি, যা থেকে শুল্ক আদায় করা হয় ৩১ কোটি ৯৮ লাখ ৪ হাজার ৩৯৪ টাকা এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে শুল্ক ফাঁকির ঘটনা ঘটেছিল ১৮১টি। যা থেকে সরকার শুল্ক আদায় করেছিল ১৫ কোটি ৬৩ লাখ ৪১ হাজার ১৯৩ টাকা। অভিযোগ রয়েছে, বেনাপোল কাস্টমস-বন্দরের কতিপয় কর্মকর্তা, সিএন্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারকদের যোগসাজশে এই মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য আমদানি বাড়ছে। কিন্তু সেই তুলনায় ধরা পড়ছে অত্যন্ত কম।
বেনাপোল কাস্টমসের শুল্ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জুলাই মাসে ৫টি শুল্ক ফাঁকির ঘটনা ধরা পড়ে। যা থেকে জরিমানা আদায় করা হয় ১ কোটি ১৯ লাখ ৯ হাজার ৩৭৯ টাকা, আগস্টে ৬টি শুল্ক ফাঁকির ঘটনা উদঘাটন করে জরিমানা আদায় করা হয় ১ কোটি ৬১ লাখ ২২ হাজার ৫১০ টাকা, সেপ্টেম্বরে ৫টি শুল্ক ফাঁকির ঘটনা থেকে আদায় হয় ৭২ লাখ ৬৫ হাজার ৯৮৬ টাকা, অক্টোবরে ৭টি ঘটনা থেকে আদায় হয় ১ কোটি ৯২ লাখ ৬২ হাজার ৭৫১ টাকা, নভেম্বর মাসে ৫টি শুল্ক ফাঁকির ঘটনা থেকে আদায় করা হয় ১ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ৬৬৮ টাকা, ডিসেম্বর মাসে ৭টি শুল্ক ফাঁকির ঘটনা থেকে আদায় হয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ৭ হাজার ৯৭৯ টাকা, জানুয়ারি মাসে ৭টি শুল্ক ফাঁকির ঘটনা থেকে আদায় করা হয় ১ কোটি ৯৮ লাখ ৬৬ হাজার ৭৬৬ টাকা, ফেব্রুয়ারি মাসে ৫টি শুল্ক ফাঁকির ঘটনা থেকে আদায় হয় ১ কোটি ১৪ লাখ ২৮ হাজার ১৩০ টাকা, মার্চ মাসে ৯টি শুল্ক ফাঁকির ঘটনা থেকে ২ কোটি ৯৬ লাখ ৫ হাজার ৮৯৬ টাকা আদায় করা হয়, এপ্রিল মাসে ৯টি শুল্ক ফাঁকির ঘটনা থেকে আদায় করা হয় ৩ কোটি ৩৮ লাখ ৯১ হাজার ৮৮৩ টাকা, মে মাসে ৯টি শুল্ক ফাঁকির ঘটনা থেকে আদায় করা হয় ২ কোটি ৪৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮২৭ টাকা এবং জুন মাসে ৭টি শুল্ক ফাঁকির ঘটনা থেকে আদায় করা হয় ৬০ লাখ ৫৪ হাজার ৮২৯ টাকা।
এই চিত্রে দেখা যায়, প্রতিমাসেই শুল্ক ফাঁকি চক্র তাদের মিশনে তৎপর। ফাঁকফোকর খুঁজে তারা সুযোগ তৈরির চেষ্টায় মরিয়া। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, কিছু ফাঁকির ঘটনা ধরা পড়লেও আরো অনেক ঘটনাই চোখের আড়ালে থেকে যায়। শুল্ক ফাঁকির এসব তৎপরতা রোধ সম্ভব হলে সরকারের রাজস্ব আরো কয়েক হাজার কোটি টাকা বেড়ে যেতো।
উল্লেখ্য, সদ্যসমাপ্ত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বেনাপোল বন্দরে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি ছিল ১৭৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ইমিটেশন জুয়েলারি, ফেব্রিক্স, মোটর পার্টসসহ এই জাতীয় পণ্যের বিপরীতে শুল্ক আদায় করা হয় কেজিতে। যেমন সাধারণ ইমিটেশনে প্রতি কেজিতে শুল্ক দিতে হয় ৩৬৩ টাকা, উন্নতমানের (সিটি গোল্ড) বেলায় দিতে হয় ৬০৫ টাকা, আর কাপড়, মোটরপার্টস এগুলোর বেলায়ও পণ্যের প্রকারভেদে শুল্ক দিতে হয়। এক্ষেত্রে পণ্যের কার্টনের ওজন ও প্রকৃত পণ্যের ওজনে হেরফের দেখিয়ে অভিনব কায়দায় কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে এই বন্দরে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের যুগ্ম সম্পাদক জামাল হোসেন বলেন, শুল্ক ফাঁকি বা মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য আমদানির সাথে সরাসরি কতিপয় কাস্টমস কর্মকর্তা জড়িত। তাদের সম্মতি ছাড়া শুল্ক ফাঁকির ঘটনা ঘটতে পারে না। তিনি বলেন, সিএন্ডএফ এজেন্ট শুধুমাত্র মাল ছাড় করানোর দায়িত্ব পালন করে। শুল্ক চুরি মূলত আমদানিকারক ও কাস্টমস-বন্দরের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে হয়ে থাকে।
যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান খান বলেন, মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানির পক্ষে আমরা নই। তবে এসব ঘটনার সাথে অবশ্যই কাস্টমসের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে শুল্ক ফাঁকি হতে পারে না। শুল্ক চুরি রোধে কাস্টমসকে আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে।
(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ৬ মে ২০১৯ প্রকাশিত)