মঙ্গলবার, ০৪-আগস্ট ২০২০, ০৩:৪৮ অপরাহ্ন
  • এক্সক্লুসিভ
  • »
  • রিভা গাঙ্গুলি চার মাসেও সাক্ষাৎ পাননি প্রধানমন্ত্রীর

রিভা গাঙ্গুলি চার মাসেও সাক্ষাৎ পাননি প্রধানমন্ত্রীর

shershanews24.com

প্রকাশ : ২৭ জুলাই, ২০২০ ১২:৪৫ অপরাহ্ন

শীর্ষ নিউজ ডেস্ক: ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাশ গত চার মাস ধরে চেষ্টা করেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাৎ পাননি। ২০১৯ সালে আওয়ামী লীগ পুনর্নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এলে ভারতীয় অর্থায়নে বাংলাদেশে নেয়া সব প্রকল্প ঝিমিয়ে পড়ে। অন্যদিকে অবকাঠামো খাতে চীনের প্রকল্পগুলো ঢাকার সমর্থন আরো বেশি করে পাচ্ছে। ভারতের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য দেয়া হয়েছে। গত ২৫ জুলাই কল্লোল ভট্টাচার্যের এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।
একই তথ্য দিয়ে ২৬ জুলাই প্রতিবেদন প্রকাশ করে পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ডন। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বাংলাদেশের একটি জাতীয় দৈনিকের তথ্যসূত্রও ব্যবহার করা হয়েছে।
 
দ্য হিন্দুর  ওই প্রতিবেদনে  বলা হয়, ভারতের উদ্বেগ সত্ত্বেও সিলেট এমএজি ওসমানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল নির্মাণের কাজ চীনকে দিয়েছে বাংলাদেশ। বিমানবন্দরটিতে নতুন টার্মিনাল নির্মাণের কাজ পেয়েছে বেইজিং আরবান কনস্ট্রাকশন গ্রুপ (বিইউসিজি)। বিমানবন্দরটি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য সংলগ্ন হওয়ায় এটি স্পর্শকাতর বিবেচনা করছে দিল্লি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে রিভা গাঙ্গুলি দাশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাতের জন্য সময় চেয়েছিলেন। কিন্তু তা পাওয়া যায়নি। ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন বা দিল্লিতে ভারতীয় পররাষ্ট্র দফতর এ সংক্রান্ত দ্য হিন্দুর প্রশ্নের জবাব দেয়নি। ভারতীয় হাইকমিশনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রিভা গাঙ্গুলি দাশ একটি সফরে ঢাকার বাইরে রয়েছেন। তিনি ভারতের পররাষ্ট্র দফতরের সচিব (পূর্ব) হিসেবে যোগ দিবেন। এ জন্য গত ১৪ জুলাই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেনের সাথে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন।

দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের জাতীয় নাগরিকপঞ্জি ও নাগরিকত্ব (সংশোধিত) আইন নিয়ে বাংলাদেশের সাথে টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির উচ্চ পর্যায়ের অনেক নেতা অবৈধ অভিবাসীদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশীদের ক্রমবর্ধমান মৃত্যু নিয়ে বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলো সোচ্চার হয়ে উঠেছে। ঢাকায় পাকিস্তান ও চীনের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট গ্রুপগুলো বাংলাদেশের সাথে ভারতের সৃষ্ট এই দূরত্বকে সুযোগ হিসেবে দেখছে ।

কল্লোল ভট্টাচার্যের লেখা প্রতিবেদনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করে তার সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের আলাপচারিতার বিষয়টিও উঠে এসেছে। বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের লজ্জাজনক ইতিহাসকে পাশ কাটিয়ে নতুন করে সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করছেন তারা।


হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়, কোভিড-১৯ মোকাবিলায় ভারত সরকার বিভিন্ন সহযোগিতা দিলেও বাংলাদেশের কাছ থেকে একটি ধন্যবাদ চিঠিও পাওয়া যায়নি।

‘দ্য হিন্দু’র প্রতিবেদনে ইমরান খানের ফোন কলের বিষয় উল্লেখ করে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের করা ফোনকলের কথোপকথনের বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ঢাকা। পাকিস্তানের সরকারি বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, ইমরান খান শেখ হাসিনাকে কাশ্মীরের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন এবং এই বিরোধের ‘সমাধান’ চেয়েছিলেন। অন্যদিকে, পরদিন বৃহস্পতিবার ভারত এক প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করে বলেছে, ঢাকা মনে করে কাশ্মীর ইস্যু ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

‘দ্য হিন্দু’তে বাংলাদেশি একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনের সূত্র উল্লেখ করে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার কার্যালয়ে একটি অংশ সক্রিয়ভাবে চীনের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ককে সমর্থন করছে। গত ১০ মাসে পাকিস্তানের মিত্র চীনের সঙ্গে সম্পর্কের দ্রুত উন্নতিতে বিষয়টি দৃশ্যমান হয়। ২০১৯ সালের নভেম্বরে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করার পর পাকিস্তানের কাছ থেকে পেঁয়াজ নিয়েছিল বাংলাদেশ।

কল্লোল ভট্টাচার্য তার প্রতিবেদনে আরো তুলে ধরেন, গত ১৫ বছরে এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে কৃষিজাত পণ্য আমদানি করলো। শেখ হাসিনার সরকার জামায়াতে ইসলামীর নেতা মতিউর রহমান নিজামীকে ফাঁসি দেয়ার পরে ঢাকার সঙ্গে-ইসলামাবাদের সম্পর্কে ভাটা পড়ে। পাকিস্তান এই ফাঁসির বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধভাবে প্রতিবাদ করেছিল এবং দুই বছর পর্যন্ত (২০১৮-১৯) পাকিস্তানি হাইকমিশনারকে আমন্ত্রণও জানায়নি ঢাকা।
শীর্ষ নিউজ



..........