মঙ্গলবার, ২০-আগস্ট ২০১৯, ১২:৫১ পূর্বাহ্ন
  • আন্তর্জাতিক
  • »
  • মোদির বিরুদ্ধে বিধিভঙ্গের অভিযোগ কমিশনের ভূমিকায় বিভ্রান্তি

মোদির বিরুদ্ধে বিধিভঙ্গের অভিযোগ কমিশনের ভূমিকায় বিভ্রান্তি

shershanews24.com

প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল, ২০১৯ ১১:০১ পূর্বাহ্ন

শীর্ষকাগজ ডেস্ক: ভারতে নির্বাচনের কমিশনের নিষেধাজ্ঞা সত্তেও প্রায় প্রতিটি সভাতেই কার্যত সেনার নামে ভোট চাইছেন নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু কমিশন কার্যত নিশ্চুপ। নির্বাচনী বিধিভঙ্গের নির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, মোদির বিরুদ্ধে কলকাতার এক ব্যক্তির দায়ের করা অভিযোগ কমিশনের সাইট থেকেই কার্যত উধাও হয়ে গিয়েছে। এই নিয়েই প্রশ্নের মুখে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা। যদিও এটি নেহাতই প্রযুক্তিগত সমস্যা বলে দায় এড়াতে চাইছে কমিশন।
অভিযোগকারী মুম্বই নিবাসী কলকাতার বাসিন্দা মহেন্দ্র সিংহ। এ মাসের গোড়ার দিকে মহারাষ্ট্রের লাতুরে একটি নির্বাচনী জনসভায় মোদি বলেছিলেন, পুলওয়ামায় যে জওয়ানরা শহিদ হয়েছেন এবং পাকিস্তানের বালাকোটে যারা অভিযান চালিয়েছিলেন, আপনাদের ভোট তাদের উৎসর্গ করুন। মোদির এই মন্তব্যের পর গত ৯ এপ্রিল নির্বাচন কমিশনে বিধিভঙ্গের অভিযোগ দায়ের করেন মহেন্দ্র। তার দু’দিন পর মহারাষ্ট্রের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তার (সিইও) কাছে মোদির ওই বক্তব্যের ভিডিয়ো-সহ রিপোর্ট চেয়ে পাঠায় জাতীয় নির্বাচন কমিশন।
কিন্তু বুধবার থেকেই ওই অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের সাইট থেকেই কার্যত উধাও হয়ে গিয়েছে। সাইটে দেখানো হচ্ছে, ‘রিজলভড’। অর্থাৎ অভিযোগের সমাধান হয়ে গিয়েছে। 
মহেন্দ্র জানিয়েছেন, তিনি যে পদ্ধতিতে অভিযোগ জানিয়েছিলেন, তাতে সেটা কমিশনের ওয়েবসাইটে দেখানোর কথা। মহারাষ্ট্রের সিইও-র অফিসে বুধবার পর্যন্ত যে ৪২৬টি অভিযোগ জমা পড়েছে, সেগুলি ওয়েবসাইটে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু বুধবার থেকে মোদির বিরুদ্ধে ৯ এপ্রিলের ওই অভিযোগের সমাধান হয়ে গিয়েছে বলে দেখানো হচ্ছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার সময় ওই অভিযোগ নিয়ে তথ্য প্রমাণ পেশ করার কথা মহারাষ্ট্রের সিইও-র। অথচ তার আগেই সাইটে দেখানো হচ্ছে অভিযোগের সমাধান হয়ে গিয়েছে।
কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সেটা যেমন জানাতে হয়, তেমনই অভিযোগের সারবত্তা থাকলে তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাও ওয়েবসাইটে দেখানোর কথা। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সে সব ব্যাখ্যা না দিয়েই রিজলভড লিখে দেওয়ায় বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। ক্ষুব্ধ অভিযোগকারী মহেন্দ্র সিংহও। তার বক্তব্য, দু’সপ্তাহ কেটে যাওয়ার পরও ওই অভিযোগের বিচার তো হলই না, উল্টে তার পরও প্রতিটি সভায় সেনাকে রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে যাচ্ছেন মোদি।
তবে কমিশন জানিয়েছে, ‘রিজলভড’ দেখানো নিছকই প্রযুক্তগত সমস্যা। ওই অভিযোগের সমাধান হয়নি। মহারাষ্ট্রের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের মাধ্যমে লাতুরের সংশ্লিষ্ট অফিসারকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। কমিশনের পদস্থ এক আধিকারিক জানিয়েছেন, অভিযোগটি এখনও বিচারাধীন।
এদিকে, লোকসভা ভোটের তিন দফা হয়ে গিয়েছে। তিনশোর বেশি আসনে ভোট নেওয়া হয়ে গিয়েছে। গোটা দেশের কোথাও মোদির পক্ষে আগের মতো হাওয়া নেই। এখন তাই প্রধানমন্ত্রীকে নব নব রূপে মেলে ধরতেই ব্যস্ত গোটা বিজেপি শিবির। যেমনটি হল বুধবার। বলিউড তারকা অক্ষয় কুমারকে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎকার নেওয়ানো হল। বলা হল, গোটা সাক্ষাৎকারই ‘অরাজনৈতিক’। যদিও তার পরতে পরতে রাজনীতিই গুঁজে দিলেন প্রধানমন্ত্রী। যা দেখে রাহুল গান্ধী টুইট করলেন, ‘বাস্তবের সামনে অভিনয় চলে না। জনতার সামনে চৌকিদারের ছলচাতুরি চলে না। চৌকিদার চোর হ্যায়।’ জনসভায় প্রিয়ঙ্কা গান্ধীও বললেন, ‘বড় বড় অভিনেতাকে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু নিজের কেন্দ্রের গরিব লোকেদের সঙ্গে দেখা করার সময় নেই তার।’ 
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদি বুঝতে পারছেন, বিজেপি তো নয়, এনডিএর শরিকদের দিয়েও সরকার হবে না। তাই এনডিএর বাইরের নেতাদেরও কাছে টানার বার্তা দিচ্ছেন। আজ শুক্রবার মনোনয়ন পেশের সময়ও তাই নীতীশ কুমার, উদ্ধব ঠাকরেদের নিয়ে যাচ্ছেন। গত পাঁচ বছরে যে শরিকদের উপেক্ষাই করে এসেছেন মোদি ও অমিত শাহ। সূত্র: এনডিটিভি।
শীর্ষকাগজ/এম