রবিবার, ২০-অক্টোবর ২০১৯, ১২:২৪ অপরাহ্ন
  • এক্সক্লুসিভ
  • »
  • প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফর, দেয়া-নেয়ার হিসাব মিলবে তো?

প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফর, দেয়া-নেয়ার হিসাব মিলবে তো?

shershanews24.com

প্রকাশ : ০২ অক্টোবর, ২০১৯ ০৬:২৭ অপরাহ্ন


সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের সৌজন্যে: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩ অক্টোবর থেকে ভারত সফর করবেন। চারদিনের এ সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে আলোচিত হবে নানা বিষয়। সরকার প্রধানের আলোচ্যসূচি, আলোচনার অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়গুলো ঠিক করায় ব্যস্ত দু’দেশের পররাষ্ট্রসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ ভারত সফর নিয়ে দু’দেশের গণমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রচারিত ও প্রকাশিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এর আগেও শেখ হাসিনা কয়েকবার ভারত সফর করেছেন। ২০১৭ সালের ৭-১০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করেন। তার আগে ২০১৬ সালের ১৬-১৭ অক্টোবর তিনি ভারত গেলেও তা দ্বিপাক্ষিক সফর ছিল না, ব্রিকস-বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। সবশেষ গত বছরের ২৫-২৬ মে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ যান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। ওই সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে শান্তিনিকেতনে ’বাংলাদেশ ভবন’ উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা, আসানসোলের কাজী নজরুল ইসলাম বিশ^বিদ্যালয় তাকে দেয় সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি। 
বাংলাদেশে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় শেখ হাসিনা আর ভারতে পরপর দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন মোদি। গত ২৯ ডিসেম্বরের বিতর্কিত নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এটিই প্রথম ভারত সফর। আর এ সফরটা এমন এক সময় হচ্ছে যখন মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে বিপাকে আছে বাংলাদেশ, পক্ষান্তরে কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের সাথে কার্যতঃ যুদ্ধাবস্থা চলছে ভারতের। পাশাপাশি ভারতের আসাম রাজ্যে এনআরসির তালিকা প্রকাশ এবং দেশটির অন্য রাজ্যগুলোতেও এমন তালিকা তৈরির গুঞ্জন ও প্রক্রিয়ায় ভারতও আছে কিছুটা অস্থিতিশীল অবস্থায়।
অন্যদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের চরম প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের বেশ উষ্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে কিছুটা মন কষাকষি চলছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের দিকে তাই বিশেষ নজর দু’দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কূটনৈতিক তো বটেই, এমনকি সাধারণ মানুষেরও।
সব ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে আসতে পারে এনআরসি
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন সফরকালে সবকিছু ছাপিয়ে আলোচনার মূল ইস্যু হতে পারে ভারতের আসাম রাজ্যের ন্যাশনাল রেজিস্ট্রেশন অব সিটিজেনস- এনআরসি বাংলায় যাকে বলা হচ্ছে নাগরিকপঞ্জি। আসাম রাজ্যে নাগরিকপঞ্জি তৈরি হয়েছে, প্রায় ২০ লাখের মতো মানুষ তাদের ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে পারেনি ফলে এই তালিকায় তাদের নাম নেই। আরো কয়েকটি রাজ্যে নাগরিকপঞ্জি হবে এমন হুমকি দেয়া হচ্ছে। এ সমস্যাকে যতই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলুক আর বাংলাদেশ যতই এ দিকে ভ্রুক্ষেপ না করার চেষ্টা করুক সমস্যটা যখন ঘাড়ের ওপর এসে পড়তে যাচ্ছে তখন চাইলেও তা থেকে নিজেদের দূরে রাখা যাবে না। কেন না মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছে তারা মিয়ানমারের নাগরিক নন সে অজুহাতে, ভারত মিয়ানমারের মতো তাদের নাগরিকত্ব হারা সবাইকে এখনই তাড়িয়ে না দিলেও ’টেস্ট কেস’ হিসেবে কিছু মানুষকে শিগগিরই যে কোনো সময় বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করতে পারে এমন আশংকা অনেকেই করছেন। আরো কয়েকটি রাজ্যে এ ধরণের নাগরিকপঞ্জি করার ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশকে এক ধরণের চাপের মুখে ফেলতে চাইছে ভারতের বর্তমান হিন্দুত্ববাদী সরকার। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ভারতে এখন মৌলবাদের উত্থান ঘটছে, সেখানকার মৌল হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক চক্র বাংলাদেশকে চাপের মধ্যে রাখতে যে কোন কূটকৌশলের আশ্রয় নিতে পারে।  
ভারত আপাততঃ সরকারিভাবে নাগরিকপঞ্জিকে সে দেশের অভ্যন্তরীন বিষয় বলে উল্লেখ করলেও সে দেশের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক নেতারা প্রকারান্তরে বোঝাতে চান ভারতে বিপুল পরিমাণ অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছে। তাই এ বিষয়টি হাসিনা-মোদি আলোচনায় চলে আসতে পারে ’টপ অপ দ্য লিস্ট’ এ। ১৪ সেপ্টেম্বর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্থান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদির মধ্যে আলোচনায় সবচে’ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে আসামের নাগরিক তালিকা বা এনআরসি। 
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ভারতের নাগরিকত্বহারাদের প্রভাব যাতে বাংলাদেশের ওপর না পড়ে সে ব্যাপারে ভারতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে রাখতে হবে। কেন না, অন্ধ হলেই প্রলয় বন্ধ থাকে না।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের দৃশ্যমান পদক্ষেপ চায় বাংলাদেশ
বাংলাদেশের জন্য বর্তমানে সবচে’ বড় সমস্যা হচ্ছে রোহিঙ্গা সমস্যা। অনেকেই মনে করেন এ সমস্যা সমাধানে যে ক’টি দেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে তার মধ্যে চীনের পরই ভারতের অবস্থান। তবে এ ইস্যুতে ভারত কার্যত দর্শক বা পর্যবেক্ষকের ভূমিকা পালন করছে বলে মনে করা হচ্ছে। একজন কূটনীতিক বলেছেন, ভারত অনেক দিক থেকেই বাংলাদেশকে হতাশ করেছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত যে ভূমিকা নিতে পারতো, যে আচরণ করা প্রয়োজন ছিল তারা তা করেনি, এ ক্ষেত্রে ভারতের আচরণে বাংলাদেশ শুধু হতাশই নয় বিস্মিতও। তারা বলেন, ভারত রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে এটা বলার কোন সুযোগ নেই। বাংলাদেশের কোন মন্ত্রীর ভারত সফর কিংবা ভারতের কোন মন্ত্রী বা শীর্ষ কর্মকর্তার বাংলাদেশ সফর হলেই অবধারিতভাবে চলে আসে রোহিঙ্গা ইস্যু। এ সমস্যায় ভারত বাংলাদেশের পাশে আছে আর সমাধানে সর্বাত্মক সহায়তা করবে এমন গালভরা আশ^াস বরাবরই দিয়ে এসেছে নয়াদিল্লি। কিন্তু বাস্তবে তার কোন প্রতিফলন ঘটেনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সফরকালে নরেন্দ্র মোদির কাছ থেকে শুধু কোন আশ^াস নয় সুষ্পষ্ট কোন ঘোষণা এবং তা কার্যকরে কোন রূপরেখা আদায় করতে পারলে সেটাই হবে তার এ সফরের সবচে’ বড় অর্জন, এমনটা মনে করছেন কূটনীতিকরা। 
সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গা ইস্যুতে দেশে এক ধরণের নাজুক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, রোহিঙ্গাদের যতদ্রুত সম্ভব মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে চায় ঢাকা কিন্তু মিয়ানমার এ ব্যাপারে একেবারে নিষ্পৃহ আচরণ করছে, তাদের ভাবখানা অনেকটা এমন -রোহিঙ্গারা এখন আর আমাদের জন্য কোন সমস্যা না, তোমাদের জন্য যখন সমস্যা তোমরাই তা সামলাও। এ সমস্যা বাংলাদেশকেই সমাধান করতে হবে, তবে চীন আর ভারতের মতো বৃহৎ রাষ্ট্র যাদের বাংলাদেশ ও মিয়ানমার দু’দেশের ওপরই যথেষ্ট প্রভাব আছে তারা যদি কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয় তাহলে এ সমস্যা সমাধানে নাটকীয় এবং দৃশ্যমান অগ্রগতি ঘটবে। আর তাই এ সমস্যায় ভারত কতটা কার্যকর ভূমিকা নেয় তা বোঝা যাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন সফর থেকেই।
তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে দ্বিপাক্ষিক সমস্যাটি এখন সবচে’ বড় হয়ে রয়েছে তা হচ্ছে তিস্তার পানি বন্টন চুক্তি। তিস্তার পানি বণ্টনের ক্ষেত্রে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের তথা মূখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় চার দশক ধরে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছে বাংলাদেশ ও ভারত। ২০১১ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি করতে রাজি হলেও মমতার তীব্র বিরোধিতায় তা করা যায়নি। তবে এ চুক্তিকে এবার খুবই গুরুত্ব দিচ্ছে ঢাকা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র বলছে, তিস্তা চুক্তিতে ভারত আর মমতা কার্ড খেলুক তা হতে দেয়া উচিত হবে না বাংলাদেশের। ভারত সরকারকে অবশ্যই উপলব্ধি করতে হবে এটা ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি সমস্যা, নিজ দেশের একটি রাজ্য ও একজন মুখ্যমন্ত্রীকে সামলানোর ভার দিল্লিকেই নিতে হবে। বাংলাদেশের পানি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি হয়ে গেলে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার অন্যান্য নদীর পানি বণ্টনের চুক্তিকে অনেক সহজ করে দেবে।
চীন-বাংলাদেশ উষ্ণ সম্পর্ক ইস্যু
এটা কে না জানে, ২০১৪ সালে একমাত্র ভারতই আওয়ামী লীগ সরকারকে দ্বিতীয় মেয়াদে টিকিয়ে রেখেছিল। কিন্তু ২০১৪ সালের পরে ভারতের চরম শত্রু চীনের প্রভাব বাড়তে থাকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে। আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে বেশ উষ্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠে। বিশেষ করে বাংলাদেশ চীনের কাছে সাবমেরিন ক্রয়ের ঘটনাটা পুরো বিষয়টাকে সামনে নিয়ে আসে। অর্থনৈতিক বিনিয়োগ, ঋণ ও সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির পাশাপাশি চীন গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা বড় ধরনের আধিপত্যও বিস্তার করে, যা ভারতের মাথাব্যথার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রমতে, সাম্প্রতিক সময়ে চীনা বলয় থেকে বেরিয়ে আসার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে ভারত প্রচ- চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। মনে করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে এটি অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে দেখা দিতে পারে।
দেয়া নেয়ার হিসাব মেলাতে
প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে বাংলাদেশের চাওয়া কি আর ভারতকেই বা কি দেবে? এ নিয়ে আলোচনা চলছে দেশের কূটনৈতিক মহলে, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরাও এ দিকে নজর রাখছেন। বাংলাদেশ আর ভারতের মধ্যে যে অমীমাংসিত বিষয় রয়েছে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তার ভূক্তভোগী বাংলাদেশ। জানা গেছে, বাংলাদেশে বর্তমানে ভারতীয় ঋণে ৪৭টি প্রকল্পের কাজ চলছে। শেখ হাসিনার সফরকালে এসব প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। ২০১৫ সাল থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে দু’দেশের দ্বিপক্ষীয় আমদানি-রপ্তানি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেড়েছে। তবে এ বাণিজ্যের পুরোটাই ঝুঁকে আছে ভারতের দিকে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ভারত বাংলাদেশে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে পক্ষান্তরে বাংলাদেশ থেকে আমদানি করে ১ বিলিয়নেরও কম ডলারের পণ্য। 
অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এই বাণিজ্য হচ্ছে দু’দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য, এছাড়াও আছে বড় ধরণের অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্য। বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগ, ওষুধ, যানবাহন, জ¦ালানিখাতে ভারতের বিনিয়োগ ও ঋণ রয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাস, ট্রেন চলাচল রয়েছে, বাংলাদেশের রেলপথ উন্নয়নেও কাজ করছে ভারত। সম্প্রতি বাংলাদেশের রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন ভারত সফর করে এসেছেন। তিনি দেশে ফিরে জানিয়েছেন, ভারত থেকে ২০টি রেল ইঞ্জিন আনা হচ্ছে, অক্টোবরেই ওই ইঞ্জিন বাংলাদেশে আসবে। প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সামরিক সহায়তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে। এদিকে বাংলাদেশে সমরাস্ত্র বিক্রির বাজার খুঁজছে ভারত। 
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধান আগে হয়েছে। গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি হয়েছে ১৯৯৬ সালে, যার মেয়াদ শেষের পথে, দু’দেশের মধ্যকার ছিটমহল বিনিময় হয়েছে। যদিও কেউ কেউ দাবি করেন, ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কটা আত্মীক, কিন্তু বিশ্লেষকদের প্রশ্ন, সম্পর্কের এই ধরণটাকে বাংলাদেশ যতটা মূল্যায়ন করে, সম্মান করে ভারত কি তা করে? তারা মনে করেন, ভারত সম্পর্কের এ জায়গাটাকে যথাযথ মূল্যায়ন করে না। বাংলাদেশকেও তাই বাস্তবসম্মত পথ ধরে এগাতে হবে। দেয়া আর নেয়ার হিসাব মেলাতে পুরোপুরি প্রস্তুতি আর শক্ত মানসিকতা নিয়ে বসতে হবে আলোচনায়। টেবিলের ওপাশে যারা থাকবে তাদের ‘বড়ভাই’ নয় বিচেনা করতে হবে ‘কাউন্টার পার্ট’ বা সমকক্ষ হিসেবে। তাহলেই হিসাব অনেকটাই মিলবে।
(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ প্রকাশিত)