বৃহস্পতিবার, ১৪-নভেম্বর ২০১৯, ০৩:২৬ পূর্বাহ্ন
  • স্বাস্থ্য
  • »
  • সরকারি কর্মস্থল ফাঁকি দিয়ে নিজের ক্লিনিকে রোগী দেখছেন ডাক্তার পারভীন

সরকারি কর্মস্থল ফাঁকি দিয়ে নিজের ক্লিনিকে রোগী দেখছেন ডাক্তার পারভীন

shershanews24.com

প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০৮:৩৪ অপরাহ্ন

সুজন সরকার, সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার খোকশাবাড়ি ইউনিয়নের ১০ শয্যা বিশিষ্ট পল্লী স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোমেনা পারভীন পারুলের বিরুদ্ধে হাসপাতালে রোগীকে চিকিৎসাসেবা না দিয়ে শহরের গোলাশায় তার নিজস্ব নিউ অ্যাপোলো হাসপাতালে রোগী দেখায় ব্যস্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, ডাঃ মোমেনা পারভীন পারুল তার সরকারি অফিস ফাঁকি দিয়ে নিজের হাসপাতালে রোগী দেখছেন প্রতিনিয়ত। এতে ওই এলাকার গরিব রোগীরা চিকিৎসাসেবা থেকে প্রতিনিয়ত বঞ্চিত হচ্ছেন। 

বুধবার সকালে সরজমিনে গেলে দেখা যায়, খোকশাবাড়ির ইউনিয়নের ১০ শয্যা বিশিষ্ট পল্লী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডাক্তারের অপেক্ষায় সময় পার করছে। কিন্তু দেখা মেলেনি ডাক্তারের।

এসময় ডাক্তার না পাওয়া গেলেও সিনিয়র স্টাফ নার্স হামিদুল ইসলাম, ফার্মাসিস্ট শরিফুল ইসলাম, স্বাস্থ্য সহকারী জজবান নাহারকে পাওয়া যায়।
জানা গেছে, এখানে ২ জন ডাক্তার, ৪ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স, ৪ স্বাস্থ্য সহকারী, ৩ জন সহকারী নার্স থাকার কথা। কিন্তু এ সময় ওই তিন জন ছাড়া আর কাউকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাওয়া যায়নি। 

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ছোনগাছা ইউনিয়নের গুপিরপাড়ার সেলিম রেজার ছেলে মেরাজুল (১৪) ও খোকশাবাড়ি ইউনিয়নের মৃত রহিজ উদ্দীনের ছেলে আব্দুর রশিদ অভিযোগ করে বলেন, সকাল ৯টার সময় থেকে ডাক্তারের জন্য অপেক্ষা করছি। এখন প্রায় দুপুর ১টা বাজে এখনো ডাক্তার আসেনি। আমরা এখন কি করবো।

এ বিষয়ে ডাঃ মোমেনা পারভীন পারুলে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি সিভিল সার্জন অফিসে বোর্ড মিটিংয়ে আছি। আরেক ডাঃ জুলিয়া আক্তারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি সাড়ে ১২টার পর শহরে কাজে চলে এসেছি। এরকম ভুল আর কোন দিন হবে না।

এদিকে সকাল ১১টার সময় গোলাশা নিউ অ্যাপোলো হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বেলকুচির সুর্বণসারা গ্রামের আব্দুর রশিদের শ্বাসকষ্টের কারণে রক্ত পরীক্ষা ও ইসিজি করানোর জন্য একজন তার রক্ত নেন। পরে তার নিকট থেকে রক্ত ও এক হাজার টাকা নিয়ে অন্য হাসপাতালে পরীক্ষার করাতে যান ওই ব্যক্তি।

এসময় সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে নিউ অ্যাপোলো হাসপাতালের ম্যানেজার পালিয়ে যায়। দ্রুত হাসপাতালের সকল রুম বন্ধ করে দেয়। পরে ডাঃ মোমেনা পারভীন পারুলের সহকারী মোর্শেদা খাতুন বলেন, ডাঃ আপা নাই। আপনারা বসেন। ডাঃ আপা আসলে আপনাদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য বলবো।
       
এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডাঃ জাহিদুল ইসলাম এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, দায়িত্বরত ডাক্তার একজন না থাকলেও আরেক জন থাকার কথা। যদি একজনও না থাকে তবে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

তিনি আরোও বলেন, সকালে সিভিল সার্জন অফিসে বোর্ড মিটিং ছিল। বেলা ১১টার সময় মিটিং শেষ হয়েছে। পরে সবাই যার যার কর্মস্থলে চলে যাওয়ার কথা।

উল্লেখ্য, খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনুমোদন না নিয়েই ডাঃ মোমেনা পারভীন পারুলের বিরুদ্ধে নিউ এ্যাপোলো হাসপাতাল নামে একটি প্রাইভেট হাসপাতাল পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। ডাঃ মোমেনা পারভীন পারুলের স্বামী কামারখন্দ উপজেলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও)। ডাঃ মোমেনা পারভীন পারুলের স্বামী ডাঃ এসএম সুমনুল হক সজীব ভূল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় প্রধান আসামি। তিনি এখন পলাতক আছে। 
শীর্ষনিউজ/প্রতিনিধি/এ