মঙ্গলবার, ১২-নভেম্বর ২০১৯, ০৪:১৩ অপরাহ্ন
  • আন্তর্জাতিক
  • »
  • নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও অস্ত্র কিনে যাচ্ছে মিয়ানমার

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও অস্ত্র কিনে যাচ্ছে মিয়ানমার

shershanews24.com

প্রকাশ : ৩০ মে, ২০১৯ ০৮:০০ অপরাহ্ন

শীর্ষকাগজ ডেস্ক: ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের নিষেধাজ্ঞা এবং জাতিসংঘের সত্য অনুসন্ধান মিশনের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ছিন্নের আহ্বানের মধ্যেও অস্ত্র কিনে যাচ্ছে মিয়ানমার। সামরিক শক্তি বাড়াতে চীন, রাশিয়া, ভারত ও ইসরায়েল থেকে দেশটি প্রচুর প্রাণঘাতী অস্ত্র সংগ্রহ করে যাচ্ছে।  ভৌগোলিক অবস্থান ও অস্ত্রের বাজার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বিভিন্ন দেশের সরকারের কাছ থেকে অস্ত্র কেনায় ছাড়ও পাচ্ছে মিয়ানমার।  ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে সামরিক-বৌদ্ধতন্ত্রের প্রচারণায় রাখাইনে ছড়ানো হয়েছে রোহিঙ্গা-বিদ্বেষ। ২০১৭ সালের আগস্টে অভিযান জোরদার করার আগের কয়েক মাসের সেনাপ্রচারণায় সেই বিদ্বেষ জোরালো হয়। এরপর শুরু হয় সেনা-নিধনযজ্ঞ। হত্যা-ধর্ষণ ও ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়ার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের মাধ্যমে নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য করা হয় প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গাকে। রোহিঙ্গা নিপীড়নের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিভাবে নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে মিয়ানমার।  দেশটির বেশ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে এসব নিষেধাজ্ঞার পরও অস্ত্র কিনতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে বেগ পেতে হচ্ছে না। তারা অস্ত্র কেনা অব্যাহত রেখেছে। 
অর্থনৈতিক অবরোধ শিথিল করলেও মিয়ানমারের কাছে এখনও অস্ত্র বিক্রি করছে না যুক্তরাষ্ট্র। তবে চীন অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘে মিয়ানমারকে সমর্থন দিয়ে আসছে বেইজিং। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই) এর তথ্য অনুযায়ী, দেশটি মিয়ানমারের অস্ত্রের প্রধান উৎস।  প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালে মিয়ানমারের ৬৮ শতাংশ অস্ত্রের আমদানি হয়েছে চীন থেকে।  এসআইপিআরআই-এর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ গবেষক সিমন উইজেম্যান জানান, সাঁজোয়া যান, ভূমি থেকে আকাশের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের প্রযুক্তি, রাডার ও মানববিহীন ড্রোনসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম ছিল এর মধ্যে। 
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মিয়ানমারের অন্যতম উদ্যমী বন্ধু রাশিয়া।  গত মাসে সেদেশের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা পরিদর্শন করেছেন মিয়ানমারের সেনা প্রধান মিং অং হ্লায়াং। 

সেখানে জেনারেল হ্লায়াং একটি হেলিকপ্টার প্লান্ট পরিদর্শন করেছেন। এরপর ‘এমআই ১৭১’ বিমানে চড়ে গিয়েছেন সাইবেরিয়া অঞ্চলের উলান উদে শহরে।  ওই এলাকায় তিনি বৈকাল হ্রদের ‘সৌন্দর্য্য উপভোগ’ করেছেন বলে মিয়ানমারের সরকারের মুখপত্র গ্লোবাল নিউ লাইটে উল্লেখ করা হয়। 
রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শুইগু ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে মিয়ানমার সফর করেন এবং ৬টি এসইউ-৩০ বিমান বিক্রি নিয়ে একটি চুক্তিতে সই করেন।  এই চুক্তিটি ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বলে অনুমান করা হয়।  ‘ফাইটার জেট’ বিমান বাহিনীর প্রধান যুদ্ধবিমানে পরিণত হয়েছে বলে সেই সময় জানান মিয়ানমারের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী। 
ওই চুক্তির পর মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর বলেছিল, এই চুক্তি রোহিঙ্গা সংকটকে তীব্রতর করবে।  তবে এই ‘অভিযোগের বিষয়ে কোনো মনোযোগ’ তাদের নেই বলে তখন মন্তব্য করেছিলেন রাশিয়া সরকারের একজন মুখপাত্র। 
আঞ্চলিক শক্তি হিসাবে চীনের বিপরীতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রতিবেশী মিয়ানমারের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বাড়ায় ভারত। একইসঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটেও নির্লিপ্ত ভূমিকা রাখে দেশটি।  নিরাপত্তা বিশ্লেষক অ্যান্থনি ডেভিসের মতে, মিয়ানমারের নৌবাহিনীর দিকে নজর দিচ্ছে ভারত।  মিয়ানমারকে বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি সরবরাহের পাশাপাশি যৌথ মহড়ার প্রস্তাব দিয়ে আসছে দেশটি।  ‘ভারতীয়রা মূলত মিয়ানমারের বিমান বাহিনীর আধুনিক করা নিয়ে কাজ করছে এবং এক্ষেত্রে অগ্রগতি হচ্ছে উল্লেখযোগ্য হারে’। বলেন ডেভিড। 
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকবার ভারত সফরে গেছেন মিয়ানমারের সেনা প্রধান মিং অং লাইং।  ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন জোরালো হওয়ার মধ্যেও মিয়ানমারের বেসামরিক নেত্রী অং সান সুচির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।  সেই সময় প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হন তারা। 
মিয়ানমারের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের।  ২০১৮ সালে রোহিঙ্গা সংকটের মধ্যেও মিয়ানমার সরকারকে পানি বিশুদ্ধকরণ সিস্টেম প্রদান করে ইসরায়েল। 
এর আগে ২০১৫ সালে ইসরায়েল সফর করেন জেনারেল মিং অং হ্লায়াং।  সেই সময় হলোকস্ট জাদুঘরের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সরবরাহ ব্যবস্থাও পরিদর্শন করেন তিনি।  ২০১৭ সালের এপ্রিলে মিয়ানমারের নৌবাহিনী তাদের ফেসবুক পাতায় ইসরায়েল নির্মিত ‘সুপার ডিভোরা এমকে-৩’ পেট্রোল বোটের বেশ কিছু ছবি পোস্ট করেছিল। 
একটি ছবির ক্যাপশনে লেখা ছিল: ‘মিয়ানমারের জলসীমায় সে ৪৫ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলছে।  মিয়ানমারের নৌবাহিনীতে স্বাগতম!’
তবে মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরেই নানা ধরনের বিতর্ক রয়েছে।  তাই ২০১৭ সালে একবার অস্ত্র বিক্রি বন্ধও হয়ে গিয়েছিল। ইয়াঙ্গুনের ইসরায়েল দূতাবাস জানিয়েছে, ‘মিয়ানমারের কাছে অস্ত্র না করার সিদ্ধান্তে বদল ঘটেনি’।
শীর্ষকাগজ/জে