বুধবার, ২১-নভেম্বর ২০১৮, ০৮:২০ পূর্বাহ্ন
  • জাতীয়
  • »
  • ‘এত বড় আন্দোলনেও সচেতনতা নেই’

‘এত বড় আন্দোলনেও সচেতনতা নেই’

Shershanews24.com

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০৯:৩৯ অপরাহ্ন

শীর্ষ নিউজ, ঢাকা: নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পরও রাস্তায় চলাফেরায় সাধারণ নাগরিকরা সচেতন না হওয়ায় আক্ষেপ ঝরেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কণ্ঠে।

জাতীয় সংসদের বুধবারের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে শেখ হাসিনা বলেন, “এত বড় একটা দুর্ঘটনা ঘটল, এরকম একটা আন্দোলন হল, তারপরও আমরা দেখি মানুষের মধ্যে সে সচেতনতা নাই। যত্রতত্র রাস্তা পার হচ্ছে।”

সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ নূর ই হাসনা চৌধুরীর সম্পূরক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী নাগরিকদের অসচেতনতার কিছু উদাহরণ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন,
 “এমনকি পত্রিকায় ছবি ওঠেছিল- এক বাবা বাচ্চাকে বুকে নিয়ে .. ফেন্সের মাথাগুলো সরু করে উঁচু করে দেওয়া, সে মাথাগুলো ডিঙিয়ে এমনভাবে পার হচ্ছে, কোনোভাবে যদি পা স্লিপ করে তাহলে ওই বাচ্চা ওই ফেন্সের সরু মাথায় একেবারে গেঁথে যাবে, সেখানেই মৃত্যু হবে। বাবার কি এই সচেতনতা থাকা উচিত ছিল না? সচেতনতার যথেষ্ট অভাব আমাদের। এত বড় একটা ঘটনার পরও দেখবেন, বাচ্চার হাত ধরে দ্রুত রাস্তা পার হচ্ছে।”
রাস্তা পারাপারে সবাইকে ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপের সুরে বলেন, “একটা অদ্ভুত মানসিকতা এদেশের মানুষের আছে যে তারা রাস্তা পারাপারের সময়, মানে একটা দ্রুত যান আসছে হাত দেখানোর সাথে সাথে গাড়িটা থেমে যেতে পারে না। এটা যারা গাড়ি চালায় তারা বলতে পারবে .. পট করে গাড়ি থামতে পারে না। আমরা কী দেখি, ছোট্ট শিশুর হাত ধরে মা রাস্তায় চলে যাচ্ছে অথবা বাবা বাচ্চাদের নিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। এমনভাবে একটা...যেখানে অনবরত গাড়ি আসছে।”

তরুণদেরও ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতার প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, “...তাদেরও দেখেছি কাছেই ওভারপাস আছে.. যেতে পারে.. সেখানে না গিয়ে ফট করে দৌঁড় মেরে পার হতে চায়। তার ফলে অ্যাকসিডেন্ট হয়। অ্যাকসিডেন্ট হলে এটাও বিবেচ্য বিষয় যারা রাস্তা পারাপার করছে তাদের দোষ কতটুকু দেওয়া যায়, সেটাও দেখা দরকার। আরেকটা বিষয় হয়- সেটা হল কোনো একটা অ্যাকসিডেন্ট হল বা গাড়িতে ধাক্কা লাগল, ড্রাইভার তখন জীবন বাঁচাতে এর ওপর দিয়ে দ্রুত চলে যেতে চেষ্টা করে। ফলে যার বাঁচার সম্ভাবনা ছিল, বাঁচে না।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কেন যাওয়ার চেষ্টা করে? তার কারণ হল আমাদের মানুষের অবস্থাটা এরকম, যে ধাক্কা খেল তাকে বাঁচানোর থেকেও বেশি আগ্রহ হয়ে যায় ড্রাইভারকে টেনে নামিয়ে মারধর করা এবং মারতে মারতে এমনও ঘটনা ঘটে মেরেই ফেলে। আইন কারো হাতে তুলে নেওয়া উচিত না। মারধর যদি বন্ধ হয় তাহলে অনেক অ্যাকসিডেন্ট কমে যায়; এটা হল বাস্তবতা।”
রাস্তা পারাপারে ট্রাফিক আইন মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যারা রাস্তা পার হবেন, ইতিমধ্যে জেব্রা ক্রসিং করা, আন্ডার পাস করার যেখানে জায়গা আছে করে দেওয়া, নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা, সব করে যাচ্ছি। তারপরও বলব আমাদের দেশের মানুষের একটু সচেতন হওয়া উচিত। এই যে হঠাৎ দৌড় দিয়ে রাস্তা পার হতে যাওয়া, ছোট শিশুকে নিয়ে পার হতে যাওয়া বা দুটি বাস দাঁড়িয়ে আছে, যে কোনো সময় বাস ছাড়তে পারে, দেখা গেল ফাঁক দিয়ে বেরুতে গিয়ে, বাস ড্রাইভারের পক্ষে তো দেখা সম্ভব না। যখন গাড়ি চলে গেল সাথে সাথে অ্যাকসিডেন্ট হয়ে গেল। অথবা গাড়িতে বসার সময় জানালায় হাত ঝুলিয়ে রাখা, বা মাথা বের করে রাখা। আরেকটা গাড়ি ধাক্কা মারতেই পারে। যেকোনো সমস্যা হতে পারে, তখন ড্রাইভারকে দোষ দেবেন কী করে?”

গণপরিবহন ব্যবহারেও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

“গাড়িতে থেকে নামতেও তাদের একটু সচেতন হওয়া প্রয়োজন আছে। তাদেরও ট্রাফিক রুলটা মেনে চলা উচিত। ড্রাইভারের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। কিন্তু এদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যাবে সেটা বলেন? এভাবে যদি যেখানে সেখানে রাস্তা পার হয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। তাহলেই এটা থামবে। নাহলে থামবে না।”
শীর্ষ নিউজ/এন