shershanews24.com
ঘুষ নেয়ার অভিযোগ বানোয়াট, কেউ পারলে প্রমাণ করুক: বাছির
মঙ্গলবার, ১১ জুন ২০১৯ ০৫:১০ অপরাহ্ন
shershanews24.com

shershanews24.com

শীর্ষকাগজ, ঢাকা : ঘুষ লেনদেনের কথোপকথনে ব্যবহৃত কণ্ঠ নিজের নয় বলে দাবি করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির। তিনি বলেছেন, ‘এটি সম্পূর্ণ বানোয়াট।’ আজ মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এনামুল বাসির এ দাবি করেন।

এ সময় নারী নির্যাতনের অভিযোগে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার হওয়া পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে এনামুল বাসির বলেন, ‘এটিও বানোয়াট অভিযোগ। কেউ পারলে প্রমাণ করে দেখাক।’

এর আগে সকালে একটি গণমাধ্যমের কাছে এনামুল বাছির দাবি করেন, ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে ৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে দুপুরে তাঁকে (এনামুল বাছির) আবারও প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি তদন্তাধীন। এখনই কোনো মন্তব্য করতে পারব না।’

গতকাল সোমবার ডিআইজি মিজানুর রহমানের কাছে তদন্তের তথ্য ফাঁস করার অভিযোগে খন্দকার এনামুল বাছিরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে দুদক বিব্রত নয় বলে জানান সংস্থাটির চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। দুদক চেয়ারম্যান বলেন, এনামুল বাসিরের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, সেটি অসদাচরণ। এতে দুদক বিব্রত নয়। ব্যক্তির দায় প্রতিষ্ঠানের নয়। দুদকের ৮৭৪ জন কর্মীর সততার নিশ্চয়তা কমিশন দিতে পারে না। এনামুল বাসিরের সঙ্গে ডিআইজি মিজানুর রহমানের কথোপকথন নিশ্চিত হতে অডিও রেকর্ড ফরেনসিক পরীক্ষা করতে হবে। তা ছাড়া মিজানুর ঘুষ দিয়েছেন, তা প্রমাণিত হলে দুদক মামলা করবে বলে জানান তিনি।

এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে কমিশনের সচিব মো. দিলওয়ার বখতকে। অন্য সদস্যরা হলেন মহাপরিচালক (লিগ্যাল) মো. মফিজুর রহমান ভূঞা ও মহাপরিচালক (প্রশাসন) সাঈদ মাহবুব খান।

ডিআইজি মিজানুর রহমানের অবৈধ সম্পদের তদন্ত শুরু করেছিল দুদক। কিন্তু এই তদন্ত করতে গিয়ে দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন মিজানুর রহমান। মাস ছয়েক ধরে দুজনের মধ্যে এ নিয়ে অনেক কথাবার্তা হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রথমে ২৫ লাখ ও পরে ১৫ লাখ টাকা দিয়েছেন মিজানুর। কিন্তু ২ জুন খন্দকার এনামুল বাসির মিজানুরকে জানান, তিনি প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। তবে দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনারের চাপে তাঁকে অব্যাহতি দিতে পারেননি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মিজানুর টাকাপয়সা লেনদেনের সব কথা ফাঁস করে দেন। প্রমাণ হিসেবে হাজির করেন এনামুল বাসিরের সঙ্গে কথোপকথনের একাধিক অডিও রেকর্ড। এনামুল বাসির অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। 
শীর্ষকাগজ/এসএসআই