শুক্রবার, ১৯-জুলাই ২০১৯, ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন
  • স্বাস্থ্য
  • »
  • ক্যানসার রোধে বাঙালি বিজ্ঞানীর নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার

ক্যানসার রোধে বাঙালি বিজ্ঞানীর নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার

shershanews24.com

প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারী, ২০১৯ ১১:০৪ পূর্বাহ্ন

শীর্ষকাগজ ডেস্ক: ফুসফুসের ক্যানসারের চিকিৎসায় অত্যন্ত কার্যকর এক রাসায়নিক আবিষ্কার করেছে আমেরিকার ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক। ওই প্রতিষ্ঠানের দাবি, তাদের তৈরি রাসায়নিকটি প্রচলিত কেমোথেরাপির দ্রবণের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করলে কার্যকর ফল মিলতে পারে। ক্যানসার কোষগুলির অতি দ্রুত বৃদ্ধি রোধ করতে পারে ওই রাসায়নিকটি।
এই গবেষণার সঙ্গে জড়িত বাঙালি গবেষক শর্মিষ্ঠা দের দাবি, ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকে দু’বছর গবেষণা করে ফুসফুস ক্যানসারের চিকিৎসার কার্যকর পদ্ধতি খুঁজে পাওয়া গেছে। যারা ফুসফুসের ‘স্মল সেল’ ক্যানসারে ভুগছেন (যেমন ফুসফুস ক্যানসার), নতুন এই চিকিৎসা পদ্ধতি তাদের ক্ষেত্রে কার্যকর। তাদের গবেষণাপত্র সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে ‘আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যানসার রিসার্চের জার্নাল’-এ। 
ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (হু) বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী মরণ রোগ হিসেবে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে আছে ক্যানসার। বিভিন্ন ক্যানসারের মধ্যে ফুসফুসের ক্যানসারে মৃত্যুহার সব চেয়ে বেশি। 
শর্মিষ্ঠা জানিয়েছেন, ফুসফুস এবং অন্য ছোট ক্যানসার আক্রান্ত কোষ অতি দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং এই ধরনের ক্যানসার শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে রোগীকে বাঁচানো ভীষণ কঠিন হয়ে পড়ে। বিগত প্রায় তিন শতক ধরে একমাত্র কেমোথেরাপিই ছিল এই ক্যানসারের প্রধান ওষুধ। যদিও কেমোথেরাপি ক্যানসারকে পুরোপুরি নির্মূল করতে পারে না। 
শর্মিষ্ঠার দাবি, কেমোথেরাপির এমন একটি পদ্ধতি তাদের গবেষাগারে উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়েছে, যা অতিশয় কার্যকর।
শর্মিষ্ঠাদের গবেষণাপত্রে জানানো হয়েছে, যে-সব কেমোথেরাপি চালু আছে, যা ‘টিউমার ইনিশিয়েটিং’ কোষগুলিকে মারতে পারে না। ওই টিউমার ইনিশিয়েটিং কোষগুলি পরে কেমোথেরাপির প্রতিরোধক হয়ে দাঁড়ায়। শর্মিষ্ঠারা এমন একটি রাসায়নিক খুঁজে পেয়েছেন, যা এই স্মল সেল ক্যানসারে টিউমার ইনিশিয়েটিং কোষগুলিকে খুব সহজেই মারতে পারে। সাধারণত প্ল্যাটিনাম-নির্ভর যে-কেমোথেরাপি সিসপ্ল্যাটিন ব্যবহার হয়, তার সঙ্গে তাদের আবিষ্কৃত সিবিএল০১৩৭ রাসায়নিক প্রয়োগ করলে সেটি অনেক বেশি কার্যকর হয়। 
গবেষণাপত্রে দাবি করা হয়েছে, সিবিএল০১৩৭ এবং সিসপ্ল্যাটিন একসঙ্গে নির্দিষ্ট ইঁদুরের দেহে প্রয়োগ করায় তাদের দেহে টিউমারের বৃদ্ধি কমেছে এবং তারা অনেক দিন বেশি দিন বেঁচেছে। তাদের উদ্ভাবিত চিকিৎসা পদ্ধতি সাদা ইঁদুরের উপরে কার্যকর হয়েছে। এই থেরাপি মানবদেহে প্রয়োগ করা যায় কি না, তা নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা চলছে। সেটি সফল হলে এই থেরাপি কার্যকর ওষুধ হিসেবে গণ্য হবে এবং বহু রোগীর প্রাণ বাঁচাবে,’’ বলছেন শর্মিষ্ঠা।
শীর্ষকাগজ/জে