শনিবার, ১৯-অক্টোবর ২০১৯, ১১:০৬ পূর্বাহ্ন
  • এক্সক্লুসিভ
  • »
  • বাড়ছে উদ্বেগ: বেসরকারি মেডিকেল কলেজে তৈরি হচ্ছে নামসর্বস্ব এমবিবিএস ডিগ্রীধারী চিকিৎসক!

বাড়ছে উদ্বেগ: বেসরকারি মেডিকেল কলেজে তৈরি হচ্ছে নামসর্বস্ব এমবিবিএস ডিগ্রীধারী চিকিৎসক!

shershanews24.com

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০৭:০৭ অপরাহ্ন

সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের সৌজন্যে: দেশের বেসরকারি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার মান নিয়ে বরাবরই প্রশ্ন ছিলো। দিনকে দিন সেই প্রশ্ন আরো জোরালো হয়েছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় গিয়ে ঠেকেছে যে, বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো আদতেই মানসম্পন্ন চিকিৎসক নাকি নামসর্বস্ব এমবিবিএস ডিগ্রীধারী তৈরি করছে এ নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একসময় দেশে চিকিৎসক সংকট দূর করতে প্রাইভেট মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে এই অনুমোদন একটি বাণিজ্যের মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন এই প্রাইভেট মেডিকেল কলেজগুলো থেকে যেসব এমবিবিএস ডিগ্রিধারীরা বের হচ্ছেন চিকিৎসক হিসেবে তাদের প্রতি আস্থা রাখা যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। দেশের বেশিরভাগ বেসরকারি মেডিকেল কলেজই নিয়ম-নীতি ও শর্ত খেলাপ করে কার্যক্রম চালাচ্ছে।  কলেজগুলোর শর্তমাফিক অবকাঠামো নেই, অনেকের নিজস্ব জমি নেই, বেশিরভাগেরই শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখানোর জন্য উপযুক্ত হাসপাতাল বা পর্যাপ্ত রোগী নেই, শিক্ষক নেই। এমন পরিস্থিতিতে বেসরকারি মেডিকেলে শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অথচ নতুন কলেজ এবং বিদ্যমান কলেজগুলোর আসন সংখ্যা বেড়েই চলেছে। 
দেশে বর্তমানে ৬৯ টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ রয়েছে। এর ৩৬টিরই মালিকানা বা পরিচালনায় রয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা অথবা দলসমর্থিত চিকিৎসক বা ব্যবসায়ীরা। এসব কলেজের কোনোটিই পুরোপুরি নিয়মনীতি মেনে চলছে না। নানাভাবে নীতিমালা লঙ্ঘনের মধ্য দিয়েই চলছে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো। আর সেই সুযোগটিই নিচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদফতর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতিবাজরা। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তাব্যক্তিরা নীতিমালা অনুসরণের কথা বলে চাপ দিয়ে, ব্ল্যাকমেইল করে দফায় দফায় শুধু ঘুষই আদায় করছে। বাস্তবে এগুলোকে নিয়মনীতি অনুযায়ী চালানোর ব্যাপারে তারা কখনো আন্তরিকভাবে কাজ করেনি। তাই মেডিকেল কলেজগুলোর কর্তৃপক্ষও সেই সুযোগটিই নিচ্ছে। 
দেখা যাচ্ছে, এসব প্রত্যেকটি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠাই করা হয়েছে নীতিমালার শর্ত লঙ্ঘন করে। প্রতিষ্ঠার পর অনেক বছর পার হয়ে গেলেও এখনো নীতিমালার শর্তগুলো পূরণের যথাযথ উদ্যোগ নেই তাদের। এর ফলে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে মানসম্পন্ন ডাক্তার তৈরি হওয়ার পরিবর্তে এমবিবিএস সার্টিফিকেটধারী হাতুড়ে ডাক্তার তৈরি হওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। 
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর পরিদর্শন, নবায়ন, ছাত্রভর্তি কোটা প্রভৃতির ব্যাপারে স্বেচ্ছাচারি আচরণ করছে। মন্ত্রণালয় এবং অধিদফতর নিজেরাই এ ব্যাপারে নিয়মনীতি মানছে না। একই অপরাধে কোনোটির সাজা হচ্ছে, আবার কোনোটি ছাড় পেয়ে যাচ্ছে। পরিদর্শন রিপোর্টেও সামঞ্জস্যতা নেই। রিপোর্টও ভালো থেকে খারাপ, আবার খারাপ থেকে ভালো হয়ে যাচ্ছে। নীতিমালার শর্ত পূরণের ব্যাপারে যেসব ঘাটতি রয়েছে তা অনেক ক্ষেত্রেই এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। আবার কোনো কোনোটির বিরুদ্ধে আগাম কোনও সতর্কতা ছাড়াই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। 
নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক শিক্ষার্থীর বিপরীতে সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীসহ অন্তত ৫টি শয্যা থাকা আবশ্যক, কিন্তু বেশির ভাগ বেসরকারি মেডিকেল কলেজে পর্যাপ্ত শয্যা নেই। কিংবা শয্যা থাকলেও রোগী নেই, ফলে ছাত্রছাত্রীদের যথাযথভাবে হাতে কলমে শিক্ষা দেয়ার সুযোগ নেই। ডাক্তার ও নার্স এর সংখ্যা অপ্রতুল। সাধারণত সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি শেষ হওয়ার পর মেধাতালিকার নিচে থাকা শিক্ষার্থীরাই বেসরকারি কলেজে ভর্তি হন। আবার দুর্নীতিবাজ কলেজ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে টাকার জোরেও কম মেধাবীদের ভর্তির অভিযোগ রয়েছে। 
নীতিমালা অনুযায়ী, ৫০ আসনের একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সঙ্গে অন্তত ২৫০ শয্যার একটি আধুনিক হাসপাতাল থাকতে হবে। শিক্ষার্থী ভর্তির দুই বছর আগে থেকে হাসপাতালটি চালু থাকতে হবে। ৭০ শতাংশ শয্যায় নিয়মিত রোগী ভর্তি থাকবে। হাসপাতাল ও কলেজ হবে একই ক্যাম্পাসে। এগুলোর আয়তনও নির্দিষ্ট করা আছে। কলেজের আসন বরাদ্দ বাড়লে সেই অনুপাতে হাসপাতাল বড় করতে হবে।
 বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো নীতিমালা ব্যতিরেকে নিজেদের খুশিমত অধ্যাপক, শিক্ষক ও ডাক্তার নিয়োগ দেয়। অধ্যাপক, অন্যান্য শিক্ষক ও ডাক্তারদের মান মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। মৃতদেহের অভাবে শিক্ষার্থীদের অ্যানাটমি শিক্ষা যথাযথ হয় না। চিকিৎসা বিজ্ঞানের মৌলিক বিষয়গুলো পড়াবার উপযুক্ত শিক্ষকের অভাব, অথচ মৌলিক বিষয়গুলোতে যথেষ্ট জ্ঞান ছাড়াই মেডিসিন, সার্জারি ইত্যাদি ব্যবহারিক বিষয়গুলোতে প্রকৃত শিক্ষা অর্জন সম্ভব নয়।
বিভিন্ন সরকারের সময় রাজনৈতিক বিবেচনায় এসব মেডিকেল কলেজ অনুমোদন পায়। বেশিরভাগ মেডিকেল কলেজের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার মতো শিক্ষক, লাইব্রেরি, ল্যাবরেটরি প্রভৃতি নেই। কর্মরত চিকিৎসকদের বেশিরভাগই সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিয়ে বেসরকারি মেডিকেল কলেজের পাঠদান কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছেন। খ-কালীন শিক্ষকের সংখ্যাও প্রায় সমান। বিশেষ করে অ্যানাটমি, ফিজিওলজি, প্যাথলজি, বায়োকেমিস্ট্রির মতো বেসিক সায়েন্সের বিষয়গুলো পড়ানোর মতো শিক্ষক নেই। পাঁচ বছর পড়ার পর এমবিবিএস পরীক্ষায় বসে বেসরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা তাই পাস করেন কম। বস্তুত যাদের পাস দেখানো হয় তারাও মানের দিক দিয়ে অত্যন্ত নিম্ন পর্যায়ের। যে কারণে এসব কলেজ থেকে পাস করা চিকিৎসকেরা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিতে গেলে সেখানেও হোঁচট খান বেশি। 
এক শ্রেণির চিকিৎসক কী বোঝা হতে যাচ্ছে!
দেশে বর্তমানে নতুন সনদপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের কমপক্ষে ৭০ শতাংশই বেসরকারি খাতের, সরকারি চিকিৎসকদের তুলনায় যাদের কম আস্থায় নিচ্ছে মানুষ। মানের প্রশ্নেই মানুষের আস্থা পাচ্ছেন না এই বিপুলসংখ্যক চিকিৎসক। এ ক্ষেত্রে নিম্নমানের বেসরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করা চিকিৎসকদেরই মূলত দায়ী করা হয়। তা সত্ত্বেও বছর বছর বাড়ছে বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সংখ্যা। তৈরি হচ্ছে নতুন হাজার হাজার চিকিৎসক, যাদের বেশির ভাগের ভরসা কেবল সারা দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অখ্যাত কিংবা ছোট বা মাঝারি পর্যায়ের বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক। অনেকে আবার কেবল প্রাইভেট চেম্বারেই সময় কাটান। বেসরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করা চিকিৎসকদের মান এমন পর্যায়ে যে তাদের মধ্যে খুব কমসংখ্যকই সরকারি চাকরির জন্য যোগ্যতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারছেন। সর্বশেষ হিসাব অনুসারে দেশে বিএমডিসির রেজিস্টার্ড চিকিৎসক সংখ্যা ৮৬ হাজার। তাঁদের মধ্যে মৃত্যুবরণকারী, দেশের বাইরে চলে যাওয়া এবং দেশেই অন্য পেশায় নিয়োজিত চিকিৎসক আছেন মোট ২০ হাজারের মতো। ৬৬ হাজার চিকিৎসকের মধ্যে বিভিন্ন সরকারি চিকিৎসা বা স্বাস্থ্যসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত আছেন ২৩ হাজার চিকিৎসক। বাকি প্রায় ৪৩ হাজার বা ৬৫ শতাংশ চিকিৎসকই দেশের বেসরকারি খাতে চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত। 
স্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞ ও কোনো কোনো চিকিৎসক বলছেন, সাধারণত সরকারি চিকিৎসকদেরই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন রোগীরা। এমনকি বেসরকারি হাসপাতাল বা চেম্বারে গিয়েও প্রাধান্য দেওয়া হয় সরকারি চিকিৎসকদের। কেবল বড় কিছু বেসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ওই প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ডিং বা নামের সুবাদে গুরুত্ব পান কিছুসংখ্যক বেসরকারি চিকিৎসক। এ ক্ষেত্রেও অবশ্য অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চিকিৎসকদের কদর বেশি। 
বিশ্লেষকরা বলছেন, বেসরকারি চিকিৎসকদের ভিড় যেভাবে বাড়ছে, তাতে তাদের সঠিকভাবে ব্যবহার করতে না পারলে তারা শিগগিরই সরকারের বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। কারণ সরকারই তাদের নিবন্ধন দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় ও বিএমডিসির মাধ্যমে। 
নীতিমালা মানছে না সিংহভাগ বেসরকারি মেডিকেল কলেজ
বেসরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার যে নীতিমালা রয়েছে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই সেই নীতিমালা অনুসরণ করছে না। কিন্তু শিক্ষার্থী ভর্তিসহ নানা ইস্যুতে বাণিজ্য থেমে নেই। যদিও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন ও পরিচালনাসংক্রান্ত নীতিমালায় বলা আছে, ৫০ আসনের একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ২৫০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল থাকতে হবে। আসনসংখ্যা ১০০ হলে হাসপাতালের শয্যা থাকতে হবে ৫০০টি। ৭০ শতাংশ শয্যায় আবার সার্বক্ষণিক রোগী ভর্তি থাকতে হবে। আর প্রতি ১০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক থাকতে হবে একজন। এছাড়া জমি, অবকাঠামো প্রভৃতি বিষয়েও নীতিমালার সুনির্দিষ্ট শর্ত দেয়া আছে। কিন্তু এসবের কোনোটিই মানছে না বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা বেশিরভাগ মেডিকেল কলেজ।
চিকিৎসা শিক্ষার মান যাচাইয়ে নিয়মিত বেসরকারি মেডিকেল কলেজ পরিদর্শন করার কথা স্বাস্থ্য অধিদফতর যদিও তা অনেক ক্ষেত্রেই করা হয় না। দেখা যাচ্ছে, গত বছর পরিদর্শন করা সিংহভাগ বেসরকারি মেডিকেল কলেজের বিরুদ্ধেই নিয়ম না মানার প্রমাণ মিলেছে। কর্মকর্তারা বলছেন, বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো পরিদর্শনে যে চিত্র পাওয়া গেছে তা অত্যন্ত হতাশাজনক। শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছে এসব প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ নিলেও তাদের জন্য ন্যূনতম সুবিধাও নিশ্চিত করছে না। অনেক বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই রোগীর সংখ্যা খুবই কম পাওয়া গেছে। অথচ চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রে হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শয্যা ও রোগী থাকা অপরিহার্য।
নিয়ম না মানা মেডিকেল কলজেগুলোর মধ্যে গুলশানের সাহাবউদ্দিন মেডিকেল কলেজ একটি। কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা ৫০০। যদিও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিদর্শক দল সরেজমিন গিয়ে শয্যা দেখেছে অর্ধেকেরও কম। কলেজটির জন্য সাড়ে ৬ কাঠা ও হাসপাতালের ১১ কাঠা জমির কথা বলা হলেও তা ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটিতে স্বল্পসংখ্যক রোগী থাকলেও ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানো হয় কাগজে-কলমে। ৯০ আসনের কলেজটির শ্রেণিকক্ষও অপরিসর ও অপরিচ্ছন্ন। পর্যাপ্ত সরঞ্জামাদি নেই মিউজিয়ামে। শিক্ষক সংকট প্রকট সব বিভাগেই। 
নিয়ম না মানা বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর আরেকটি আশুলিয়ার নাইটিংগেল মেডিকেল কলেজ। এটি পরিদর্শনে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি এবং বিষয়ভিত্তিক ল্যাবরেটরি ও মিউজিয়াম শিক্ষা উপকরণের ঘাটতি পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থী অনুপাতে প্রয়োজনীয় শিক্ষকও দেখাতে পারেনি কলেজটি।
পরিদর্শন প্রতিবেদনে নাইটিংগেল মেডিকেল কলেজ সম্পর্কে বলা হয়েছে, বেসরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন ও পরিচালনা নীতিমালার অনেক শর্তই পূরণ করেনি তারা। মোটেই সন্তোষজনক নয় শিক্ষার মান ও পরিবেশ। গত বছর বেসরকারি মেডিকেল কলেজ পরিদর্শন সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্য হিসেবে ছিলেন কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ। পরিদর্শন বিষয়ে তিনি বলেন, পরিদর্শনের অংশ হিসেবে আমরা আট থেকে ১০টি মেডিকেল কলেজে যাই। দুঃখজনক হলেও সত্য, কোনো মেডিকেল কলেজের কার্যক্রমেই আমরা সন্তুষ্ট হতে পারিনি। কিছু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কোনো রোগীই পাওয়া যায়নি। আবার অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষকস্বল্পতা রয়েছে। চিকিৎসা শিক্ষা ও সেবা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক যন্ত্রপাতিও অনুপস্থিত মেডিকেল কলেজগুলোয়। এমন আরেকটি বেসরকারি মেডিকেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রংপুরের নর্দান (প্রা.) মেডিকেল কলেজ। মেডিকেল কলেজটি পরিদর্শনে হাসপাতালে ৫০০ শয্যার স্থলে মাত্র ১৪০ শয্যার অস্তিত্ব পেয়েছে পরিদর্শক দল। পাশাপাশি আর্থিক অনিয়মের প্রমাণও মিলেছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। কলেজের নিজস্ব স্থায়ী আমানতের ১ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী জমির স্বল্পতা রয়েছে রাজধানীর বেসরকারি নর্দান ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের। কলেজটির পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলো সুবিন্যস্ত নয়। গ্রন্থাগারে পর্যাপ্ত নয় বইয়ের সংখ্যাও। ভর্তি ও হিসাবসংক্রান্ত কয়েকটি অনিয়ম পাওয়ায় বেসরকারি উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজকে সতর্ক করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। পরিদর্শন প্রতিবেদনের আলোকে কলেজটিকে দেয়া চিঠিতে বলা হয়, ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়মের জন্য সতর্ক করা হলো। এছাড়া রেজিস্টার্ড অডিট ফার্মের মাধ্যমে অডিট সম্পন্ন করতে হবে।
বেসরকারি কেয়ার মেডিকেল কলেজ বিষয়ে পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়, কলেজটির নামে নির্ধারিত পরিমাণ জমি কেনা হয়নি। এমনকি কলেজের নিজস্ব হাসপাতালও নেই। এসব ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ ও বেড সংখ্যা বাড়াতে বলা হয়েছে কলেজটিকে। একইভাবে শিক্ষার্থী অনুপাতে শিক্ষক ও রোগীর সংখ্যা বাড়ানোর তাগিদ দেয়া হয়েছে বেসরকারি আইচি মেডিকেল কলেজকেও। পরিদর্শনের আলোকে কলেজটিকে বলা হয়েছে, নীতিমালা অনুযায়ী ২ একর জমি ক্রয় নিশ্চিত, আলাদা একাডেমিক ভবন নির্মাণ ও বেসমেন্ট থেকে অ্যানাটমি বিভাগ স্থানান্তর করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের চিকিৎসকদের বড় একটি অংশ বের হচ্ছে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো থেকে। এসব কলেজে নানা অনিয়ম ও ঘাটতিতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে মানসম্পন্ন চিকিৎসক তৈরির উদ্যোগ। উল্টো নিম্নমানের উদ্বৃত্ত চিকিৎসক তৈরি করছে বেসরকারি এসব মেডিকেল কলেজ। দেশের চিকিৎসা সেবায় এরই মধ্যে এর প্রভাব পড়ছে বলে জানান চিকিৎসা শিক্ষাবিদ ও ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেডিকেল এডুকেশনের সিনিয়র অ্যাডভাইজার অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক। তিনি বলেন, বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোয় একদিকে অনিয়ম করে আসনের অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে। আবার শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ ও অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে না। সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোয় এ ধরনের সমস্যা, বিশেষ করে অবকাঠামো ও শিক্ষক সংকট রয়েছে। এর ফলে দেশের মেডিকেল শিক্ষার মান নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। তৈরি হচ্ছে না দক্ষ চিকিৎসক, যার প্রভাব পড়ছে সার্বিক চিকিৎসা সেবায়। স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিদর্শন অনুযায়ী, অধিকাংশ বেসরকারি মেডিকেল কলেজই অনুমোদনের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিদর্শন দল নীতিমালার বাইরে গিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির প্রমাণ পেয়েছে অনেক বেসরকারি মেডিকেল কলেজের বিরুদ্ধে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না নিয়ে নীতিমালা লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করানো মেডিকেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে, সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ, ডাক্তার সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ, নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ, ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ, সাহাবউদ্দিন মেডিকেল কলেজ, মার্কস মেডিকেল কলেজ, এনাম মেডিকেল কলেজ, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ, ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন মেডিকেল কলেজ, কুমুদিনী মেডিকেল কলেজ, রংপুর নর্দান মেডিকেল কলেজ ও হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজ। অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করায় এসব মেডিকেল কলেজকে জরিমানাও করা হয়েছে। রাজশাহী শহরের খড়খড়ি এলাকায় শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালটি চালু হয়েছিলো পাঁচ বছর আগে। এই হাসপাতালটি সরেজমিন পরির্দশনে গিয়েও কাক্সিক্ষত সংখ্যক রোগীর দেখা মেলেনি। অধ্যক্ষ নেই, ভারপ্রাপ্ত হয়ে কলেজ চালাচ্ছেন উপাধ্যক্ষ। কলেজটিতে অনুমোদিত শিক্ষার্থী সংখ্যার অনুপাতে হাসপাতালের শয্যা বা রোগী নেই। সেই অনুপাতে শিক্ষকও কম।
কলেজটির কর্তৃপক্ষ বলছে, এখন তাদের মোট ২০০ শিক্ষার্থী আছেন। এই প্রথম ছয়জন শেষ বর্ষের পরীক্ষা দিয়েছেন। এযাবৎ কোনো বছরই অনুমোদিত ৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হননি। এবার ঢুকেছেন মাত্র ১৮ জন। তবে লাভের হাতছানি বড়। 
বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর মোট আসন ৬ হাজার ২৩১। এ বছর বিদেশি ভর্তি হয়েছেন প্রায় এক হাজার। সরকার-নির্ধারিত ভর্তি ফি ১৮ লাখ টাকা। বেতন ও অন্যান্য নিয়মিত খরচও নির্ধারিত। সব মিলিয়ে পাঁচ বছরে একজন শিক্ষার্থী কলেজকে দেবেন ২২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। বিদেশি শিক্ষার্থীরা এর জন্য দেবেন ৩৬ লাখ টাকা। এর বাইরে আছে পরীক্ষার ফি ও হোস্টেল খরচ, যা প্রতিষ্ঠান ঠিক করবে।
চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক রশীদ-ই-মাহবুব গণামাধ্যমকে বলেছেন, ‘বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো এই আয়কে গুরুত্ব দেয়, চিকিৎসা শিক্ষাকে নয়।’ পরিদর্শন কর্তৃপক্ষের সূত্র বলছে, অনেক হাসপাতাল আদতে বিশেষজ্ঞ ক্লিনিকের মতো, যেখানে বিকেলে রোগী দেখার ভিড় হয়। আরেক সমস্যা, ভবনের কাক্সিক্ষত আয়তনসহ অবকাঠামো এবং কলেজ ও হাসপাতালের অভিন্ন ক্যাম্পাস না থাকা। খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এক কিলোমিটার দূরত্বে। ময়লাপোতার মোড়ে ১৮ তলা যে ভবনটি আছে, সেটি হাসপাতাল ভবন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের দুর্নীতিবাজ পরিচালক রশিদের দুর্নীতির হাত ধরে এটি কার্যক্রম চালানোর অনুমতি পায়। এই কলেজ ও ঢাকার পপুলার মেডিকেল কলেজের মালিক একজনই। পপুলার মেডিকেল কলেজই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অবৈধভাবে। কারণ ঢাকায় এই কলেজের কোনো হাসপাতাল নেই। পপুলার ডায়াগনস্টিক ও কনসাল্টেশন সেন্টারের ৫০ টির মতো বেডকে ২৫০ শয্যার মিথ্যা তথ্য দিয়ে কলেজের অনুমোদন নেয়া হয়েছে। খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজেরও একই অবস্থা। কলেজের অবকাঠামোসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। 
২০০৭ সাল থেকে মিথ্যার উপর দিয়ে চলছে ডেল্টা মেডিকেল কলেজ। এটি অনুমোদন নেয়া হয়েছে ডেল্টা হাসপাতাল লিমিটেডের জমি দেখিয়ে। বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রণালয়ে ভুয়া দানপত্র দেখিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে। তারপরও এর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। 
হাসপাতাল দূরে হলে বা সেখানে পর্যাপ্ত রোগী না থাকলে শিক্ষার্থীদের অনুশীলনের সমস্যা হয়। নীতিমালায় বিষয় ও শিক্ষার্থীর মাথা গুণে শিক্ষকের সংখ্যা বেঁধে দেওয়া আছে। শিখন ভালো হওয়ার জন্য ৫০ আসনের একটি কলেজে কমপক্ষে ১৭৭ জন শিক্ষক দরকার। দেশের প্রথম বেসরকারি মেডিকেল কলেজটি রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায়। নাম বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ। ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এ কলেজের সুনাম আছে। এর হাসপাতাল নিজস্ব ভবনে। তবে ৩৪ বছর ধরে কলেজ চলছে ভাড়া বাড়িতেই, যা সম্পূর্ণ অবৈধ। গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে পশ্চিমে ইটাহাটায় ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়কের বাঁ পাশে সিটি মেডিকেল কলেজের ভাড়া করা পাঁচতলা ভবন। আশপাশের দোকানিরা বলছেন, ভবনটি তৈরি হয়েছিল পোশাক কারখানার জন্য।
প্রতি তলায় সরু বারান্দার দুপাশে ছোট ছোট ঘর। এসব ঘরে শিক্ষকেরা বসেন, শিক্ষার্থীরা ক্লাসও করেন। কলেজের হাসপাতাল বেশ দূরে। নীতিমালার শর্ত মোতাবেক সেখানে কমপক্ষে ১৭৫ জন রোগী থাকার কথা থাকলেও দিনে ১৮ থেকে ১৯ জন রোগীকে পাওয়া যায় সেখানে। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান সাংসদ মহীউদ্দীন খান আলমগীর। কলেজটি তিনি কিনে নিয়েছেন। 
সরকারি পরিদর্শন প্রতিবেদন বলছে, ২০১০ সাল থেকে কলেজটি তিনবার ক্যাম্পাস বদলিয়েছে। নিজস্ব জমি নেই। পরিদর্শনের দিন হাসপাতালে মোট ৫১ জন রোগী ছিল, যাদের সেদিনই অথবা তার আগের দিন ভর্তি করা হয়, পরিদর্শন করা হবে এই খবর পাওয়ার পর। অধিকাংশ রোগীর সমস্যা ছিল মাথা, কোমর বা পেটে ব্যথা, যার জন্য ভর্তি নিষ্প্রয়োজন। কলেজের আসনসংখ্যা ৮০। মোট শিক্ষক ১০৫ বলে দাবি করা হয়, কিন্তু ওই দিন ছিলেন ১৬ জন।
পরিদর্শন প্রতিবেদনে আছে, প্রায় সব শর্ত অমান্য করায় এ প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন স্থগিত করা হয়েছিল। ফের পরিদর্শনের জন্য ওপরতলার চাপ আসে। বিশেষ পরিদর্শন কমিটি গঠিত হয় এবং পরিদর্শন হয়। এরপর আবারও ছাত্র ভর্তির অনুমতি দেয়া হয়।
শরীয়তপুর জেলা শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার পূর্বে মধুপুর গ্রামে গড়ে উঠেছে মনোয়ারা সিকদার মেডিকেল কলেজ। নড়িয়া-ভেদরগঞ্জ সড়কের পাশে কলেজের ক্যাম্পাস। এর উদ্যোক্তা ব্যবসায়ী জয়নুল হক সিকদার। সিকদারের পৈতৃক বাড়ি-সংলগ্ন ৫ একর ১০ শতক জমিতে তাঁরই স্ত্রীর নামে হয়েছে এই কলেজ ও হাসপাতাল। তবে এখানেও রয়েছে রোগীর আকাল। 
কলেজটি ২০১৫ সালে অনুমোদন পায়। ৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন আছে। তবে এখানে ভর্তির সংখ্যা ওঠানামা করে। ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়েছিলেন ৪০ জন, পরের বছর ৬ জন আর তারপরের বছর আবার ৪৫ জন। গত বছর ৭ জন ভর্তি হয়েছেন। মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার দেড় বছরের মাথায় ব্যবহারিক পাঠ হিসেবে শিক্ষার্থীদের রোগী দেখতে হয়। তবে  কলেজের একজন শিক্ষার্থী বলেছেন, চতুর্থ বর্ষ শেষ হতে চলেছে। কিন্তু তাঁরা হাসপাতালে রোগীর দেখা পাচ্ছেন না। শিক্ষার্থীটির ভয়, রোগী নাড়াচাড়া না করেই শিক্ষা শেষ করতে হবে। চিকিৎসা শিক্ষায় হাতে-কলমে জ্ঞান অর্জন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বারবার বহু রোগীর সঙ্গে কথা বলে, রোগীর শরীর স্পর্শ করে রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা দেওয়া শিখতে হয়। তাছাড়া সার্জারির বিষয়গুলো পুরোপুরি হাতে-কলমেই নিতে হয়। কিন্তু, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. ইসমাইল খানের মতে, চিকিৎসা শিক্ষার ৮০ ভাগই হচ্ছে ব্যবহারিক শিক্ষা। বাকিটা পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞান। গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, ব্যবহারিক শিক্ষার জন্য দরকার রোগী। আর রোগীর জন্য দরকার হাসপাতাল। উপযুক্ত হাসপাতাল ছাড়া মেডিকেল শিক্ষা হয় না।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অধ্যাপক আবদুল জলিল চৌধুরী বলেছেন, ‘প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ না দিয়ে, হাসপাতালের ব্যবস্থা না করে যত্রতত্র কলেজ স্থাপন করলে অর্ধশিক্ষিত চিকিৎসক তৈরি হবে। তাতে আর যা-ই হোক, মানুষ মানসম্পন্ন চিকিৎসা পাবে না।’ এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক এক বক্তৃতায় বলেছেন, সরকারও এ ব্যাপারে উদ্বিগ্ন। বেসরকারি কলেজগুলো যেন ঠিকমতো চলতে পারে, তার উদ্যোগ আমরা নেব।
(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ১৯ আগস্ট ২০১৯ প্রকাশিত)