শুক্রবার, ১৯-জুলাই ২০১৯, ০৪:৩৯ অপরাহ্ন
  • এক্সক্লুসিভ
  • »
  • দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের অপরিকল্পিত ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ
সরকারের শ’ শ’ কোটি টাকা অপচয় ও লুটপাট

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের অপরিকল্পিত ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ

shershanews24.com

প্রকাশ : ০৬ জুন, ২০১৯ ০৯:৩০ পূর্বাহ্ন

সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের সৌজন্যে: ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মহারাজপুর ও কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়নকে বিভক্ত করে রেখেছে সিরিষকাঠ খাল। এই দুই ইউনিয়নকে সংযুক্ত করতে ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে প্রায় ৩১ লাখ টাকা ব্যয়ে খালটির উপর ৪০ ফুট দৈর্ঘ্য একটি ব্রিজ নির্মাণ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর। তবে ওই ব্রিজটি কার্যত এখন পর্যন্ত দুই ইউনিয়নবাসীর কোনো কাজেই আসেনি। কারণ ব্রিজটির সংযোগ সড়কই নেই। ফলে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ নিশ্চিতভাবেই জলে গেছে। জানা যায়, মহারাজপুর ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রাম পার হয়ে ডেফলবাড়িয়া গ্রামে আসতে সিরিষকাঠ খালটি পড়ে। নির্মিত ব্রিজ ও খালের ১০০ গজ পূর্ব দিকে আব্দুলের বাড়ির কাছে সরকারি রাস্তাটি শেষ হয়েছে। এরপর রেকর্ডে আর কোন রাস্তা নেই। ডেফলবাড়িয়া গ্রামের যে অংশে ব্রিজটি শেষ হয়েছে সেখানে একটি পুকুর ও বাঁশ বাগান বিদ্যমান। কোন রাস্তার চিহ্ন নেই। অথচ রাস্তাবিহীন স্থানে একটি ভুয়া প্রকল্প বানিয়ে ব্রিজ করা হয়েছে। ডেফলবাড়িয়া গ্রামের তোতালেব মন্ডল অভিযোগ করেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর গায়ের জোরে এই ব্রিজ নির্মাণ করেছেন, যা এখন কোন কাজেই আসছে না। তিনি বলেন, ব্রিজের সংযোগ সড়ক বের করতে হলে তাদের মালিকানাধীন পুকুর ভরাট করতে হবে। অনেক গাছপালা ও কবরস্থান সরাতে হবে। কিন্তু তারা রাস্তার জন্য জমি দিবেন না। স্থানীয় বাসিন্দা ছানারুদ্দীন জানান, ব্রিজের মাথায় তাদের ৫ শরীকের ৩৫ শতক জমি আছে। সেখানে বাড়িঘর ও গোরস্থান রয়েছে। রাস্তার জন্য জমি দিলে তাদের বাড়িঘর ভাঙতে হবে। কিন্তু তাদের বসবাসের আর কোন জায়গা নেই। বিষয়টি নিয়ে মহারাজপুর ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য জালাল উদ্দীন জানান, নির্মিত ব্রিজটি নির্মাণের ফলে মানুষের কোন কাজেই আসছে না। অথচ যেখানে ব্রিজ করা দরকার সেখানে করা হয়নি। এটি একটা ভুল পরিকল্পনা বলেও তিনি মন্তব্য করেন। মহারাজপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবু বকর জানান, ব্রিজের পশ্চিম দিক দিয়ে রাস্তা করার জন্য তিনি স্থানীয় এমপির কাছে বরাদ্দ চেয়েছিলেন। তিনি বরাদ্দ দিতেও চেয়েছিলেন। কিন্তু আর চেয়ারম্যান হতে পারেননি বলে কাজটি থেমে গেছে। “রাস্তা আগে হবে, নাকি ব্রিজ আগে হবে? রাস্তা নির্মাণ হলেই তো ব্রিজের প্রয়োজন হবে, তাহলে আগেই কেন ব্রিজ নির্মাণ করা হলো?” এসব প্রশ্নের উত্তর আবু বকরের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি।
শুধু ঝিনাইদহেই নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এরকম অসংখ্য অপরিকল্পিত ব্রিজ, কালভার্ট ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। ঝিনাইদহের সংযোগ সড়কবিহীন ব্রিজটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অপরিকল্পিত এসব কর্মকা-ের একটি নমুনা মাত্র। এ থেকেই বোঝা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের প্রকল্পগুলো কতটা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা লুটপাট ও অপচয়ের মধ্যে ডুবে আছে।
জানা যায়, সারাদেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর কর্তৃক নির্মিত বেশিরভাগ অবকাঠামোই নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে তৈরি হয়। ফলে খুবই কম সময়ের জন্য সেগুলো স্থায়ী হয়। শুধু তাই নয়, কোথাও কোথাও নির্মাণাধীন ব্রিজ কালভার্ট নির্মাণের আগেই ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। সূত্র জানায়, এসব অবকাঠামো নির্মাণে যা বরাদ্দ হয় তার বেশিরভাগই বিভিন্নভাবে লুটপাট হয়ে থাকে। বিশেষ করে অপ্রয়োজনীয় বা অপরিকল্পিত হলেও দেশের পল্লী অঞ্চলে এসব ব্রিজ কালভার্ট নির্মাণের মূলে থাকে লুটপাটের উদ্দেশ্য। 
১৯৭৪ সাল থেকে পল্লী এলাকায় বিভিন্ন অবকাঠামো তৈরি করে আসছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। তবে তা পরিকল্পিত না হওয়ায় অবকাঠামোগুলোকে আরো টেকসই ও মানসম্পন্ন করার লক্ষ্যে পল্লী অঞ্চলে কার্যক্রম শুরু করে এলজিইডি। পরবর্তীতে আইন করে পল্লী ও গ্রামীণ এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়নে কর্তৃত্ব দেয়া হয় এলজিইডিকে। এসব এলাকায় যেকোনো অবকাঠামো নির্মাণে অনুমোদন এবং সার্বক্ষণিক তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেয়া হয় এলজিইডির হাতে। এ আইনকে পাশ কাটিয়ে পল্লী এলাকায় কোনো রকম সমীক্ষা, বিশেষজ্ঞ দলের অনুমোদিত নকশা ছাড়াই শুধু স্থানীয় এমপি, ইউপি বা উপজেলা চেয়ারম্যানের চাহিদা অনুযায়ী একের পর এক ছোট ছোট সেতু-কালভার্ট তৈরি করছে ত্রাণ মন্ত্রণালয়। পল্লী উন্নয়নের নামে এ ধরনের অপরিকল্পিত প্রকল্প নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এ ধরনের প্রকল্পকে সরকারি অর্থের অপচয় বা লুটপাট হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক শামসুল হক বলেন, অবকাঠামো নির্মাণে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কোনো বিশেষজ্ঞ লোকবল নেই। তাই পল্লী এলাকায় এ ধরনের যেসব অবকাঠামো তৈরি হচ্ছে, তার গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন থাকে। মাটি পরীক্ষা ছাড়াই কীভাবে অবকাঠামো নির্মাণ সম্ভব, তা আমার বোধগম্য নয়।
যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাপক দুর্নীতি-লুটপাটের কারণে এলজিইডির কাজের মানেরও চরম অধপতন ঘটেছে। কিন্তু সঠিক মনিটরিংয়ের মাধ্যমে লুটপাট বন্ধ করা গেলে এলজিইডির কাছ থেকে ভালো কাজ আদায় করা সম্ভব। যেহেতু প্রকৌশলীসহ পর্যাপ্ত জনবল তাদের আছে। যা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ বিভাগের নেই।
সড়কবিহীন সেতুতে সয়লাব
মাঝ নদীতে নির্মাণ করা হয়েছে সেতু। দুই পাশে নেই সংযোগ সড়ক। তাই সেতুটি কোন কাজেই আসছে না এলাকাবাসীর। ময়মনসিংহ সদর উপজেলার রামভদ্রপুর গুচ্ছগ্রাম এলাকার খড়িয়া নদীর ওপর নির্মাণ করা হয় সেতুটি। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় বর্ষাসহ অন্য সময়ে ফুলপুর ও সদর উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ নৌকায় বা পানি ভেঙ্গে নদীটি পার হন। সদর উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, পরিষদের রাজস্ব তহবিলের অর্থে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। ৩০ ফুট দৈর্ঘ্য সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয় প্রায় আট লাখ টাকা। নকলা, ফুলপুর ও সদর উপজেলার কয়েক হাজার মানুষের চলাচলের সুবিধার কথা বলেই নির্মাণ করা হয় সেতুটি। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটি নদীর মাঝে নির্মাণ করা হয়েছে। তাই নির্মাণের পর থেকেই সেতুটি অকেজো।
দুই পাশে সংযোগ সেতু ছাড়াই গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার তুমিলিয়া এলাকায় একটি সেতু নির্মাণ করে ত্রাণ মন্ত্রণালয়। স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতায় সেতুটি নির্মাণ করা হয়। শুধু লুটপাট আর প্রভাবশালী মহলের চাহিদা মেটাতেই পল্লী অঞ্চলে অপ্রয়োজনীয়, মানহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার ঘাঘর ইউনিয়নের রতাল গ্রামে সড়ক ছাড়াই একটি খালের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে সেতু। ঘাঘর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সামনের এ সেতুর এক প্রান্ত গোপালগঞ্জ-কোটালীপাড়া-পয়সারহাট সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত। আর অন্যপ্রান্তে প্রায় দুই কিলোমিটারজুড়ে ফসলের মাঠ। সেখানে পায়ে হাঁটার পথও নেই। এ পথে মানুষের চলাচল না থাকায় সেতুটি কোন কাজেই আসছে না বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। কোটালীপাড়া উপজেলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এ সেতুর নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করেছে। যদিও সেতুটির সংযোগ সড়ক নির্মাণের কোন ব্যবস্থা নেই। 
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ভরিপাশা গ্রামে খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে, যার দুই পাশে ফসলি জমি। সেতুর আধা কিলোমিটারের মধ্যেও কোন সড়ক নেই। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের সেতু কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের বরাদ্দে ৩৬ ফুট দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয় ২৯ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। এলাকার কয়েকজন বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের সেতু/কালভার্ট প্রকল্পের আওতায় কেশবপুর ইউনিয়নে বেশ কয়েকটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। অন্য ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ স্থান বাদ দিয়ে কেশবপুর ইউনিয়নের অগুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রাধান্য পেয়েছে। 
পাবনার সাঁথিয়া ও সুজানগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কোন সংযোগ সড়ক ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছে বেশ কয়েকটি সেতু। এসব সেতু নির্মাণে সরকারের অনেক অর্থ ব্যয় হলেও স্থানীয় জনগণ তার কোন সুফল পাননি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সুজানগর উপজেলার ঘোড়াদহ ও রামকান্তপুর গ্রামের সীমান্তবর্তী এলাকায় কোন রাস্তা ছাড়াই মাঠের মধ্যে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। রাস্তাবিহীন ওই সেতুটি এলাকাবাসীর কোন কাজেই আসছে না। বরং এ সেতুর কারণে এলাকাবাসীর চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
নাটোর থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা যায়,  নাটোরে গত কয়েক বছর দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে অন্তত ১৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যায়ে বেশ কয়েকটি ব্রিজ নির্মিত হয়েছে। কিন্তু ব্রিজগুলো কাজে আসেনি জনসাধারণের। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে নির্মিত এসব ব্রিজের সংযোগ সড়ক না করেই টাকা তুলে নেন বেশিরভাগ ঠিকাদার। অভিযোগ রয়েছে, যেখানে সেখানে অপ্রয়োজনীয় ব্রিজ নির্মাণ, নদীর গতিপথ বন্ধ এবং সঙ্কুচিত করে নির্মাণ করা হয়েছে ব্রিজগুলো। 
জানা যায়, মানুষ মাঠে যাওয়া-আসা করেন জমির আইল দিয়ে। নেই কোনো সড়ক। তবু সেখানেই নির্মাণ করা হচ্ছে সংযোগ সেতু। রাজশাহীর তানোরে প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে খাড়ির ওপর ছয়টি সেতু নির্মাণ কাজের প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সংযোগ সড়ক ছাড়া শুধু সেতু নির্মাণ করায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। তাদের বক্তব্য, এ সেতু স্থানীয় মানুষের কোনো কাজে আসবে না। 
পটুয়াখালী’র বাউফলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে নির্মাণাধীন ৩০টি ব্রিজের দরপত্রে অনিয়ম ও নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠে ২০১৬ সালে। এরপর ওই ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়। এই তদন্তেরও বাস্তবে কোনো ফল পাওয়া যায়নি।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ইউনিয়ন পর্যায়ে বরাদ্দকৃত এলজিইডির সড়ক ও স্থানীয় খালের ওপর ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে করা সেতুগুলোয় বছর না যেতেই রেলিং ভেঙে পড়ে ২০১৭ সালে। উপজেলার দেবই কাজীরবাগ এলাকায় নাগদা খালের ওপর ২০ ফুট দীর্ঘ এ সেতুতে ফাটল দেখা দেয়। একই প্রক্রিয়ায় ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে জামালপুর-রানীগঞ্জ জিসি সড়কের কলাপাটুয়া-রাতকানা গ্রামের শিয়ালী খালের ওপর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে একটি সেতুর কাজ শুরু করেন বেনজির আহমেদ নামে এক ঠিকাদার। সেতুটির একপাশে এলজিইডির পাকা সড়ক থাকলেও অন্য পাশে কোনো সড়ক নেই। এ অবস্থায় সেতুটির কাজ শুরুর কিছুদিন পরই তা বন্ধ করে দেন ঠিকাদার।
বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন
সারাদেশে এরকম সেতুর সংখ্যা অসংখ্য। নদী, খাল কিংবা বিলের মাঝখানে সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। সড়কের কোন পরিকল্পনা হয়নি। যদিও এরকম সেতুর সঠিক কোন পরিসংখ্যান নেই। দুর্যোগ ও ত্রাণ বিভাগের কর্মকর্তারাও এ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারছেন না। প্রকৌশলী ও স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংযোগ সড়ক ছাড়াই সেতু নির্মাণের পেছনে নানামুখী কারণ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় রাজনীতিকদের চাপ ও প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তাদের লুটপাটের প্রবণতা। ফলে নির্মিত সেতু মানুষের উপকারে আসে না। এছাড়া সড়কের পরিকল্পনা ছাড়াই সেতু নির্মাণ, আর্থিক বরাদ্দ কাজে না লাগানোর মানসিকতা, প্রয়োজনীয় জমি না পাওয়া, মামলা সংক্রান্ত জটিলতা, ঠিকাদারসহ সরকারী সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনিয়ম দুর্নীতিই সমস্যার মূল কারণ। সঙ্কট সমাধানে সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, জনপ্রতিনিধিদের উচিত রাষ্ট্রীয় অর্থ যেন অপচয় না হয় সেদিকে খেয়াল রেখে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। সেই সঙ্গে সড়কের পরিকল্পনা ছাড়া সেতু নির্মাণে অনুমতি না দেয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা। সড়ক বিশেষজ্ঞরা এ ব্যাপারে পরামর্শ দিয়ে বলেন, সেতু নির্মাণ করার ক্ষেত্রে সবার আগে সড়কের পরিকল্পনা নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরুর তাগিদ দিয়ে তারা বলেন, সড়ক না থাকলে কোথাও সেতু নির্মাণের অনুমোদন দেয়া হলে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় হবে। মানুষের স্বার্থে কোন কাজে আসবে না।
(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ২০ মে ২০১৯ প্রকাশিত)