সোমবার, ২১-সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:১৩ অপরাহ্ন
  • জাতীয়
  • »
  • ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজিতে বাংলাদেশকে অংশীদার করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজিতে বাংলাদেশকে অংশীদার করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

shershanews24.com

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১২:০২ অপরাহ্ন

শীর্ষ নিউজ ডেস্ক: মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের উপ-সহকারী মন্ত্রী লরা স্টোন বলেছেন, ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজিতে বাংলাদেশকে অংশীদার করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের সামনে রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মাঝে দেশটির অবস্থান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির বাংলাদেশ একটি সাকসেস স্টোরি। ফলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এটি একটি ইতিবাচক কৌশল।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর থেকে লরা স্টোন ঢাকার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল ব্রিফিংকালে এ অভিমত ব্যক্ত করেন। এ সময় ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের উপ-প্রধান জোঅ্যানি ওয়াগনার দূতাবাস থেকে যুক্ত হয়ে অভিমত ব্যক্ত করেন। ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির বিষয়ে সম্প্রতি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ড. মার্ক টি. এসপার টেলিফোনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেছেন। ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজিতে যোগদানে বাংলাদেশ সম্মত হয়েছে। তবে বাংলাদেশ এটাও চায় যে, এটি যেন সামরিক চেহারায় আবির্ভূত না হয়।

ব্রিফিংকালে জানানো হয়, অক্টোবরে ইন্দো-প্যাসিফিক বিজনেস ফোরাম ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বাংলাদেশ অংশ নিয়ে বিনিয়োগের ব্যাপারে কথা বলতে পারবে। রোহিঙ্গা সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে লরা স্টোন বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র সজাগ আছে। এ সংকটের স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান প্রয়োজন। রোহিঙ্গাদের নিরাপদে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে সবার সঙ্গে আমরা যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছি।

লরা স্টোন আরও বলেন, কোভিড-১৯ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশের সঙ্গে একত্রে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে সহযোগিতা রয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে মেরিটাইম নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সন্ত্রাস দমন প্রভৃতি ক্ষেত্রে কাজ করছে বাংলাদেশ। ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির অধীনও এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে। সুশাসন উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, গণতন্ত্র, মৌলিক স্বাধীনতা, মানবাধিকার এসব ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে।

লরা স্টোন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমাজে বাংলাদেশিরা অবদান রাখছেন। আমরা শান্তি ও সমৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেব। সামরিক ক্ষেত্রে সহযোগিতায়ও স্বচ্ছতা আনা হবে। অবাধ ও সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ কৌশল নেয়া হয়েছে। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের উপ-প্রধান জোঅ্যানি ওয়াগনার বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে উন্নয়নের জন্য ২০৩০ সাল পর্যন্ত দুই দশমিক ছয় ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন। কোনো একক সরকারের পক্ষে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ জোগান দেয়া সম্ভব নয়। এ জন্য বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। ১৯৭১ সাল থেকে এ পর্যন্ত সাত বিলিয়ন ডলার উন্নয়ন সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগকে আমরা অনেক বেশি গুরুত্ব দিই।
শীর্ষ নিউজ/এন