মঙ্গলবার, ২০-আগস্ট ২০১৯, ০১:০৬ পূর্বাহ্ন

টুইটারে ফলোয়ার কমছে ট্রাম্পের, কারণ জানতে বৈঠক

shershanews24.com

প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০৫:১৬ অপরাহ্ন

শীর্ষকাগজ ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের টুইটার ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। সংবাদমাধ্যম আর বিরোধী পক্ষকে প্রায়ই ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণে নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টকেই হাতিয়ার করেছেন তিনি। এমনকি এটি ছাড়া নির্বাচনে জয়ীও হতে পারতেন না বলে সন্দেহ তার। তবে হুট করেই যেন কমতে শুরু করেছে তার ফলোয়ার সংখ্যা। এমন পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন ট্রাম্প শরণাপন্ন হয়েছেন টুইটারের প্রধান নির্বাহী জ্যাক ডোরসি-র। নিজের ফলোয়ার কমে যাওয়ার ব্যাপারে সরাসরি অভিযোগ জানিয়েছেন তার কাছে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবারের বৈঠকে টুইটারের প্রধান নির্বাহীর কাছে নিজের ফলোয়ার কমে যাওয়ার কারণ জানতে চান ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের আবাসিক দফতর হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল।

এর আগে রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের দায়ে টুইটারকে অভিযুক্ত করেছিলেন ট্রাম্প। তবে মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে বৈঠকের পর নতুন টুইট করেন তিনি।

টুইটে ট্রাম্প লিখেছেন, বিকালে হোয়াইট হাউসে টুইটারের জ্যাক ডোরসি-র সঙ্গে চমৎকার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাদের প্ল্যাটফর্ম সংক্রান্ত নানা বিষয়ে কথা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে সোশ্যাল মিডিয়া নিয়েও কথা হয়েছে।

এ পোস্টের সঙ্গে জ্যাক ডোরসি-র সঙ্গে বৈঠকের একটি ছবিও যুক্ত করে দেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের সঙ্গে জ্যাক ডোরসি-র এটিই প্রথম বৈঠক। তবে টুইটের উত্তরে তিনি লিখেছেন, সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আমরা টুইটারকে আরও সমৃদ্ধ করতে চাই।

সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, বৈঠক জ্যাক ডোরসি ট্রাম্পকে তার ফলোয়ার কমে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও স্প্যাম ছড়ায় এমন অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে টুইটার কর্তৃপক্ষ। এতে করে বিপুল সংখ্যক অ্যাকাউন্ট কমে গেছে। ফলে অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিদেরও ফলোয়ার কমে গেছে। এমনটি জ্যাক ডোরসি-র নিজেরও ফলোয়ার কমেছে।

কিহোল নামের একটি সোশ্যাল মিডিয়া ডাটা ফার্মের তথ্য বলছে, ২০১৮ সালের জুলাইয়ে শুধু এক মাসেই ট্রাম্পের ফলোয়ার কমেছে দুই লাখ চার হাজার। ওই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিভ্রান্তি ছড়াতে ব্যবহৃত সন্দেহভাজন অনেক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছিল টুইটার।

২০১৮ সালের গোড়ার দিকে টুইটারের এক কর্পোরেট ব্লগে বলা হয়, ট্রাম্পের মতো বিশ্বনেতাদের অ্যাকাউন্টগুলোর প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয় প্রতিষ্ঠানটি। ওই সময়ে ট্রাম্পের অ্যাকাউন্ট বাতিল করতে বহু ব্যবহারকারীর আহ্বানের প্রেক্ষিতে নিজেদের এমন অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করে প্রতিষ্ঠানটি।

সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্টটির কর্পোরেট ব্লগে বলা হয়েছে, টুইটার থেকে একজন বিশ্বনেতাকে ব্লক করা হলে কিংবা তার বিতর্কিত টুইট মুছে দেওয়া হলে সেসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আড়াল হয়ে যাবে; যা জনগণের দেখা এবং এ নিয়ে বিতর্ক করা উচিত।

এর আগে ২০১৭ সালে এক জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের টুইটার ব্যবহার না করার পক্ষে মত দিয়েছেন দেশটির বেশিরভাগ নাগরিক। দ্য ইকোনোমিস্ট এবং ইউগভ কর্তৃক পরিচালিত ওই জরিপে বলা হয়েছে, মাত্র ২৬ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের টুইটার ব্যবহারকে ‘যথাযথ’ বলে মনে করেন। বিপরীতে তার টুইটার ব্যবহার করা উচিত নয় বলে মনে করেন ৫৯ শতাংশ মার্কিনি। তবে ট্রাম্পের দাবি, মূল ধারার সংবাদমাধ্যমগুলোর ‘ভুয়া সংবাদের’ বিপরীতে টুইটারের মাধ্যমে সমর্থকদের কাছে তিনি নিজের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন।
শীর্ষকাগজ/এসএসআই