বুধবার, ২৩-সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:৩২ অপরাহ্ন
  • অপরাধ
  • »
  •  রাজধানীতে বাসায় ঢুকে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় নতুন মোড়

 রাজধানীতে বাসায় ঢুকে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় নতুন মোড়

shershanews24.com

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০৪:০৬ অপরাহ্ন

শীর্ষ নিউজ, ঢাকা: দেবর-ভাবি পরকীয়ার কারণে স্ত্রীকে মনির নামের সন্ত্রাসীকে দিয়ে খুন করিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল। স্বামী সোহেল ও তার ভাবি খুনিকে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগ করেছেন, নিহত গৃহবধূ জান্নাতুল ফেরদৌসের বাবা মো. রস্তম আলী।  তিন ভাই-বোনের মধ্যে জান্নাতুল ছিলেন সবার ছোট। জান্নাতুল রাজধানীর উত্তরায় একটি প্রাইভেট ডেন্টাল মেডিক্যাল কলেজ থেকে ডেন্টাল প্যারামেডিক্যাল পাস করেছেন। জারিফ নামে দেড় বছরের একটি ছেলে আছে তার।

মঙ্গলবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে নিহত জান্নাতুলের বাবা রুস্তম আলী অভিযোগ করে বলেন, আটক মনিরকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে আমার মেয়েকে হত্যার জন্য ভাড়া করেন তার স্বামী মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মনির বাসায় ঢুকে তার মেয়েকে গলা কেটে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে। এত দিন ধরে মনির ওই নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করে আসছে। এর মধ্যে চুরি করল না। আর গত সোমবার রাতে ওই লোক ওই বাসায় গেছে চুরি করতে এটা আমার বিশ্বাস হয় না।

তিনি বলেন, সোহেল ও তার ভাবির পরিকল্পনায় মনিরকে ভাড়া করে আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, সোহেলের ও তার ভাবি তারিকা খানমের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক ছিল। সেই অবৈধ সম্পর্ককে বাধা দিতে গিয়ে আজ আমার মেয়ের এই পরিণতি।

তিনি বলেন, সাত বছর আগে প্রেমের সম্পর্কে সোহেলকে তার মেয়ে বিয়ে করেন। সোহেল একটি ট্যুরিজম কোম্পানির মাধ্যমে একটি হোটেলের ম্যানেজার হিসেবে চাকরি করতেন। তারা সবুজবাগের দক্ষিণগাঁওস্থ ৬৬ নম্বর বাসার চার তলায় গত আড়াই বছর আগে নিজ ফ্ল্যাটে উঠেন । বিয়ে করার পর থেকে তারা স্বামী-স্ত্রী আলাদাই থাকতেন। পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়াও হতো।

নিহত গৃহবধূর বাবা আরো বলেন, এর আগে ওই এলাকায় অন্য একটি বাসায় তারা ভাড়া থাকতেন। সেখানে তাদের পাশের একটি ফ্ল্যাটে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন সোহেলের ভাবি তারিকা খানম। জান্নাতুলকে তেমন পছন্দ করতেন না তারিকা। ভাবির কথা শুনে মাঝেমধ্যেই জান্নাতুলের সঙ্গে ঝগড়া ও মারধর করতেন সোহেল। তবে কী কারণে তাদের মধ্যে ঝগড়া হতো বা তাকে মারধর করতো জান্নাতুল তা বলতো না। গত সোমবার রাত ৯টার দিকে স্থানীয় লোকজনদের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমরা ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে মেয়ের রক্তাক্ত লাশ দেখতে পাই। পরে চার তলা ছাদ থেকে মনিরকে আটক করে পুলিশ। তাৎক্ষণিকভাবে মনির আমাদের কাছে স্বীকার করেছেন, সোহেল ও তার ভাবি তারিকা তাকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ভাড়া করেছেন জান্নাতুলকে খুন করতে।

তিনি আরো বলেন, এছাড়া ঘটনার পর জান্নাতুলের গলায় সোনার চেইন ছিল, ঘরে টাকা-পয়সা ছিল। খুনি কিছুই নেননি। সব কিছুই ঠিক আছে। যদি সে চুরি করতে আসত, লুটপাট করে নিয়ে যেতো। মেয়ের
এ হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচারের দাবি জানান রুস্তম আলী।

সবুজবাগ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, মনিরকে আটকের পর থেকে তাকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে জানায়, চুরি করতে তিনি ওই ফ্ল্যাটে ঢোকেন। চারতলার পকেট গেট দিয়ে ওই গৃহবধূর বাসায় প্রবেশ করেন তিনি। এ সময় গৃহবধূ জান্নাতুল তাকে চিনে ফেলায় মনির তার পিঠে ছুরি দিয়ে সাতটি আঘাত করেন। পরে গৃহবধূর বাসায় থাকা চাপাতি দিয়ে জান্নাতুলের গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। গত কয়েক দিন আগে মনির ৮০ টাকা দিয়ে একটি ছুরি কিনেছিলেন। মনির ওই ভবনে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে গত ছয় মাস যাবত কাজ করে আসছিলেন।

তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে গৃহবধূর স্বামী ও তার ভাবী জড়িত কি না এমন অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শীর্ষ নিউজ/এন