রবিবার, ২০-অক্টোবর ২০১৯, ০৫:৫৮ অপরাহ্ন
  • এক্সক্লুসিভ
  • »
  • মোবাইল অপারেটরদের বিদেশে বিজ্ঞাপনপ্রীতি না টাকা পাচার?

মোবাইল অপারেটরদের বিদেশে বিজ্ঞাপনপ্রীতি না টাকা পাচার?

shershanews24.com

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০৭:০১ অপরাহ্ন

সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের সৌজন্যে: ইয়াহু, গুগল, ফেসবুকসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ৮ হাজার ৭শ’ ৪৪ কোটি ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিজ্ঞাপন দিয়েছে বাংলাদেশের তিনটি মোবাইল অপারেটর কোম্পানি। কোম্পানি তিনটি হচ্ছে গ্রামীণ ফোন, রবি আর বাংলালিংক। সম্প্রতি হাইকোর্টে দেয়া প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন-বিটিআরসি। একটি রিট মামলার পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী মোবাইল কোম্পানিগুলো বিদেশি প্রতিষ্ঠানে কি পরিমাণ বিজ্ঞাপন দেয় তা জানানোর নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। আর ওই নির্দেশ অনুযায়ী আদালতে দাখিল করা তথ্যে জানা যায়, বিদেশি প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশের এই তিন মোবাইল অপারেটরের বিশাল এই বিজ্ঞাপন দেয়ার বিষয়টি।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনাকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগ বেশ পুরনো। বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকরা ঠিকমতো আয়কর দেন না এমন অভিযোগও রয়েছে। বিদেশি প্রতিষ্ঠান গুগল, আমাজন, ফেসবুক ও ইউটিউবের বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ এনে ২০১৮ সালের ৯ এপ্রিল হাইকোর্টে একটি রিট করেন ছয়জন আইনজীবী। তারা হলেন, মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, মোহাম্মদ আবু কাউসার, আবু জাফর মো. সালেহ, অপূর্ব কুমার বিশ^াস, মোহাম্মদ সাজ্জাদুল ইসলাম ও মোহাম্মদ মাজেদুল কাদের। প্রাথমিক শুনানি শেষে একই বছরের ১২ এপ্রিল হাইকোর্ট রুল জারি করে। তাতে এসব প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন থেকে রাজস্ব আদায়ে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তার কারণ দর্শাতে রুল জারি করে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। গত ২২ আগস্ট বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো: আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চে বিটিআরসির পক্ষে সংস্থাটির সিস্টেমস এবং সার্ভিসেস বিভাগের উপপরিচালক প্রকৌশলী নাহিদুল হাসান এই প্রতিবেদন দাখিল করেন। তাতে তুলে ধরা হয় এই তিন কোম্পানির বিজ্ঞাপন দেয়ার চিত্র।
কোন কোম্পানি কত টাকার বিজ্ঞাপন দিয়েছে?
হাইকোর্টে দাখিল করা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে গত পাঁচ বছরে গুগল, ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপ, ইউটিউব, ইয়াহু, আমাজন, ইমোসহ ইন্টারনেটভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে বিজ্ঞাপন বিল ১০৪ কোটি ৯ লাখ ৭৫ হাজার ৫শ’ ৯৬ মার্কিন ডলার দিয়েছে গ্রামীণ ফোন, বাংলা লিংক ও রবি। যা বাংলাদেশি টাকায় ৮ হাজার ৭শ’ ৪৪ কোটি ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
এরমধ্যে গ্রামীণ ফোন দিয়েছে ৪৩ কোটি ৩১ লাখ ২৫ হাজার ৬শ’ ২৯ ডলার বা তিন হাজার ছয়শ’ কোটি টাকার মতো, দ্বিতীয় স্থানে থাকা রবি দিয়েছে ৩২ কোটি ১৩ লাখ ৮০ হাজার ডলার বা প্রায় ২ হাজার ৭শ’ কোটি টাকা আর বাংলালিংক দিয়েছে ২৮ কোটি ৬৪ লাখ ৬৯ হাজার ৯শ’ ৬৭ ডলার যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ হাজার কোটি টাকারও বেশি।
বিজ্ঞাপন থেকে বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ব আয় খুবই সামান্য। হাইকোর্টে এনবিআর এর দেয়া তথ্য উল্লেখ করে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, জাতীয় রাজস্ববোর্ড বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনলাইন বিজ্ঞাপন বাবদ ৫ বছরে আয় করেছে ১৩৩ কোটি টাকা।
পরবর্তী পদক্ষেপ
বিটিআরসি ও এনবিআর এর তথ্যের এই বিশাল পার্থক্য সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে দুই প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দিয়ে আগামী ২০ অক্টোবর শুনানির পরবর্তী দিন ঠিক করেছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ইন্টারনেটভিত্তিক এসব মাধ্যম বা প্লাটফর্ম থেকে রাজস্ব আদায়ে কী কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তাও জানাতে এনবিআরকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
বিটিআরসির আইনজীবী একেএম আলমগীর পারভেজ গণমাধ্যমকে বলেন, অনলাইন বিজ্ঞাপন বাবদ গত পাঁচ বছরে ফেসবুক, গুগল, ইউটিউব, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপকে গ্রামীণ ফোন, রবি আর বাংলালিংক যে অর্থ দিয়েছে তা কিভাবে আদায় হয়েছে আর কোন ব্যাংকের মাধ্যমে এই অর্থ দেয়া হয়েছে তার বিস্তারিত জানাতে বলেছে হাইকোর্ট। একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে অনলাইনে বিজ্ঞাপন খাতে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানগুলো কত টাকা নিয়েছে এবং নিচ্ছে সে প্রতিবেদন দাখিলের জন্যও হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে। তিনি বলেন, বিটিআরসি যে প্রতিবেদন দাখিল করেছে তাতে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া টাকার আংশিক চিত্র পাওয়া গেছে। কেননা, এই তিন কোম্পানির বাইরেও আরো অনেক কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি এসব প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। এর বাইরে ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন এবং হোস্টিং বাবদও বিদেশিরা বাংলাদেশ থেকে টাকা নিয়ে যাচ্ছে। সে হিসাবটা আসেনি। তার অভিযোগ, বিদেশি এই কোম্পানিগুলো বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার কোটি আয় করে নিয়ে গেলেও বাংলাদেশ সরকারকে একটি টাকাও রাজস্ব দিচ্ছে না। 
রিটকারী আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী বিটিআরসি যে প্রতিবেদন দিয়েছে তাতে বলা হয়েছে, বিজ্ঞাপন প্রচারের বিনিময়ে বাংলাদেশ থেকে ফেসবুক, ইউটিউব, গুগল, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমোসহ নানা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বাংলাদেশের তিনটি মোবাইল ফোন কোম্পানির কাছ থেকে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি নিয়ে গেছে অথচ এসব প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশে কোন অফিস পর্যন্ত নেই। 
বিটিআরসির আইনজীবী জানিয়েছেন, বিদেশি পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে বিটিআরসি চিঠি দিয়ে বাংলাদেশে তাদের কার্যালয় স্থাপন করতে বলেছে। তিনি জানিয়েছেন, এসব প্রতিষ্ঠানের ভারত ও ইন্দোনেশিয়ায় নিজস্ব কার্যালয় রয়েছে। 
বিদেশি টেলিভিশন চ্যানেলে বাংলাদেশের কোম্পানির বিজ্ঞাপন চলছে অবাধে। তবে এক পর্যায়ে অভিযোগ ওঠে, বিদেশি টেলিভিশন চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচারের আড়ালে বিদেশে অর্থ পাচার হচ্ছে। টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন-এসোসিয়েশন অব টেলিভিশন কোম্পানিজ-অ্যাটকো বিদেশি চ্যানেলে বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন প্রচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়, এক পর্যায়ে সরকারও এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়। বিদেশি টেলিভিশন চ্যানেলে বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন চালানো বন্ধ করে দেয় সরকার।
ইয়াহু, গুগল, ফেসবুকসহ যেসব আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের কোম্পানিগুলো বিজ্ঞাপন দিচ্ছে তার আড়ালে অর্থ পাচার হয় কি না তা খতিয়ে দেখার দাবি করেছেন কেউ কেউ। আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, টাকা পাচার হোক বা না হোক এসব প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞাপন দেয়ার ফলে দেশের টাকা বিদেশে চলে যাচ্ছে। তারপরও যদি এইসব প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে ভ্যাটসহ যাবতীয় কর দিত তাহলেও কথা ছিল। দেশের টেলিভিশন, পত্র-পত্রিকাগুলো তাদের সীমিত আয়ের মধ্য থেকেও নিয়মিত সরকারকে ভ্যাট দিয়ে থাকে। সাধারণতঃ শতকরা ১৫ ভাগ ভ্যাট ধার্য্য করা হয়। মোবাইল অপারেটররা যে বিজ্ঞাপন দিয়েছেন যদি তার ওপর ভ্যাট আদায় হতো, তাহলে এই সাড়ে আট হাজার কোটি টাকায় অন্ততপক্ষে ১ হাজার কোটি টাকা ভ্যাট আদায় করা যেত। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, ভ্যাট দেয়া এড়াতেই দেশের কোম্পানিগুলো বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিজ্ঞাপন দিতে পারে। 
বিজ্ঞাপনদাতাদের উদ্ভট মানসিকতা
বাংলাদেশের গণমাধ্যমে বিশেষ করে টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে খুবই দুঃশ্চিন্তায় এসব প্রতিষ্ঠানের কর্ণধাররা। তারা বলেছেন, বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন বাজার এমনিতেই ছোট, এরমধ্যে বিদেশি টেলিভিশন আর অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেয়ায় এ বাজার আরো ছোট হয়ে গেছে। বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন বাজার সংকুচিত হওয়ার ফলে দেশের চলচ্চিত্র, নাটকসহ টেলিভিশনের সব ধরণের অনুষ্ঠানেই তার প্রভাব পড়ছে। একজন নাট্যকর্মী আক্ষেপের স্বরে বলেন, মোবাইল অপারেটররা বিজ্ঞাপন দিতে গিয়ে তাদেরকে শুধু হেনস্তাই করেন না অনেক সময় অপমানের সামিল হয়ে ওঠে তাদের ব্যবহার বা আচরণ। তিনি বলেন, মাত্র ৫০ হাজার বা ১ লাখ টাকার একটি পৃষ্ঠপোষকতা করতেও তারা এমন আচরণ করেন যেন, তারা ভিক্ষা দিচ্ছেন অথচ এসব প্রতিষ্ঠান অহরহই শিল্প-সংস্কৃতিতে পৃষ্ঠপোষকতার বিষয়টি গর্বের সাথেই দাবি করে থাকে।
বেসরকারি টেলিভিশনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিজ্ঞাপন বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেয়ার অধিকার বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানের আছে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নামতে কিংবা তার উপযুক্ত হয়ে উঠতে এ ধরণের বিজ্ঞাপন কিছুটা হয়তো দিতেও হয় কিন্তু দুঃখজনক হচ্ছে, এসব কোম্পানির আচরণে মাঝে মধ্যে মনেই হয় না এসব প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে ব্যবসা করে আর বাংলাদেশের মানুষই তাদের একমাত্র গ্রাহক। তারা দেশের প্রতিষ্ঠানকে বিজ্ঞাপন দেয়ার ক্ষেত্রে উন্নাসিকতায় ভোগে। অনেকটা দায়সারাভাবে তারা দেশের প্রতিষ্ঠানকে বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। টেলিভিশনে বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে এসব প্রতিষ্ঠান যেসব শর্ত দেয় তা পূরণ করতে উল্টো তাদের ক্ষতির শিকার হতে হয়, অনুষ্ঠানের মানের সাথে আপোষ করতে হয় কিন্তু তারপরও তাদের কথা না শুনে উপায় নেই। কেন না বিজ্ঞাপন নির্ভর এসব প্রতিষ্ঠানে মোবাইল অপারেটররা খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।
তার কথার সূত্র ধরে আরেকজন বিজ্ঞাপন নির্বাহী বলেন, এসব কোম্পানির বিজ্ঞাপন দেয়ার ক্ষেত্রে বিদেশি মাধ্যম বিশেষ করে বিদেশি বিকল্প গণমাধ্যমগুলোকে বেছে নেয়া দেখে কবির সেই চিরন্তন বাণীটির কথাই মনে পড়ে যায়- ’বিদেশি কুকুর ধরি, স্বদেশি ঠাকুর ফেলিয়া।’ 
দেশের টেলিভিশন ও পত্রিকার মার্কেটিং বিভাগে কাজ করেন এমন একাধিক ব্যক্তি বলেছেন, গ্রামীণ ফোন, রবি, এয়ারটেল আর বাংলালিংকের কাছে দেশের গণমাধ্যমগুলো বিজ্ঞাপনের জন্য গেলে এমনভাবে আচরণ করেন যা অনেক সময় পীড়াদায়ক ও বিব্রতকর হয়ে ওঠে। একটি টেলিভিশনের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, দেশের ক্রিকেট বাদে অন্য কোন বিষয় নিয়ে মোবাইল অপারেটরদের সাথে বিজ্ঞাপন বা পৃষ্ঠপোষকতার জন্য কথা বলতে যাওয়া মানে নির্ঘাত অপমানিত হওয়ার আশংকা। তারা বলেন, দেশের টেলিভিশন, পত্র-পত্রিকা আর অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেয়াটা যতোটা না আইনি বাধ্যবাধকতার বিষয় তারচে’ অনেক বড় হচ্ছে নৈতিক বিষয় কিংবা দায়িত্ববোধের বিষয়। এটা শুধু ব্যবসায়িক বিষয় নয়, বাণিজ্যিক কাজের অংশের পাশাপাশি এটা তাদের করপোরেট সোস্যাল রেসপনসিবিলিটি বা সিএসআর এরও অংশ। তাছাড়া, তাদের ভোক্তা বা গ্রাহক শুধুমাত্র বাংলাদেশের সীমারেখার মধ্যেই। অথচ বিজ্ঞাপনের সিংহভাগই ব্যয় করছে তারা বিদেশি প্রতিষ্ঠানে! এটা এক ধরনের উদ্ভট ও রহস্যজনক কর্মকা-।
অভিজ্ঞজনরা বলছেন, দেশের তিন মোবাইল অপারেটর বিজ্ঞাপন বাবদ বিদেশি অন-লাইন মিডিয়ায় গড়ে বছরে দিয়েছে ১৭শ’ কোটি টাকার  মতো। আরো অনেক প্রতিষ্ঠানও তাদের বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে এসব অনলাইনে। এসব কিছুকে যদি কর ও ভ্যাটের আওতায় আনা যায় তাহলে সরকারের রাজস্ব আদায় যেমন বাড়বে একই সাথে এসব প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে যদি তাদের অফিস স্থাপন ও পরিচালনা করে তাহলে তা সীমিত আকারে হলেও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। এতে তাদের মধ্যে জবাবদিহিতাও সৃষ্টি হবে। তারা বলেন, হাইকোর্টের রায়ের জন্য সরকার অপেক্ষা করবে, একইভাবে অপেক্ষা করবে বিজ্ঞাপনদাতা এবং বিজ্ঞাপনগ্রহণকারীরাও। তাই এ খাত থেকে সরকারের আয় যাতে আর হাতছাড়া না হয় সেজন্য সরকারকে কঠোর এবং দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ প্রকাশিত)