মঙ্গলবার, ২৪-সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০২:২৯ পূর্বাহ্ন
  • আন্তর্জাতিক
  • »
  • কাশ্মীরে আশুরার মিছিলে নিরাপত্তা বাহিনীর হামলা, থমথমে পরিস্থিতি  

কাশ্মীরে আশুরার মিছিলে নিরাপত্তা বাহিনীর হামলা, থমথমে পরিস্থিতি  

shershanews24.com

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০৯:০৫ পূর্বাহ্ন

শীর্ষনিউজ ডেস্ক: এক মাস পেরিয়ে গেলেও কাশ্মীরে কঠোর আরোপ অব্যাহত আছে। ঈদুল আজহার দিন নিরাপত্তা কিছুটা শিথিল করা হলেও মহররমে কার্যত থমথমে ছিল কাশ্মীর।

আনন্দবাজার জানায়, কারবালা দিবসের স্মরণে কোনো ধরনের অনুষ্ঠান, তাজিয়া মিছিল কিছু করতে দেয়নি নিরাপত্তা বাহিনী। জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের পর এটাই ছিল প্রথম দশই মহররম।

আশুরার প্রস্তুতি হিসেবে রাস্তার পাশে কালো পতাকা টাঙানো হয়েছিল। কিন্তু কোনো ধরনের মিছিল বের করার অনুমতি মেলেনি। শ্রীনগর মিউনিসিপ্যাল কমিটির সদস্য তানবীর পাঠানের অভিযোগ, “গলিতে মিছিল বের করেছিলাম। নিরাপত্তা বাহিনী পাহারায় ছিল। আচমকা তারা আমাদের ওপর কাঁদানে গ্যাসের শেল ও ছররা ছুড়তে থাকে।’’

স্থানীয়দের মতে, নব্বইয়ের দশকে অশান্ত সময়ে, এমনকি তার পরেও মহররমের দিন উপত্যকায় জনশূন্য রাস্তা দেখা যায়নি। কিন্তু আজ অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া কোনো গাড়ির পথে নামার অনুমতি ছিল না। প্রয়োজনে যারা বাইরে বেরিয়েছেন, তাদের পরিচয়পত্র দেখাতে হয়েছে নিরাপত্তারক্ষীদের কাছে।

জানা গেছে, অনন্তনাগ, কুলগাম, পুলওয়ামা, সোপিয়ান, কুপওয়ারা, বারামুলা-সহ একাধিক জেলায় নতুন করে কারফিউর মতো বিধিনিষেধ জারি হয়। শ্রীনগরের সুনসান রাস্তায় পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর অবস্থান ছিল লক্ষনীয়।

ওল্ড শ্রীনগরের বাসিন্দা, চিত্র সাংবাদিক মহম্মদ মকবুল বলেন, “ভোর সাড়ে ৪টার নাগাদ পুলিশ কারফিউ কথা মাইকে ঘোষণা করেছে। রাস্তায় বার হতেও নিষেধ করা হয়।’’

তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহের দাবি, কাশ্মীরে কারফিউ জারি হয়নি। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কিছু জায়গায় বিধিনিষেধ ছিল মাত্র।

এ দিকে, সংবাদ সংস্থা এপি এক প্রতিবেদনে উপত্যকার বাসিন্দাদের উপর নিরাপত্তা বাহিনীর অত্যাচারের অভিযোগ এনেছে। কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২০০ জনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে করা প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, রাতে নিরাপত্তা বাহিনী বাড়িতে ঢুকে যুবকদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে, বেধড়ক পেটাচ্ছে এমনকি, বৈদ্যুতিক শক দিয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে বশির আহমেদ নামে এক বয়স্ক কাশ্মীরি জানিয়েছেন, তার ভাই জঙ্গিদের দলে যোগ দেওয়ায় সেনা সদস্যরা তাকে ১০ অগস্ট তুলে নিয়ে গিয়েছিল। ভাইয়ের খবর জানতে তাকে এমন পেটানো হয় যে, তিনি জ্ঞান হারান। তাতেও শেষ হয়নি। পরে তাদের বাড়িতে গিয়ে সেনাবাহিনী খাবারে কেরোসিন মিশিয়ে দেয়।

এ ছাড়া, নোংরা জল খেতে বাধ্য করা, খাবার নষ্ট করে দেওয়া, রাস্তায় ফেলে লাঠি দিয়ে তিন ঘণ্টা ধরে পিটুনির কথাও জানিয়েছেন বেশ কয়েক জন।

তবে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজেশ কালিয়া সব অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে জানান, তারা কখনও মানবাধিকার লঙ্ঘন করেননি। দেশবিরোধী কাজ করায় কয়েকজনকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে মাত্র।

শীর্ষনিউজ/ওজি