মঙ্গলবার, ১২-নভেম্বর ২০১৯, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন
  • অপরাধ
  • »
  • আত্মগোপনে থাকলেও থেমে নেই ওয়াকিল ও কাউন্সিলর বাবুলের অপতৎপরতা! 

আত্মগোপনে থাকলেও থেমে নেই ওয়াকিল ও কাউন্সিলর বাবুলের অপতৎপরতা! 

shershanews24.com

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০৭:২৪ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ, ঢাকা : চলমান শুদ্ধি অভিযানেও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাকির হোসেন বাবুলের অপতৎপরতা থেমে নেই।  ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি জাকির হোসেন বাবুল ১৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হলেও গুলশান, বাড়িধারা, শাহাদাতপুর, নতুন বাজার, নর্দ্দা ও কালাচাঁদপুর ও এর আশপাশের এলাকার নিয়ন্ত্রণ তার হাতে। এসব এলাকার জুয়া, জমিদখল, চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজি, কড়াইল বস্তিতে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ প্রদানসহ বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকা- এখনও চলে বাবুলের আদেশেই। তার প্রধান সহযোগী ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও গ্রেফতার হওয়া যুবলীগের বহিস্কৃত নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী স¤্রাটের পিএস রবিউল ইসলাম সোহেল দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও বীরদর্পে সব অপকর্ম চলছে জাকির হোসেন বাবুলের। মূলত চাচা ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ওয়াকিল উদ্দিন বাউলের নেপথ্যের সহযোগিতায় দেশব্যাপী চলমান শুদ্ধি অভিযানের পরেও বাবুলের বেআইনি কর্মকা- থেমে নেই।

জানা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাকির হোসেন বাবুলের রয়েছে রাজনৈতিক শক্তি, ক্ষমতার প্রভাব, পেশী শক্তি, নিজস্ব ক্যাডার বাহিনি ও চাচা ওয়াকিল উদ্দিনের নেপথ্যের সহযোগিতা। এসব শক্তি একসঙ্গে ব্যবহার করে রাতারাতি হয়েছেন কোটিপতি। তার বিরুদ্ধে রয়েছে জুয়া, জমিদখল, চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজি, কড়াইল বস্তিতে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ প্রদানসহ বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকা-ের অভিযোগ। গুলশান, বাড়িধারা, শাহাদাতপুর, নতুন বাজার, নর্দ্দা ও কালাচাঁদপুর আশপাশের এলাকায় এখন সে ‘অঘোষিত মহারাজা। তার আদেশই ওই এলাকার আইন। ফুটপাতের দোকান থেকে শুরু করে বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সহ সবখানেই চলে তার চাঁদাবাজি। চলাফেরা করেন সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী নিয়ে। যাদের অনেকের নামেই খুন, ধর্ষণ, চাদাঁবাজী ও মাদক ব্যবসা সহ নানা অপকর্মের একাধিক মামলা রয়েছে। আওয়ামী যুবলীগের সাবেক এক নেতার ছত্রছায়ায় বাবুল কালাচাঁদপুর বাড়িধারা, গুলশান এলাকার একক নিয়ন্ত্রণ নেয়। গড়ে তুলেন সম্পদের বিশাল পাহাড়। যা নিয়ে দুদকের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।

জানা গেছে, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে কোন বাড়ি কেনা বেচা করতে হলে মোট টাকার ওপর ২০ শতাংশ কমিশন দিতে হয় কাউন্সিলর বাবুল বাহিনীকে। এছাড়া বাবুলের সবুজ সঙ্কেত ছাড়া বারিধারায় কারো পক্ষে গাড়ির ব্যবসা করা অসম্ভব। কড়াইল বস্তিবাসীর পরিশোধিত গ্যাস বিল সরকারের কোষাগারে জমা পড়ে না। মোটা অঙ্কের এই গ্যাস বিলের টাকা মিলেমিশে আত্মসাত করেন কাউন্সিল ও অন্যান্য নেতারা। নর্দ্দা, নতুন বাজার বাসস্ট্যান্ডসহ সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে বাবুলের বাহিনীর আয় মাসে অর্ধ কোটি টাকারও বেশি। কাউন্সিলর কার্যালয়ে পাশে উত্তর বারিধারা ক্লাবের জুয়া নিয়ন্ত্রণ করে বাবুল নিজেই। জুয়ার পাশাপাশি সেখানে চলে মাদক ব্যবসাও। 

স্থানীয় একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা জানান, কালাচাঁদপুর বালুর মাঠকেন্দ্রিক বাবুল তার বাহিনী পরিচালনা করে। মাঠ সংলগ্ন একটি ভবনে তার বাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত আড্ডা দেয়। 

দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর শুদ্ধি অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে স্থানীয় এলাকাবাসী ও আওয়ামী লীগ নেতারা বাবুলের অপকর্মের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছে। তাদের বক্তব্যে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বাবুল সমানে থেকে এসব কিছুর নিয়ন্ত্রক হলেও তাকে চালাচ্ছেন তার চাচা সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ওয়াকিল উদ্দিন বাউল। 

মূলত গোটা এলাকার সন্ত্রাসী কর্মকা- নিয়ন্ত্রণে ওয়াকিল বাবুল ছাড়াও উত্তরের সাবেক ছাত্রলীগ সভপতি দক্ষিণ যুবলীগের বহিস্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী স¤্রাটের পিএস সোহেলকে ব্যাবহার করছেন। শুদ্ধি অভিযান শুরু হওয়ার পরে সোহেল বিদেশে পালিয়ে গেছেন, কিন্তু বাবুল বাহিনীর তৎপরতা চলছে।
শুদ্ধি অভিযানে রাঘব বোয়ালরা যেখানে কোণঠাসা সেখানে কিভাবে বাবুল সবাইকে ম্যানেজ করছেন এ প্রশ্ন এখন সর্বত্র। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বাবুলের চাচা ম্যানেজ মাস্টার হিসিবে খ্যাত ওয়াকিলের পক্ষ সবাইকে বসে আনা সম্ভব। জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, তত্ত্ববধায়ক সরকারসহ সবাইকে ম্যানেজ করে সবসময়ই সুবিধা আদায়ের ইতিহাস রয়েছে ওয়াকিলের। প্রকাশ্যে অনেক আড্ডাতেও গর্বের সঙ্গে ম্যানেজের ইতিহাস বর্ণনা করেন ওয়াকিল নিজেই। এখন আর রাজনীতিবিদদের নয় প্রশাসনিক লোকদের ম্যানেজ করে সুবিধা আদায়ের কৌশল নিয়েছেন বলেও বিভিন্ন জায়গায় নিজেই বলে বেড়ান ওয়াকিল। চলমান শুদ্ধি অভিযান শুরুর পর আত্মগোপনে চলে যান ওয়াকিল ও বাবুল।

জানা গেছে, জাতীয় পার্টির সক্রিয় নেতা ছিলেন ওয়াকিল। ১৯৮২ সালে  হন ওয়ার্ড কমিশনার। সে সময়ে তৎকালিন সাতারকুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী আজগরকে রাজনীতি থেকে সরাতে তার মিছিলে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে। ওই হামলায় রায়হান নামে এক কর্মীকে হত্যা, আরেক চেয়ারম্যন আনোয়ার হোসেনর বীর প্রতীক ও তার পরিবারের সদস্যেদের রাজনৈতিক মামলা দিয়ে দেশত্যাগে বাধ্য করা এবং  রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অপর চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন বীরপ্রতিককেও রাজনীতি ছাড়া করেছেন বলে অভিযোগ ওয়াকিলের বিরুদ্ধে। ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের সঙ্গে সঙ্গে আওয়ামীল লীগের রাজনীতিতে যোগ দেন ওয়াকিল। ১৯৯৬ সালের আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরে তৎকালিন পূর্তমন্ত্রী নাসিমকে ম্যানেজ করে নিকুঞ্জে অসংখ্য প্লট বাগিয়ে নিয়ে অঢেল টাকার মালিক হন। পাশাপাশি হাউজিং ব্যবসার নামে মানুষের জমি দখলকরে দিয়ে প্রচুর অর্থ সম্পদরে মালিক হন তিনি। এরপর আর ফেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। অভিযোগের বিষয়ে একাধিকবার ওয়াকিল ও বাবুলের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি। এছাড়া তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে।
শীর্ষনিউজ/এসএসআই