মঙ্গলবার, ০৪-আগস্ট ২০২০, ০৫:২৩ অপরাহ্ন

প্রাণঘাতী যে ১২ ভাইরাস

shershanews24.com

প্রকাশ : ০১ আগস্ট, ২০২০ ০৪:৫২ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ ডেস্ক : যুগের পরিক্রমায় ভাইরাসের আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন বিশ্বব্যাপী হাজার হাজার, লাখ লাখ মানুষ। কোন কোন ভাইরাসের হাত থেকে মানুষের মুক্তি মিলেছে। অনেক ভাইরাসের প্রতিষেধকও আবিষ্কার হয়েছে। আবার জ্ঞান-বিজ্ঞানের এই আধুনিক যুগেও ভাইরাসের আক্রমণে দিশেহারা বিশ্ববাসী। এমনই কয়েকটি ঘাতক ভাইরাস সম্পর্কে জানবো। তার আগে জেনে নিবো ভাইরাস সম্পর্কে।

ভাইরাস:
অতি-আণুবীক্ষণিক এবং অকোষীয়। ভাইরাসকে জীব হিসেবে বিবেচিত হবে কিনা, এ নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে দ্বিমত আছে। অতিক্ষুদ্র এই জৈব কণা বা অণুজীব শুধু জীবিত কোষের ভিতরেই বংশবৃদ্ধি করতে পারে। পোষক ছাড়া এটি নির্জীব। ভাইরাস মানুষ,পশু-পাখি, উদ্ভিদের বিভিন্ন রোগের জন্য দায়ী। এমনকি, কিছু ভাইরাস ব্যাক্টেরিয়ার মধ্যে বংশবৃদ্ধি করে- এদের ব্যাক্টেরিওফেজ (Bacteriophage) বলা হয়। ভাইরাস শব্দ এসেছে ল্যাটিন ভাষা হতে। এর অর্থ বিষ। আদিকালে রোগ সৃষ্টিকারী যে কোন বিষাক্ত পদার্থকে ভাইরাস বলা হত। ভাইরাসকে জীবাণু না বলে 'বস্তু' বলা হয়। কারণ, জীবদেহ ডিএনএ, আরএনএ ও নিওক্লিক এসিড দিয়ে গঠিত প্রোটিন, তাই ভাইরাস অকোষীয়। 

মারবার্গ ভাইরাস:
১৯৬৭ সালে উগান্ডা থেকে আমদানি করা বানর থেকে জার্মানিতে ছড়িয়ে পড়ে ভাইরাসটি। এই ভাইরাসের সংক্রমণে রক্তক্ষরণসহ জ্বর হয়। যা থেকে শরীরের যে কোন অঙ্গ বিকল হয়ে মৃত্যু হতে পারে। প্রথমদিকে মৃত্যুহার ছিলো ২৫ শতাংশ। এরপর ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সালে কঙ্গোয় সংক্রমণের পর এ হার দাঁড়ায় ৮০ শতাংশে। ২০০৫ সালে এঙ্গোলাতেও এটি মহামারী রূপ নেয়।

ইবোলা ভাইরাস:
সুদান আর কঙ্গোতে ১৯৭৬ সালে ইবোলা মহামারী আকারে ছাড়িয়েছে। প্রাণঘাতী এ ভাইরাস ছড়ায় আক্রান্ত মানুষ বা প্রাণির রক্ত বা টিস্যু থেকে। সবশেষ এটি ২০১৪ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় মহামারী রূপ নেয়।

র‍্যাবিস/ জলাতঙ্ক:
প্রাণির জন্য জলাতঙ্কের টিকা প্রথম আবিস্কার করা হয় ১৯২০ সালে। উন্নয়নশীল দেশে এ রোগ নেই বললেই চলে। ভারত আর আফ্রিকার কয়েকটি স্থানেই এর বিস্তার দেখা যায়। এ ভাইরাস মস্তিষ্ককে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে। র‍্যাবিসের প্রতিষেধক আছে। কিন্তু সময়মতো চিকিৎসা না হলে মৃত্যু নিশ্চিত।

এইচআইভি:
আধুনিক যুগেও প্রাণঘাতী এইচআইভি ভাইরাস ভয়াবহ আতঙ্ক। ১৯০৮ সালে ভাইরাসটি প্রথম সনাক্ত হয়। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসে মারা গেছেন ৩ কোটি ২০ লাখ মানুষ। প্রতিষেধক ওষুধ তৈরি হলেও স্বল্প ও নিম্ন আয়ের দেশেই এই ভাইরাস ছড়াচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, আফ্রিকার প্রতি ২৫ জনে একজন এইচআইভি’তে আক্রান্ত। এ ভাইরাসে মৃত্যু নিশ্চিত।

স্মলপক্স/বসন্ত:
১৯৮০ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পৃথিবীকে বসন্ত মুক্ত ঘোষণা করে। এর আগে হাজার বছর মানুষ এ ভাইরাসের সঙ্গে যুদ্ধ করেছে। এর সংক্রমণে প্রতি ৩ জনে ১ জনের মৃত্যু হতো। যারা বেঁচে থাকতো, তাদের শরীরে গভীর ক্ষত থাকতো। বিংশ শতাব্দীতে বসন্তে মারা যায় ৩০ কোটি মানুষ।
 
হান্টাভাইরাস:
১৯৯৩ সালে এই ভাইরাসটি যুক্তরাষ্ট্রে সনাক্ত হয়। ভাইরাসটি এক প্রজাতির ইদুর থেকে মানুষে ছড়ায়। ১৯৫০ সালে এটি মহামারী রূপ নেয়। এ ভাইরাসের সংক্রমণে প্রচুর শ্বাসকষ্ট হয়।

ইনফ্লুয়েঞ্জা:
ভাইরাস সংক্রমণের কোন এক সময় এ ভাইরাসে আকান্ত হয়ে ৫ লাখ মানুষ মারা যায়। মৃত্যুহার সংক্রমণের চেয়ে বেশি ছিলো। স্প্যানিশ ফ্লু নামেও পরিচিত এ ভাইরাস সংক্রমণে ১৯১৮ সালে ৪০ শতাংশ মানুষ অসুস্থ হয়। মারা যায় ৫ কোটি মানুষ। মহামারী এ ভাইরাসটি মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না।

ডেঙ্গু: 
ফিলিপিন্স আর থাইল্যান্ডে ১৯৫০ সালে প্রথম এ ভাইরাস সনাক্ত হয়। বর্তমানে বিশ্বের ৪০ শতাংশ মানুষ এই ভাইরাস আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বাস করে। মশাবাহিত এ ভাইরাসে বছরে ৫ থেকে ১০ কোটি মানুষ অসুস্থ হয়। ডেঙ্গুতেও রক্তক্ষরণ হয়। ২০ শতাংশ মারা যায়, যদি চিকিৎসা না হয়। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় ৯ থেকে ১৬ বছর বয়সীরা। কিছু দেশে প্রতিষেধক আছে।

রোটাভাইরাস:
শিশুদের মধ্যেই এটি বেশি ছড়ায়। এ ভাইরাসের সংক্রমণ হলে ডায়রিয়া হয়। উন্নত দেশে ম্যৃত্যুহার বেশি না হলেও উন্নয়নশীল দেশে এ ভাইরাস মারণব্যাধি সৃষ্টি করে। ২০০৮ সালে রোটা ভাইরাসে বিশ্বে সাড়ে ৪ লাখ শিশু মারা যায়।

সার্স- কোভ ওয়ান:
প্রথম সার্স ভাইরাস সনাক্ত হয় চীনে, ২০০২ সালে। এটি বাদুর ও গন্ধগোকুল থেকে মানুষে ছড়ায়। চীনে মহামারী রূপ নিয়ে ২০০৩ ও ২০০৪ সালে এ ভাইরাস ২৬ দেশে ছড়িয়ে পড়ে। মারা যায় ৮ হাজার মানুষ। এ ভাইরাস জ্বর থেকে ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটিয়ে ফুসফুস অকেজো করে দেয়। এ রোগের কোন প্রতিষেধক নেই।

মার্স- কোভ:
মিডল ইস্ট রেসপারেটরি সিনড্রোম বা মার্স ২০১২ সালে সৌদি আরবে এবং ২০১৫ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় মহামারীভাবে ছড়ায়। বাদুর থেকে ছড়ানো এ ভাইরাস মানুষ এবং উটকে সংক্রমিত করতে পারে। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে জ্বর, কাশি আর শ্বাসকষ্ট হয়। নিউমোনিয়া হয়ে এতে মৃত্যু হয় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ মানুষের। 

সার্স-কোভ টু/কোভিড নাইনটিন:
সবশেষ মহামারী কোভিড-১৯ চীন থেকে ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বে। বাদুর থেকে ছড়ানো এ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত ৬ লাখের ওপরে মানুষের প্রাণ গেছে। আক্রান্ত ১ কোটি ৭৭ লাখের বেশি মানুষ। এ রোগের লক্ষ্মণও জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট, নিওমোনিয়া। সময়মতো চিকিৎসা না নিলেই হবে মৃত্যু। ভাইরাসটি মৃত্যু আতঙ্ক ছড়িয়ে এখনও তাণ্ডব চালাচ্ছে বিশ্বে। মার্স-কোভ, সার্স-কোভ ওয়ান ও সার্স-কোভ টু বা কোভিড-১৯ কোন প্রতিষেধক আবিস্কৃত হয়নি।
শীর্ষনিউজ/এসএসআই  



..........