বৃহস্পতিবার, ১৪-নভেম্বর ২০১৯, ০৬:৫৩ অপরাহ্ন

জেনে নিন হাঁটার উপকারিতা

shershanews24.com

প্রকাশ : ০৮ জুলাই, ২০১৯ ০৪:৪১ অপরাহ্ন

শীর্ষকাগজ ডেস্ক: প্রতিদিন হাঁটা আপনাকে সুস্থ ও সতেজ রাখে। অর্থ ব্যয় হ্রাস করে। তেমনি কর্মশক্তি বাড়িয়ে দেয়। সারাক্ষণ থাকতে পারেন প্রাণচঞ্চল। শারীরিক সুস্থতার সঙ্গে সঙ্গে মানসিকভাবেও ভালো থাকার চমৎকার উপায় হলো হাঁটা। এমনকি আপনার জীবন থেকে সময় অপচয়ও রোধ করে এই হাঁটার অভ্যাস।

হাঁটার উপকারিতা বিস্তর। নিয়মিত হাঁটেন যারা, তাদের হৃৎপিণ্ড সুস্থ থাকে। কারণ, হাঁটার ফলে হৎপিণ্ড ও ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বাড়ে। আর  উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও স্ট্রোকের মতো জীবনঘাতী রোগগুলো প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত হাঁটার ভূমিকা এখন একাধিক গবেষণায় প্রমাণিত।

Walking is the best medicine- আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের জনক হিপোক্রেটিস এ কথাটি বলেছিলেন আড়াই হাজার বছরেরও বেশি সময় আগে। কথাটি আজও একই রকম সত্য। বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য-গবেষকদের মতামতও তাই বলছে। হাঁটার উপকারিতাগুলো :

হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখে

নিয়মিত হাঁটা হৃৎপিণ্ডের সুস্থতার জন্যে বিশেষভাবে উপকারী। যারা সপ্তাহে তিন ঘণ্টা দ্রুতগতিতে হাঁটেন, তাদের করোনারি হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম। সেই সঙ্গে কমে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি। হৃৎপিণ্ড থাকে সুস্থ সবল ও অধিকতর কর্মক্ষম।

রক্তে কোলেস্টেরল-মাত্রার তারতম্য করোনারি হৃদরোগের অন্যতম কারণ। হৃৎপিণ্ডের সুস্থতার জন্যে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল এলডিএল-এর পরিমাণ থাকা চাই পরিমিত আর উপকারী কোলেস্টেরল এইচডিএল-এর পরিমাণ থাকা উচিত নির্দিষ্ট সীমার চেয়ে বেশি। নিয়মিত হাঁটলে এলডিএল-এর পরিমাণ কমে এবং বাড়ে এইচডিএল-এর পরিমাণ। হৃৎপিণ্ডের সুস্থতার জন্যে এটি জরুরি।

ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখে

নিয়মিত হাঁটলে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। উল্লেখ্য, অতিরিক্ত ওজন বা মেদস্থূলতা করোনারি হৃদরোগের অন্যতম কারণ। অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেকেই বিভিন্ন রকম পদ্ধতি অবলম্বন করে থাকেন। এর জন্য অর্থও খরচ করেন। যদি নিয়মিত হাঁটেন তবে আপনার ক্যালরি এবং ফ্যাট ক্ষয় হবে। আস্তে আস্তে আপনার ওজনও নিয়ন্ত্রণে আসবে। হাঁটার ফলে দেহের পেশীগুলোও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।

হাঁটা ন্যাচারাল বাইপাস

নিয়মিত হাঁটেন যারা তাদের হৃৎপিণ্ডের চারপাশে কোলেটারাল সারকুলেশন গড়ে ওঠে। হৃৎপিণ্ডের ব্লকেজ-আক্রান্ত ধমনীর চারপাশে কিছু পরিপূরক রক্তনালী সচল হয়ে ওঠার মাধ্যমে গড়ে উঠে একটি কোলেটারাল সারকুলেশন। উল্লেখ্য, হৃৎপিণ্ডের করোনারি ধমনীর চারপাশে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রক্তনালী থাকে-যারা শারীরিক পরিশ্রম করেন, ব্যায়াম করেন, বিশেষ করে যারা নিয়মিত হাঁটেন, তাদের এই রক্তনালীগুলো সচল হয়ে ওঠে। মূলত এই বিকল্প রক্ত সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমেই হৃৎপিণ্ডের সব অংশে প্রয়োজনীয় রক্ত পৌঁছে যায়। করোনারি হৃদরোগ নিরাময়ে বিনা অর্থ ব্যয়ে চমৎকারভাবে লাভ করতে পারেন নিয়মিত ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা হাঁটা এবং ব্যায়ামের মধ্য দিয়ে।

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, এসব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রক্তনালীর সংখ্যা কারো কারো ক্ষেত্রে দুশ থেকে আড়াইশটি পর্যন্ত হতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘ন্যাচারাল বাইপাস’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়

যাদের ডায়াবেটিস আছে সপ্তাহে অন্তত চার/পাঁচ দিন জোরে হাঁটুন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, হাঁটা ডায়াবেটিস রোগীর জন্য বেশি কার্যকর। ডায়াবেটিস স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। নিয়মিত হাঁটার মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রেখে স্ট্রোকের ঝুঁকিমুক্ত থাকুন। সঙ্গে সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করে

একাধিক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন, নিয়মিত হাঁটার ফলে কোলন ক্যান্সার এবং বিশেষত মহিলাদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে। এমনকি ক্যান্সার-আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে যারা নিয়মিত হাঁটেন, তাদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অন্যদের চেয়ে তুলনামূলক কম।

হাড় ক্ষয় রোধ করে

নিয়মিত হাঁটার ফলে হাড়ক্ষয় বা অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি কমে। হাঁটলে পায়ের শক্তিও বৃদ্ধি পায়।। এছাড়া কোমর এবং শরীরের অন্যান্য অঙ্গ নড়াচড়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই সুস্থ থাকে।  নিয়মিত হাঁটার ফলে শরীরের ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হয়ে ওঠে।

স্মৃতি শক্তি বাড়ায়

নিয়মিত হাঁটার ফলে মস্তিষ্কের রক্তনালী ও নিউরোনগুলোতে রক্তপ্রবাহ বাড়ে। মস্তিষ্কের সব নিউরোন, সিন্যাপ্স কর্মচঞ্চল হয়ে ওঠে। মস্তিষ্ক হয়ে ওঠে অধিকতর সক্রিয় ও প্রাণবন্ত। দেহ-মনে সৃষ্টি হয় সুখানুভূতি। গবেষকরা বলছেন, এসব মানুষ তুলনামূলক দুশ্চিন্তামুক্ত, হাসিখুশি, তারুণ্যদীপ্ত ও ইতিবাচক মনোভাবে উজ্জীবিত। নিয়মিত হাঁটার ফলে বয়সজনিত স্মৃতিভ্রম রোগ আলঝেইমার্স-এর ঝুঁকিও কমে অনেকখানি।

বিষন্নতা দূর করে

হাঁটা বিষন্নতা প্রতিরোধ ও নিরাময় করে। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, গুরুতর বিষন্নতায় ভুগছিলেন এমন রোগীদের মধ্যে একদলকে নিয়মিত হাঁটার পরামর্শ দেয়া হয়েছিলো। টানা ১২ সপ্তাহ এভাবে চলার পর দেখা গেছে, তাদের বিষন্নতার হার কমেছে উল্লেখযোগ্য মাত্রায়।

দীর্ঘায়ু করে

চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলছেন, হাঁটা আপনার দীর্ঘায়ুর সম্ভাবনা বাড়ায়। আপনাকে সুস্থ রাখে। তাই নিয়মিত হাঁটুন। সকালে বা বিকেলে আপনার সুবিধামতো যে কোনো সময়ে হাঁটতে পারেন। একে দৈনন্দিন রুটিনের একটি আনন্দময় অনুষঙ্গে পরিণত করুন। সুস্থতার আনন্দ নিয়ে হাঁটুন।

দেহ-মনের সুস্থতার জন্যে জোর কদমে হাঁটা উচিত। ঘণ্টায় চার মাইল বেগে। দিনে অন্তত ৩০ মিনিট। এভাবে না পারলে ধীরে হাঁটুন এবং দিনে ১৫/২০ মিনিট করে শুরু করুন। প্রতিদিনই একটু একটু করে হাঁটার গতি ও সময় বাড়ান।

হাঁটার ফলে উপরোক্ত উপকারগুলো তো পাচ্ছেন, এর সঙ্গে সঙ্গে আপনার অর্থও সাশ্রয় হচ্ছে। অসুস্থ হলে চিকিৎসক ওষুধ এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিয়ে থাকেন। এর জন্য অনেক অর্থ খরচ হয়।  হাঁটা এদিক থেকে আপনাকে সাশ্রয়ী করছে। অসুস্থ হলে চিকিৎসকের কাছে এমনকি হসপিটালেও যেতে হচ্ছে। এতে আপনার সময় নষ্ট হয়। এক্ষেত্রে হাঁটা আপনার সময় অপচয় রোধ করছে।

তথ্যসূত্র : বিভিন্ন গবেষণা, স্বাস্থ্যগত জার্নাল।
শীর্ষকাগজ/এসএসআই