বুধবার, ১১-ডিসেম্বর ২০১৯, ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন

দুদক : সর্ষেতেই কি ভূত?

shershanews24.com

প্রকাশ : ২৭ জুন, ২০১৯ ০৯:১০ অপরাহ্ন

সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের সৌজন্যে: দুর্নীতি দমনে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরোর ব্যর্থতার পর ২০০৪ সালের ২১ নভেম্বর গঠিত হয় দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। এরপর কেটে গেছে দেড় দশক, দুর্নীতি দমন কমিশন কি এ সময়ের মধ্যে দুর্নীতি রোধে আসলেই কিছু করতে পেরেছে? যে উদ্দেশ্য নিয়ে এ সংস্থাটি গড়ে তোলা হয়েছিল সে উদ্দেশ্যে কি অর্জিত হয়েছে? যে কোন সচেতন মানুষ এসব প্রশ্নের জবাবে বলবেন-না হয়নি। দুর্নীতির রাশ টেনে ধরতে দুদক গঠন ছিল সরকারের সর্বোচ্চ ইচ্ছার প্রতিফলন, তাহলে দুদক কেন সফল হলো না? সফল হওয়ার কথা না হয় বাদই গেল, মানুষের মনে রেখাপাত করার মতো কিছু কি দুদক করতে পেরেছে? এ প্রশ্নের জবাবেও না বলা ছাড়া উপায় নেই। 
যদি দুদক সৃষ্টি থেকে এর প্রথমদিকের কার্যক্রমের কথা স্মরণ করা হয় তাহলে দেখা যাবে সূচণালগ্নে দুদকে অনেকটা অকর্মণ্যের হাট বসেছিল। দুদককে দিয়ে কিছু হবে না, দুদক কিছু করতে পারবে না। এ ধারণাটা বিচারপতি সুলতান হোসেন খান দুদকের চেয়ারম্যান হওয়ার পর তার কর্মকা- থেকেই মানুষের মনে হয়েছিল। তার সাথে কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য্য অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মিঞা ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তা মনিরউদ্দিন আহমেদ। এই দুই মনিরের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও বিরোধের জন্য বিচারপতি সুলতান হোসেন তার সালতানাতে সুশাসন কায়েম করা তো দূরের কথা, আসনে পোক্ত হয়ে বসতেই পারেননি। মনিরুজ্জামান মিয়াকে এক দায়িত্ব দিলে মনিরউদ্দিন আহমেদ মনে করতেন তাকে ক্ষমতাহীন করা হচ্ছে আবার মনিরউদ্দিন আহমেদকে কোন দায়িত্ব দিলে মনিরুজ্জামান মিয়া বেজার হতেন। দুদকের শুরুটা তাই ছিল একেবারে নাজুক অবস্থায়। সুলতান হোসেনের নেৃত্বত্বাধীন দুদক সাধারণ মানুষ বা দুর্নীতিবাজ তো দূরের কথা দুদকে কর্মরতদের মনেও কোনো দাগ কেটে যেতে পারেনি। সে সময় দুদক ব্যস্ত ছিল ’অর্গানোগ্রাম’ করা নিয়ে, ‘অগ্রানোগ্রাম’ এর বেড়াজালে আবদ্ধ থাকায় দুর্নীতি প্রতিরোধে জাল নিয়ে মাঠে নামতে পারেনি প্রথম দুদক।
দুদক প্রতিষ্ঠার পর এর অকর্মণ্যতা সম্পর্কে বলতে গিয়ে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার এক নিবন্ধে লিখেছিলেন- কমিশনে যথোপযুক্ত লোক নিয়োগ না পাওয়ায় সূচনাতে কোন গতিই ছিল না। পরে একপর্যায়ে (ওয়ান ইলেভেনের সময়) এটি হয় অতি সক্রিয়। তিনি লিখেছেন, যে প্রত্যাশা নিয়ে বিশাল ক্ষমতাধর এ স্বাধীন কমিশনটি গঠিত হয়েছিল তার খুব কমই পূরণ করতে পেরেছে দুদক। 
আলী ইমাম মজুমদার লিখেছেন, কখনো দুদক অতি সক্রিয় হয়েছে। তার এ কথার প্রমাণ মেলে ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিন সরকারের আমলে দুদকের কর্মকা-ে। ১/১১ এর পর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল হাসান মাশহুদ চৌধুরী দুদককে সবল করার জন্য সচেষ্ট হয়েছিলেন, সে সময় দুদকের কর্মকা- ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল, তবে তা দুদকের শক্তি ছিল না তৎকালীন সরকারের শক্তির ফসল ছিল তাও দেশের মানুষের কাছে ষ্পষ্ট। সে সময় দুদক এতটাই আতংকময় পরিবেশ তৈরি করে যে তা সামাল দেয়াটা দেশের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছুর জন্য একরকম অসম্ভব বিষয় হয়ে ওঠে।
দুদকের বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পর বিশেষ করে এর চেয়ারম্যান ড. ইকবাল মাহমুদের সময়ে ভালো ফল পাওয়া যাবে মানুষ আশা করেছিল। কারণ, অন্য যে কোন সময়ের চে’ দুদকের কথাবার্তায় সংগঠিত কিছু তৎপরতাও দেখা গিয়েছিল, তবে ক্রমান্বয়ে দুদক ফের এর খোলসেই ঢুকে পড়ে। দুদকের কর্মকা- হচ্ছে চমক সৃষ্টির চেষ্টা নির্ভর। ছিঁচকে চোরদের ফাঁদে ফেলে ঘুষসহ হাতেনাতে ধরা, স্কুলে শিক্ষকদের হাজিরা ঠিকমতো হচ্ছে কি না তা নিয়ে মেতে ওঠা, কোচিং সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার মতো কাজ করে বাজারমাত করার চেষ্টা চালায় দুদক। 
সমালোচনা এবং সমালোচনা
দুদক সম্ভবত: সমালোচনা রাশির জাতক। সমালোচনা যেন পিছু ছাড়ছে না প্রতিষ্ঠানটির। সাধারণ মানুষ তো বটেই রাজনীতিবিদ এমনকি সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত দুদকের কাজের সমালোচনা করেছে। ক্ষমতায় থাকাকালে যে বিএনপি দুদক গঠন করেছিল দুদককে নিয়ে দুঃখ সেই বিএনপি নেতাদেরই বেশি। তারা অহরহই বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ঘায়েল করতেই দুদককে ব্যবহার করা হচ্ছে। 
গত ১২ বছরের বেশি সময় ধরে বিএনপি ক্ষমতার বাইরে, বাংলাদেশে ক্ষমতার বাইরে যাওয়ার অর্থই হচ্ছে দুর্নীতির তকমা গায়ে লাগা শুরু হওয়া। মওদুদ আহমদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মোর্শেদ খান, আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ বিএনপির শীর্ষ নেতাদের প্রায় সবাই-ই দুদকের নজরদারিতে কিংবা খবরদারিতে আছেন। বিএনপি নেতারা প্রায়ই অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক  হয়রানি, গ্রেফতার, গুম, খুন করে বিএনপিকে হতোদ্যম করতে না পেরে দুদককে ব্যবহার করে এর নেতাদের ঘায়েল করার চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। 
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন এর আগের সরকারে বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী এবং পরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ছিলেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। তিনি বলেছেন, দুদক প্রাইমারি শিক্ষকদের অন্যায় আমলে নিলেও বেসিক ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকার কেলেংকারির বিরুদ্ধে কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
 দেশের সর্বোচ্চ আদালতও দুদকের কার্যক্রম নিয়ে তাদের হতাশা প্রকাশ করেছে। হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষকদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আগে দুদকের উচিত রাঘব- বোয়ালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া। আদালত বলেন, যেখানে ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়ে যাচ্ছে সেখানে দুদক ব্যস্ত প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকরা স্কুলে যাচ্ছেন কি না তা নিয়ে। 
রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গীই দুদকের মূলনীতি
দুদকের কার্যক্রমের অনেকগুলো স্তর বা পর্যায় আছে, অভিযোগ পাওয়া, তা যাচাই-বাছাই করা, প্রাথমিক অনুসন্ধান করা, অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়ার পর দুর্নীতির অভিযোগের পর আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করা। বলা যায় এ পর্যন্তই হচ্ছে দুদকের নিজস্ব এখতিয়ারের কাজ, এরপরের অংশ হচ্ছে বিচারিক কাজ। দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী প্যানেলের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন আছে, তাদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গীও গোপন কিছু নয়। আর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গীর কারণেই সরকার বদলের সাথে সাথে দুদকের মামলার বিচারে অগ্রাধিকারের তালিকাও বদলে যায়। রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গীই কার্যতঃ দুদকের কার্যক্রমের চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়। আবার দুদকের মামলা হয় তবে তার বিচার আর শেষ হয় না আছে এমন অভিযোগও, বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো নিয়ে দুদক তখনই নড়েচড়ে বসে যখন রাজনৈতিক দলগুলো তাদের কর্মসূচি নিয়ে সক্রিয় হয়ে ওঠার চেষ্টা করে।
অবশ্য দুদকের দাবি, তাদের দায়ের করা মামলায় সাজা হওয়ার হার বাড়ছে। রাষ্ট্রপতির কাছে দাখিল করা দুদকের বার্ষিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে ২০১৬ সালে দুদকের মামলায় সাজার সংখ্যা আগের বছরের চে’ শতকরা ১৭ ভাগ বেড়েছে। ওই বছর দুদকের যেসব মামলার রায় হয়েছে তার শতকরা ৫৪ ভাগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হয়েছে এবং তাদের সাজা হয়েছে। 
একজন জাহালম ও দুদক
একজনের অপরাধে আরেকজনের কারাগারে থাকার ঘটনা একেবারে নতুন নয় আমাদের দেশে। তবে জাহালম নামে এক ব্যক্তি যেভাবে আরেকজনের দোষে কারাভোগ করেছেন তা নজিরবিহীন। 
সোনালী ব্যাংকের সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে আবু সালেক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা করে দুদক। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদকের পাঠানো চিঠি যায় জাহালমের টাঙ্গাইলের গ্রামের বাড়িতে। নরসিংদীতে পাটকলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করা জাহালম সততার সাহস নিয়ে দুদকে এসেছিলেন, আকুতি করে জানিয়েছিলেন, তিনি সালেক না তার নাম জাহালম। কিন্তু দুদকের কর্মকর্তারা তার কথায় কান দেননি। ২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি জাহালমকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর দুদকের কাছে, তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে জাহালম বার বার আকুতি জানিয়ে বলে, সে আবু সালেক না তার নাম জাহালম। কিন্তু দুর্নীতির সাজা দিতে বদ্ধপরিকর! দুদকের (সাজা যেই পাক) কোন কর্মকর্তারই তাতে মন গলেনি। ব্যাংকের কোটি কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগে ২৬টি মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করে, নি¤œ আদালতে জাহালমের বিরুদ্ধে বিচারও শুরু হয়। গণমাধ্যমে জাহালমকে নিয়ে আসল তথ্য প্রকাশ করলে বিষয়টি আদালতে গড়ায়, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনও জাহালমের পক্ষে অবস্থান নেয়।  
আদালত নিশ্চিত হয়, বিনাদোষে কারাগারে থাকা জাহালম অভিযুক্ত আবু সালেক না। এসময় দুদকের কর্মকা-ের কড়া সমালোচনা করেন হাইকোর্ট। আদালত একে দুদকের ‘জজমিয়া নাটক’ বলে আখ্যায়িত করেন। এমনকি এও বলেন, দুদক এভাবে চললে দেশ পাকিস্তান হতে সময় বেশি লাগবে না। এরপর হাইকোর্ট জাহালমকে ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দিলে ২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি জাহালম কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান। দুর্নীতি দমন কমিশন এ ঘটনায় সারাদেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। জাহালম মুক্তি পাওয়ার পর দুদক এ ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করে। 
যাইহোক জাহালম তো বিনা বিচারে জেল খেটেছেন কিন্তু যে ব্যক্তির অপরাধের দায় নিয়ে তিনি কারাগারে ছিলেন সেই আবু সালেকের খবর কী? তাকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দায় কি কারো নেই? সোনালী ব্যাংক বা দুদক কোন পক্ষই তো সালেকের ব্যাপারে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়নি। জাহালম মুক্তি পেয়েছে কিন্তু যে আবু সালেক দেশ ও মানুষের কোটি কোটি টাকা আত্মাসাৎ করেছে সেই আবু সালেক কেন আইনের আওতায় নেই, তাকে ধরতে দুদকের কোন তৎপরতা নেই, সোনালী ব্যাংকেরও কোন রা নেই, কেন নেই? সে এক রহস্যবটে!
মূসা বিন শমসের এবং বেসিক ব্যাংকের বাচ্চু
বাংলাদেশের এক স্বঘোষিত ‘সেলিব্রিটি’ হচ্ছেন মূসা বিন শমসের। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকা- করে তিনি আলোচনায় ছিলেন। তার কাজ ও জীবন রহস্যে ঘেরা। তিনি বিশ^মানের ধনী এমন একটা ধারণা দেশে তিনি প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সুইস ব্যাংকে তার হাজার হাজার কোটি টাকা আটকে থাকার গল্পও তিনি নিজেই ফেঁদেছেন। সেই মূসা বিন শমসেরকেও দুদক দু’বার তলব করেছিল। তবে সেই জিজ্ঞাসাবাদের সারকথা কি তা দুদক প্রকাশ করেনি। 
বাংলাদেশের ব্যাংকিং জগতে লুটপাটের আখড়া হয়ে উঠেছিল বেসিক ব্যাংক। আর এই লুটপাটের হোতা হিসেবে চিহ্নিত ব্যাংকটির চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চু। বাচ্চুকে দুদক একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদও করে, তবে শেষাবধি বেসিক ব্যাংকের এসব ঋণ জালিয়াতির ঘটনা অত্যন্ত বিতর্কিতভাবে ধামাচাপা দিয়ে রেখেছে দুদক।
ঘুষের ফাঁদে দুদক পরিচালক
ঘুষ লেনদেন হাতেনাতে ধরতে বিভিন্ন সময় ফাঁদ পেতেছে দুদক। তবে এবার খোদ দুদকেরই এক কর্মকর্তা পড়েন ঘুষের ফাঁদে। পুলিশের ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি তদন্তের ভার পড়েছিল দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের ওপর। ডিআইজি মিজান জুনের দ্বিতীয় সপ্তায় এনামুল বাছিরের সাথে তার কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড প্রকাশ করেন, যাতে বলা হয় এনামুল বাছির ডিআইজি মিজানের কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। এ অভিযোগ ওঠার পর এনামুলকে দুদক পরিচালকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। অবশ্য পরে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান, ঘুষ নেয়ার অভিযোগে নয় এনামুল বাছিরকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে তথ্য পাচারের জন্য। 
ডিআইজি মিজান বলেছেন, এনামুল বাছিরকে তার দুর্নীতিগ্রস্ত মনে হয়েছে সে জন্যই তিনি তাকে ঘুষ দিয়েছিলেন সবার সামনে প্রমাণ করতে যে এনামুল একজন দুর্নীতিগ্রস্ত লোক। ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হয় সেদিকেই এখন মানুষের চোখ। তবে দুদক নিজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে, এমনটা অনেকেই ভাবতে পারেন না, আর এই না পারার পেছনে বড় কারণ হচ্ছে এনামুলকে সাময়িক বরখাস্ত করার ব্যাপারে দুদক চেয়ারম্যানের বক্তব্য।
এনামুল বাছিরকে কেন অব্যাহতি দেয়া হয়েছে তা দেশের মানুষের কাছে পরিষ্কার ছিল, সেখানে কেন দুদক চেয়ারম্যান তাকে অব্যাহতি দেয়ার কারণ সম্পর্কে অন্য ব্যাখ্যা দিলেন তাও এক প্রশ্ন। এনামুল বাছির ঘুষ নিয়েছেন কি নেননি তা সময়ই বলে দেবে, তবে ঘুষ নেয়া বা দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে সরকারি কর্মকর্তাদের চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা কিংবা দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া খুবই রুটিনওয়ার্ক। এনামুল বাছিরকে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ ওঠায় সাময়িক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে দুদক চেয়ারম্যান যদি এটাা বলতেন কিংবা যদি তা করা হতো তাহলে তা দুদকে কর্মরতদের জন্য একটা ‘শিক্ষা’র বিষয় হতো।
যাইহোক, ডিআইজি মিজান বলেছেন, দুদকের পরিচালক এনামুল বাছিরকে তিনি ঘুষ দিয়েছেন শুধু নিজেকে বাঁচানোর জন্য নয়, এনামুল বাছির যে একজন দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা এটি প্রমাণ করার জন্য। 
ডিআইজি মিজান পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া অনেকটা সহজ কিন্তু এনামুল বাছির? তিনি তো দুদকের কর্মকর্তা, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ কতটা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হবে সে অগ্নিপরীক্ষার মুখোমুখি এখন দুদক। ‘কাক কাকের মাংস খায় না’ এ আপ্তবাক্য এনামুলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে যদি তদন্তকারীর ওপর ভর করে তাহলে এনামুল হয়তো বেঁচে যাবেন কিন্তু তখন অনেকেই বলবেন ‘সর্ষের ভেতরই যদি ভূত থাকে তাহলে ভূত ছাড়াবে কী করে?’ দুদককে প্রমাণ করতে হবে তাদের সর্ষেতে ভূত নেই। দুদক কি তা পারবেÑ এসব প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।
(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ২৪ জুন ২০১৯ প্রকাশিত)