সোমবার, ২৩-সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন
  • এক্সক্লুসিভ
  • »
  • তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লুটপাট-অপকর্ম ধামাচাপা দিতে নানা কৌশল

তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লুটপাট-অপকর্ম ধামাচাপা দিতে নানা কৌশল

shershanews24.com

প্রকাশ : ২০ আগস্ট, ২০১৯ ০৮:০৬ অপরাহ্ন

সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের সৌজন্যে: গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কেনাকাটায় সিন্ডিকেটের দুর্নীতি-লুটপাটের কেলেংকারি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় চক্রটি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সিন্ডিকেটের অপকর্ম নিয়ে গত সপ্তায় শীর্ষ কাগজে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তার আগে তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে শীর্ষ কাগজের পক্ষ থেকে এই হাসপাতালের কেনাকাটার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য চাওয়া হয়েছিল। আর তখনই চক্রটি বুঝতে পারে, তাদের লুটপাট-অপকর্মের তথ্য ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। সেই থেকেই তারা ফন্দি আঁটতে থাকে, কীভাবে তাদের অপকর্ম ধামাচাপা দেয়া যায় তা নিয়ে। একদিকে তথ্য দিতে গড়িমসি করতে থাকে। অন্যদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশনে নিজেরাই একটি মনমতো অভিযোগ দাঁড় করিয়ে সেটি তদন্তের ব্যবস্থা করে। যাতে নিজেরা বাঁচতে পারে, সেদিক বিবেচনায় রেখেই দায়সারা গোছের বেনামী অভিযোগটি দাঁড় করানো হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনকে বিভ্রান্ত করে ‘দুর্নীতি হয়নি’ এমন সার্টিফিকেট সংস্থাটি থেকে হাতিয়ে নেয়ার ফন্দি এঁটেছে। আর যদি এমন সার্টিফিকেট একবার পাওয়াই যায়, তারপর পত্র-পত্রিকায় হাজারো লেখালেখি হলেও এ নিয়ে আর দ্বিতীয় কোনো তদন্ত হবে না- এটি তারা ভালো করেই বোঝে। সে কারণেই এমন অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র মনে করছে।
এ মেডিকেল কলেজের দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে ইতিমধ্যে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে দুদক। গত ৩০ জুন দুদকের একজন উপ-সহকারী পরিচালকের স্বাক্ষরিত একটি চিঠির মাধ্যমে এই তদন্তের কার্যক্রম শুরু হয়। তবে জানা গেছে, দুদকের কাছে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে আসল দুর্নীতিকে আড়াল করাই এ চক্রের উদ্দেশ্য। কেন না দুদকের তদন্ত কমিটির ওপর ভার পড়েছে শুধুমাত্র মেডিকেল কলেজের যন্ত্রপাতি কেনাকাটা সংক্রান্ত অনিয়ম বা দুর্নীতি খতিয়ে দেখার। কিন্তু সবাই জানেন, তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে দুর্নীতির আখড়া যতোটা না মেডিকেল কলেজ, তারচে’ অনেক বেশি হচ্ছে হাসপাতাল। কারণ, গত কয়েক বছরে মেডিকেল যন্ত্রপাতি, খুচরা যন্ত্রপাতি, এমএসআরসহ আনুষঙ্গিক কেনাকাটা হয়েছে মেডিকেল হাসপাতালের নামে। মেডিকেল কলেজের নামে যন্ত্রপাতি বা এ ধরনের দ্রব্যাদি কেনা হয়নি। সাধারণত মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে শিক্ষা গ্রহণ করেন হাসপাতালে গিয়ে। কলেজের খাতে ব্যয় হয় ভবন নির্মাণ, চেয়ার- টেবিল ও বইপত্র ক্রয়ের জন্য। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, হাসপাতালের দুর্নীতির অভিযোগকে পাশ কাটাতেই মেডিকেল কলেজের যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ‘দুর্নীতি’ ইস্যুকে সামনে এনে দুদককে ধোঁকা দেয়ার চেষ্টা করছে দুর্নীতিবাজ চক্রটিই। বস্তুত নিজেরা বাঁচতেই এমন অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে চক্রটি।
স্বাস্থ্য সেক্টরের দুর্নীতিবাজ ঠিকাদার আফতাব আহমেদ ও সাজ্জাদ মুন্সী এবং শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দুর্নীতিবাজ পরিচালক ডা. মো. আমীর হোসাইন রাহাত ও স্টোর অফিসার মো. নাজিম উদ্দিন এই চক্রের অন্যতম হোতা। দুর্নীতিবাজ ঠিকাদার আফতাব আহমেদ ইতিপূর্বে একাধিকবার জাল-জালিয়াতি ও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন। স্বাস্থ্য সেক্টরে দুর্নীতি, জাল-জালিয়াতি হাতেনাতে ধরা পড়ার পর অনেক আগেই তাকে কালো তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে তিনি সেইসব অপকর্ম ধামাচাপা দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন। এরপর এখন স্বাস্থ্য সেক্টর একচেটিয়া দাবড়ে বেড়াচ্ছেন। একমাত্র স্বাস্থ্য সেক্টরেই দুর্নীতি-লুটপাট করে তিনি বর্তমানে কয়েক হাজার কোটি টাকার মালিক। দুদকেও তার বিশেষ ‘লাইন’ আছে বলে আফতাব আহমেদ প্রচার করে থাকেন। শুধু শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালই নয়, ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে তিনি দুর্নীতির জাল বিস্তার করেছেন। বর্তমান স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলামের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে তিনি এখন স্বাস্থ্য সেক্টরের নানা কাজে অবৈধ প্রভাব খাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শীর্ষ কাগজের পক্ষ থেকে তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কাছে যেসব তথ্য চাওয়া হয়েছিল সেগুলোর কিছুই এ পর্যন্ত তারা সরবরাহ করেননি। মূলতঃ সচিব আসাদুল ইসলামের প্রশ্রয়ের কারণেই  হাসপাতালটির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা আইন লঙ্ঘনের এমন দুঃসাহস দেখাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের দ্বিতীয় শ্রেণির একজন সাধারণ কর্মচারী সাজ্জাদ মুন্সী। কিন্তু তিনিও এই সেক্টরে ইতিমধ্যে গডফাদার হিসেবে আবির্ভুত হয়েছেন। চাকরি না করেই বছরের পর বছর বেতন-ভাতা নিয়েছেন, অন্যদিকে ঠিকাদারি ব্যবসার নামে এ্ই সেক্টর থেকে অন্তত হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়াও স্বাস্থ্য সেক্টরের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে তার প্রচ- দাপট রয়েছে। 
গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন হাসপাতালে দুর্নীতির এই শক্তিশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরেই পরস্পরের যোগসাজশে ক্রয়, নির্মাণ, উন্নয়ন ও সংস্কারের নামে বেপরোয়া লুটপাট চালিয়ে আসছে। পরিচালক ডা. মো. আমির হোসাইন রাহাত শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যোগ দেন চলতি বছরের জানুয়ারিতে। এর আগে তিনি স্বাস্থ্য অধিদফতরে ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার পদে থাকাকালে ব্যাপক দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হন। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও হয়। গাজীপুরের এই হাসপাতালের পরিচালক পদে বসেই তিনি লাগামহীন দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। দুর্নীতি-অপকর্ম জায়েজ করার কাজে তিনি বরাবর স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ- স্বাচিপের নাম ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।  
তবে হাসপাতালটির স্টোর অফিসার মো. নাজিম উদ্দিনকে এই সিন্ডিকেটের অন্যতম নাটের গুরু বলে সবাই জানেন। হাসপাতালটিতে পরিচালক, উপপরিচালকসহ শীর্ষ সব পদের কর্মকর্তারা থাকলেও নাজিমউদ্দিনই সর্বেসর্বা। কারণ, তিনিই এদের পরিচালনা করেন। দীর্ঘদিন নাজিমউদ্দিন এ হাসপাতালে আছেন। এখানকার সবকিছু তারই নিয়ন্ত্রণে, এমনকি ঠিকাদার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বয়ে গড়ে উঠা সিন্ডিকেটও। দুর্নীতির কলাকৌশল সবই তার কারসাজিতে হয়ে থাকে। নাজিম উদ্দিনই নির্ধারণ করে থাকেন, কোন ঠিকাদারকে কোন কাজটি দেয়া হবে। অর্থের ভাগবাটোয়ারা হয় নাজিম উদ্দিনের হাত দিয়েই। নাজিম উদ্দিনের দুর্নীতি-অপকর্মের কিঞ্চিত তথ্য শীর্ষকাগজের বিগত সংখ্যায় তুলে ধরা হয়েছিল।
এরপর পাওয়া গেছে তার দুর্নীতির আরো বেশকিছু গুরুতর তথ্য। জানা গেছে, নাজিম উদ্দিন হাসপাতালের নামে ওষুধ উঠিয়ে তা মিটফোর্ডে বিক্রি করে দিয়ে সব টাকা নিজের পকেটে ভরেন। নীলফামারীতে কর্মরত থাকাকালেও তিনি এ কাজ করতেন, গাজীপুরে এসেও একই কাজ করছেন। তাজউদ্দিন হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ক্রয়ে কারসাজি করে শুধু ঠিকাদার সিন্ডিকেটকে কাজ দেয়াই নয়, নাজিম উদ্দিন নিজের প্রতিষ্ঠানের নামেও এখানে সরাসরি কার্যাদেশ নিচ্ছেন, যা সম্পূর্ণ অবৈধ। এসব কার্যাদেশের বিপরীতে অনেক ক্ষেত্রেই মালামাল সরবরাহ না করেই পুরো অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। কিঞ্চিত যেসব মালামাল সরবরাহ করেন তাও অত্যন্ত নি¤œমানের এবং ব্যবহার অনুপোযোগী। এফএনএফ এবং ঢাকা ইলেক্ট্রো মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ নামে তার নিজেরই দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। জানা গেছে ফিরোজা-নাজিম-ফাহিম এই তিনজনের নামের আদ্যক্ষর দিয়ে নামকরণ করা ‘এফএনএফ’ নামে এই প্রতিষ্ঠানের মালিক নাজিমের স্ত্রী ফিরোজা। নাজিমের ছেলে রাশেদুল ইসলামের মালিকানাধীন মেসার্স ঢাকা ইলেকট্রো মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ। কোন যাচাই-বাছাই ছাড়াই এই দু’টি প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হচ্ছে একের পর এক কাজ। দরপত্র আহ্বান দেখিয়ে কাজ দেয়া হলেও সেগুলো আইওয়াশ মাত্র। সবধরণের সরকারি গোপনীয় তথ্য যেহেতু নাজিম উদ্দিনের কাছেই থাকে, তাই কারসাজি করে এসব প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া তারপক্ষে কোনো সমস্যাই নয়। বস্তুত তিনিই নির্ধারণ করে থাকেন, কোন কাজটি কোন্ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পাবে। 
সূত্র জানায়, এই হাসপাতালে নাজিম উদ্দিনের দুর্নীতি-অপকর্মের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস নেই কারো, কেন না কেউ তার অনিয়ম বা অপকর্মের ব্যাপারে কথা বললেই তার ওপর নেমে আসে বদলির খড়গ কিংবা নানাভাবে হয়রানি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, নাজিম উদ্দিন নিজেকে মন্ত্রীর ভাগিনা বলে পরিচয় দেন এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষমতা কারো নেই বলে দাবি করে থাকেন। মন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে চলায় তাকে তাজউদ্দিন মেডিকেল হাসপাতালের সবারই সমীহ করে চলতে হয়। 
হাসপাতালের সামান্য একজন স্টোর অফিসার নাজিম উদ্দিনের নামে-বেনামে অঢেল বিত্ত-বৈভবের মালিক কথা তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে কর্মরতদের মুখে মুখে। জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরসমুহে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগও জমা পড়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ঢাকার উত্তরায় আছে নাজিম উদ্দিনের তিনটি বাড়ি, দক্ষিণখানে আছে ২ বিঘা করে ২টি প্লট, টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা সদরে বিলাস বহুল বাড়ি, ঘাটাইলের বাড়ইপাড়া গ্রামে ১০ বিঘা জমি ও সেখানে ডুপ্লেক্স বাড়ি। তার ১০টির মতো গাড়ি রয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংকে নিজের, স্ত্রী ও সন্তানের নামে কোটি কোটি টাকার এফডিআর করে রেখেছেন এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা। 
তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রথম প্রকল্প পরিচালক ছিলেন অধ্যাপক সুভাষ চন্দ্র সাহা। সুভাষ চন্দ্র সাহা ছিলেন গাজীপুরের সিভিল সার্জন। ওই সময় প্রকল্পটি ছিল সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অধীন। সেই হিসেবে পদাধিকারবলে সুভাষ চন্দ্র সাহা এই মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রকল্প পরিচালক হন। ওই সময় নাজিম উদ্দিন ছিলেন জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের স্টোর কিপার। ফলে তিনিও এই প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ পান। এই দু’জনে মিলেই শুরু করেন লুটপাটের মহোৎসব। ২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালের জন্য আলাদা প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ করা হয়। যেহেতু যন্ত্রপাতি, এমএসআর, খুচরা যন্ত্রপাতিসহ আনুষঙ্গিক কেনাকাটা প্রায় সবই হয়ে থাকে হাসপাতালের মাধ্যমে, তাই নাজিম উদ্দিন পোস্টিং নেন হাসপাতালের স্টোর অফিসার হিসেবে। ফলে দুর্নীতির যে চক্র তা থেকে আর বের হয়ে আসতে পারেনি এ হাসপাতালটি, বরং তা আরো শক্ত হয়ে গেড়ে বসে।
সিভিল সার্জন, পরিচালক, প্রকল্প পরিচালক পরিবর্তন হলেও নাজিম উদ্দিনের পরিবর্তন নেই, তিনি থেকে যান বহাল তবিয়তে। এ কারণে তাকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে গাজীপুরের সিভিল সার্জন কার্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শক্তিশালী সিন্ডিকেট। নাজিম গংকে কারো কাছে জবাবদিহীও করতে হয় না, নামকাওয়াস্তে টেন্ডার ডাকা, পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়ার মতো ঘটনা তো আছেই, এমনকি অনেক সময় টেন্ডার ডেকে যন্ত্রপাতি সরবরাহের দরপত্র দেয়া হলেও সে যন্ত্রপাতি এসেছে কি না তাও কেউ জানে না। এভাবেই পুরো কাজের টাকা লোপাট করার মতো কাজও করেন এই নাজিম উদ্দিনরা। সর্বশেষ, এ বছরের মে-জুন মাসে ২১ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ক্রয়ে অনিয়ম ও ঘাপলার একটি বড় ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। সে সময় মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে বেশ কিছু দামি যন্ত্রপাতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজার থেকে আনার কাজ দেয়া হয়েছিল ঠিকাদার আফতাব আহমেদ ও সাজ্জাদ মুন্সীকে। নাজিম উদ্দিনই কারসাজি করে এই দু’জনকে কাজ দেয়ার ব্যবস্থা করেছিল। যদিও এলসি খোলা, যন্ত্রপাতি যাচাই করাসহ নানা কাজ শেষ করে মাত্র ১৫ দিনে ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে এসব সামগ্রী কোনভাবেই বাংলাদেশে আনা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। 
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুদক যদি প্রকৃত অর্থেই তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের দুর্নীতি, অনিয়ম আর লুটপাটের চিত্র বের করতে চায় তাহলে তাদের শুধু কলেজের ব্যাপারে তদন্ত করলেই চলবে না, তদন্তের মূল ‘ফোকাস’ হতে হবে হাসপাতালের দুর্নীতি। কলেজ এবং হাসপাতাল উভয়ের প্রতিষ্ঠা থেকে এ পর্যন্ত কোন খাতের কেনাকাটায় কত টাকা ব্যয় হয়েছে, মালামাল কারা সরবরাহ করেছে, স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী মালামালগুলো যথাযথভাবে সরবরাহ করা হয়েছে কিনা, প্রত্যেকটি মালামাল কোথায়-কি কাজে ব্যবহার করা হয়েছে, যন্ত্রপাতিগুলো ঠিকঠাকমতো কার্যকর আছে কিনা, যখন যেসব মালামাল কেনা হয়েছে সেগুলোর সরবরাহ বাজারমূল্য অনুযায়ী সঠিক ছিল কিনা- এসব বিষয় দুদককে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করতে হবে। এই প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির প্রতি দুদকের নজর আসার বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মচারীরা আশা প্রকাশ করেছেন, দুদক আসল জায়গায়ই হাত দেবে এবং বের করে আনবে দুর্নীতির আসল তথ্য।
(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ২৯ জুলাই ২০১৯ প্রকাশিত)