বুধবার, ১৩-নভেম্বর ২০১৯, ০৯:৩১ পূর্বাহ্ন
  • অন্যান্য
  • »
  • চলন্ত ট্রেনে প্রসব বেদনা, যাত্রী সহায়তায় পৃথিবীর আলো দেখল নবজাতক

চলন্ত ট্রেনে প্রসব বেদনা, যাত্রী সহায়তায় পৃথিবীর আলো দেখল নবজাতক

shershanews24.com

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর, ২০১৯ ০৬:৩৮ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ ডেস্ক: চলন্ত ট্রেনের কামরায় ভিড় ছিল মোটামুটি। তার মধ্যেই দেখা যায়, এক নারী প্রসব যন্ত্রণায় ছটফট করতে শুরু করেন। তা দেখে অসহায় হয়ে পড়েন ওই নারীর মা। শেষাবধি ওই কামরায় থাকা নারী এবং পুরুষ, সব যাত্রী মিলেই প্রসবের ব্যবস্থা করেন। পরে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন ওই নারী।

গত বুধবার এমনই ঘটনা ঘটেছে ভারতের আজিমগঞ্জ-কাটোয়া লোকালে। মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা ২ ব্লকের বাছারা গ্রামের বাসিন্দা সাহিনা বিবি জানান, সকাল ৯টা নাগাদ অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে বানেরা বিবিকে নিয়ে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে যাওয়ার জন্য বাজারসউ স্টেশন থেকে ট্রেনে চড়েন। কিন্তু ট্রেনে ওঠার মিনিট ৩০ পরেই তীব্র হয় প্রসব যন্ত্রণা। 

তিনি আরো জানান, তখন এগিয়ে আসেন সবিতা চৌধুরী, কলিমা বিবি-সহ কামরায় থাকা অন্য নারীরা। পুরুষ যাত্রীরাও জায়গা ফাঁকা করে দেন। সঙ্গে থাকা শাড়ি, চাদর দিয়ে ঘিরে ফেলা হয় ওই নারীর চারপাশ। খানিক বাদে সেখানেই শোনা যায়, সদ্যোজাত শিশুকন্যার কান্নার আওয়াজ। 

সকাল ১০টা নাগাদ কাটোয়া স্টেশনে ট্রেনটি ঢুকলে পুরুষ যাত্রীরা জিআরপি-কে ঘটনার কথা জানান। সঙ্গে সঙ্গে নারী রেল পুলিশ বানেরাকে ট্রেন থেকে নামিয়ে ভ্যানে করে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করায়। হাসপাতালের চিকিৎসক আরএন মণ্ডল জানান, মা ও মেয়ে, দু’জনেই সুস্থ আছেন।

ঘটনার পরে সবিতারা বলেন, বুঝতে পেরেছিলাম, সময় নেই। তাই আমরাই প্রসব করিয়েছি।

যাত্রী ও জিআরপি-কে অভিনন্দন জানিয়েছেন চিকিৎসকরাও। তারা জানান, দেরি হলে বিপত্তির আশঙ্কা ছিল। সকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন রামনগর-কাদখালি গ্রামের ২২ বছর বয়সী বানেরা ও তার মা সাহিনা।

কিন্তু এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছে, ওই গ্রাম থেকে নিকটবর্তী কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কেন নিয়ে যাওয়া হলো না ওই নারীকে। সাহিনা জানান, তাদের বাড়ির কাছেই রয়েছে শক্তিপুর ব্লক হাসপাতাল। সেখানে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা সেভাবে নেই। তাই কাটোয়ায় আসা। তবে সাধারণ ভাবেই প্রসব করেছেন ওই নারী।
শীর্ষনিউজ/এসএসআই