বৃহস্পতিবার, ১৮-জুলাই ২০১৯, ০১:১৮ অপরাহ্ন
  • অন্যান্য
  • »
  • গবেষণার জন্য পেনশনের টাকা তুলতেই মৃত মাকে ফ্রিজে রাখতেন!

গবেষণার জন্য পেনশনের টাকা তুলতেই মৃত মাকে ফ্রিজে রাখতেন!

shershanews24.com

প্রকাশ : ২১ মে, ২০১৮ ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন

শীর্ষ নিউজ ডেস্ক: মায়ের মৃতদেহ ফ্রিজে রাখে তার নামে নিয়মিত পেনশনের টাকা গবেষণার খরচ যোগাতেন ছেলে।
অভিযুক্ত ছেলেকে আদালতের নির্দেশে মানসিক চিকিৎসা দেয়ার পর তিনি এ কথা স্বীকার করেছেন। তিনি মৃত মাকে ফ্রিজে রেখে তার অ্যাকাউন্ট থেকে নিয়মিত টাকা তুলতেন।
শুভব্রত মজুমদার নামের ওই অভিযুক্ত ব্যক্তি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী কলকাতার জেমস লং সরণির বাসিন্দা।
তিনি জানান, পেনশনের টাকায় গবেষণার খরচ চালাতে মৃত মায়ের মৃতদেহ ফ্রিজে রাখেন তিনি।
এ ঘটনা জানাজানির তদন্তকারীরা জানার চেষ্টা করেছিলেন, কেন এবং কীভাবে মায়ের পেনশনের টাকা তুলতেন শুভব্রত। তখন এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি।
এ অবস্থায় আদালতের নির্দেশে পাভলভ মানসিক হাসপাতালে পাঠানো জয় শুভব্রতকে। সেখানে চিকিৎসকদের কাছে সত্য তুলে ধরেন তিনি।
হাসপাতালের সুপার গণেশ প্রসাদ জানান, প্রথম দিকে কথা বলতেন না শুভব্রত। নিজেকে আলাদা রাখতেন সবার কাছ থেকে। কোনো প্রশ্ন করলে পাল্টা প্রশ্ন করে বিষয়টি এড়িয়ে যেতেন।
তবে কয়েকদিন পর থেকেই তিনি গল্প করার লোক খুঁজতেন। সেই সুযোগই কাজে লাগান চিকিৎসক এবং তার জন্য তৈরি মেডিকেল বোর্ডের সদস্যেরা।
মেডিকেল বোর্ডের এক সদস্য জানান, শুভব্রত বলেছেন ফ্রিজে মাকে রাখার ঘটনা জানাজানি হওয়ায় তার দীর্ঘদিনের গবেষণার অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেছে।
মূল বিষয়টি কেউ বোঝার চেষ্টা করল না বলেও তিনি আক্ষেপ করেছেন। বিদেশের একাধিক জায়গায় কীভাবে এবং কী পদ্ধতিতে গবেষণা চলছে, সেসব নিয়ে গল্প করেন তিনি।
হাসপাতাল সুপারের কথায়, আমরা বার বার জানতে চেয়েছিলাম যে, কেন তিনি আইন ভেঙে মায়ের পেনশনের টাকা তুলেছেন?
এ বিষয়ে প্রথম দিকে মুখ বন্ধ রাখলেও পরে শুভব্রত দাবি করেন, তিনি কোনও অসৎ উদ্দেশ্যে টাকা তোলেননি। গবেষণার প্রয়োজনীয় বই, সরঞ্জাম কেনার পাশাপাশি মায়ের মৃত্যুর ঘটনা গোপন রাখতেই তিনি পেনশনের টাকা তুলেছেন।
তবে কীভাবে তিনি ওই টাকা তুলেছেন, তা জানাননি শুভব্রত। সে বিষয়ে কেউ তাঁকে সাহায্য করেছেন কিনা, সে বিষয়েও তিনি চুপ রয়েছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, শুভব্রত বাথরুমে ঢুকলে দুই ঘণ্টার আগে বের হতেন না। দরজায় বারবার ধাক্কা দিয়ে তাকে বের করতে হতো।
হাসপাতালি সুপারের কথায়, উনি বাথরুমে ঢুকলেই আমাদের চিন্তা বেড়ে যেত। খুব সতর্কভাবে নজর রাখতাম।
শীর্ষ নিউজ/জে