সোমবার, ১৮-জানুয়ারী ২০২১, ০৭:২৮ পূর্বাহ্ন
  • অপরাধ
  • »
  • লিখিত না দিয়েও মৌখিকে ডাক পড়ল চাকরিপ্রত্যাশীর

লিখিত না দিয়েও মৌখিকে ডাক পড়ল চাকরিপ্রত্যাশীর

shershanews24.com

প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর, ২০২০ ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন

শীর্ষ নিউজ ডেস্ক  : চাকরির লিখিত পরীক্ষায় অংশ না নিয়ে মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষায় ডাক পেয়েছেন এক চাকরিপ্রত্যাশী। গত শনিবার (২৮ নভেম্বর) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (অস্থায়ী রাজস্ব) পদের নিয়োগে এমন ঘটনা ঘটে। একটি ইংরেজি দৈনিকের বাংলা ভার্সনের প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানা গেছে।

গত শনিবার (২৮ নভেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত ৪২টি পদের বিপরীতে ৬০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজে। পরীক্ষা শেষে শনিবার দিবাগত ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে নিয়োগে দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ এনেছেন পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগ থেকে স্নাতক করা শিক্ষার্থীরা এ পরীক্ষায় অংশ নেন। 

তারা জানান, মোট পরীক্ষার্থী ছিল দুই হাজার ৮২০ জন। কিন্তু পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন এক হাজার ২১৪ জন। অর্ধেকেরও বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নেননি। কারণ এখানে অতীতেও নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে। এবারও তাই হয়েছে। এর প্রমাণ-লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১২৭ জনের তালিকায় ‘২১৯০’ নম্বরের একটি রোল আসে। কিন্তু তিনি পরীক্ষাতেই অংশ নেননি।

‘২১৯০’ রোল নম্বরধারী শামসুন্নাহারের বাড়ি বগুড়া। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৩-১৪ সেশনের মৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের ছাত্রী।

এ বিষয়ে শামসুন্নাহার বলেন, ‘আমি পরীক্ষা দিতে যাইনি। বগুড়ায় ছিলাম। আমার বন্ধু-বান্ধবরা জানাল যে আমি চান্স পেয়েছি। এরপর আমাকে একটা নম্বর থেকে বার বার ফোন করে বলা হয়, আমি যেহেতু লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেইনি, আমি যেন ভাইভা দিতে না যাই। গেলে আমার বিরুদ্ধে মামলা হবে। আমি তখন জানতে চাই, পরীক্ষা দিতে না যাওয়ার পরও আমার রোল এলো কেন? আমাকে বার বার ফোন দেওয়া হচ্ছে। আমি ও আমার পরিবার এখন আতঙ্কিত।’

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ: পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কয়েকজনের অভিযোগ, তারা ভালো পরীক্ষা দিয়েও উত্তীর্ণ হতে পারেননি। কারণ বিএফআরআই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সবসময় দুর্নীতি হয়। এবারও তাই হয়েছে। ভুল করে ‘২১৯০’ নম্বর রোলটি না আসলে এবারও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ হতো না।

পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, খাতায় কারও নাম থাকে না বলে যারা কোডিংয়ের সঙ্গে জড়িত, তারাই পছন্দের প্রার্থীকে শনাক্ত করে বেশি নম্বর দেখিয়ে তাদের পাস করিয়ে দেন। আর যোগ্যরা বাদ পড়েন। মূলত আর্থিক লেনদেন ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমেই এখানে নিয়োগ হয়।

বিএফআরআইর বক্তব্য: শিক্ষার্থীদের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাংলাদেশ মৎস্য ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ। বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি আসলে ভুল করে হয়েছে। ওই পরীক্ষার্থী মৌখিক পরীক্ষা দিতে এলে আমরা ধরে ফেলতাম।’

দুপুরে পরীক্ষা শেষে রাতেই কী করে ফল দিলেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের মন্ত্রণালয়ের নয় জন ও ইনস্টিটিউটের ৬০ জন কর্মকর্তা রাতেই খাতা দেখেছেন। আমাদের নিয়োগ নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। কোনো ভুল হলে, সেটি আমরা সংশোধন করব।

শীর্ষনিউজ/এম