বৃহস্পতিবার, ১৭-অক্টোবর ২০১৯, ১২:০৪ অপরাহ্ন
  • জাতীয়
  • »
  • মিয়ানমারকেই ‘অনেক কিছু’ করতে হবে: বান কি-মুন 

মিয়ানমারকেই ‘অনেক কিছু’ করতে হবে: বান কি-মুন 

shershanews24.com

প্রকাশ : ১১ জুলাই, ২০১৯ ০৮:৫৬ পূর্বাহ্ন

শীর্ষকাগজ, কক্সবাজার: রোহিঙ্গা সঙ্কটের অবসান ঘটিয়ে শরণার্থীদের নিজ আবাসে বসবাস নিশ্চিতে মিয়ানমার সরকারের আরও দায়িত্ব পালনের কথা বললেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি-মুন।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির অবস্থা বুধবার সরেজমিনে দেখে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের জনগোষ্ঠির আকার বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় পরিবেশের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা দেখতে কক্সবাজারে যান গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশনের চেয়ারম্যান বান কি-মুন।
তিনি বলেন, “মিয়ানমার সরকারের অনেক বেশি কিছু করার আছে, যার ফলে রোহিঙ্গারা ভয়হীনভাবে তাদের মাতৃভূমিতে ফিরতে পারে।”
নির্যাতনের মুখে রাখাইন থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে ফেরত নেওয়ার আশ্বাস মিয়ানমার দিলেও তাতে কোনো অগ্রগতি নেই।
রাখাইনে নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাসের নিশ্চয়তা চায় রোহিঙ্গারা। কিন্তু মিয়ানমার সেই পরিবেশ তৈরিতে গা করছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এজন্য মিয়ানমারকে চাপ দিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
বুধবার ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে কক্সবাজারের উখিয়ায় পৌঁছান বান কি-মুন। তার সঙ্গে ছিলেন মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের প্রেসিডেন্ট হিলডা সি হেইন, বিশ্ব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ক্রিস্টালিনা জর্জিওভা, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।
আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের অধিকাংশই থাকেন কুতুপালং ক্যাম্পে। মুন ও তার সফরসঙ্গীরা বৃষ্টির মধ্যে কুতুপালংয়ের ২০ নম্বর ক্যাম্পের অস্থায়ী হেলিপ্যাডে নামেন। সেখান থেকে গাড়িতে করে প্রায় ২০ মিনিটের পথ পাড়ি দিয়ে যান ১৭ নম্বর ক্যাম্পের সমন্বয় অফিসে।
এই পথের দুই পাশেই বান কি মুনদের স্বাগত জানাতে অপেক্ষা করছিল গাছপালা কেটে পাহাড়ের গায়ে তৈরি করা অসহায় রোহিঙ্গাদের ঝুপড়ির পর ঝুপড়ি, ছিন্ন পোশাকের নারী-পুরুষ, পোশাকহীন অগুনতি শিশু।
১৭ নম্বর ক্যাম্পে পৌঁছতে রোহিঙ্গাদের যে অবস্থা দেখলেন, তাকে বান কি-মুন বর্ণনা করলেন ‘হৃদয় বিদারক’ এবং ‘বেদনাদায়ক’ চিত্র হিসেবে।
এক প্রশ্নের জবাবে বান কি-মুন বলেন, “প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে। যারা বাস্তুচ্যুত হয়ে আশ্রয় নিয়েছে এটা বিরাট ক্ষোভ ও উদ্বেগের বিষয়, যা আজ আমি নিজে দেখলাম। সুতরাং আমি আশা করি, এই সমস্যাটার একটি প্রীতিকর সমাধান হবে। আমি আশা করি, তারা তাদের মাতৃভূমিতে নিরাপদে ও সুষ্ঠুভাবে ফিরতে পারবে।”
রোহিঙ্গাদের অবস্থা যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার শরণার্থীদের চেয়েও যে খারাপ ঠেকেছে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিবের কাছে।
“আমি যখন জাতিসংঘে কাজ করেছি, তখন আমি লক্ষ লক্ষ শরণার্থীদের সাহায্য করেছি। এরমধ্যে সিরিয়ার শরণার্থীরাও ছিল। কিন্তু আজকে যা দেখলাম এখানে, এটা সত্যিই হৃদয়বিদারক।”
শীর্ষকাগজ/জে